বাতায়ন/আতঙ্ক/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৩য় সংখ্যা/২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ছোটগল্প
সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায়
অচেনা
পথ
আতঙ্ক | ছোটগল্প
সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায়
"পুলিশ তো ওর ফোনটা থেকে অনেক কিছু পেয়েছে শুনলাম। একটা মেয়ে নাকি তাকে ব্ল্যাকমেল করত। কীসব উলঙ্গ শরীর নাকি দেখাত। আরও কীসব হয়েছে হোটেলে।"
-সেই যে কলেজের জন্য বের হল—!
আর কোনো কথা বলতে পারছিল না। কান্নায় ভেঙে পড়ল।
-তুমি কি কিছু জানো বাবা। তোমরা তো একই কলেজের।
অনির্বাণ কিছুই জানে না। কলেজ সে খুব একটা যায় না। সায়েন্স ছাড়া অন্য কোনো বিভাগের ক্লাস খুব একটা হয় না। তাছাড়া হাতে আছে মোবাইল। আছে গুগল-কাকু। কী দরকার বই পড়ার। কলেজে ভিড় করার। সুদীপের দাদা বলেছিল,
-কী হয়েছে?
চমকে ওঠে অনির্বাণ।
-কখন?
-কিন্তু কেন এমন করল!
অনির্বাণ অস্থির হয়ে ওঠে।
-আরে পুলিশ তো ওর ফোনটা থেকে অনেক কিছু পেয়েছে শুনলাম। একটা মেয়ে নাকি তাকে ব্ল্যাকমেল করত। কীসব উলঙ্গ শরীর নাকি দেখাত। আরও কীসব হয়েছে হোটেলে। বুঝতে পারছি না। ছাড় তো, একটা সিগারেট দে অনি।
সারারাত ঘুমোতে পারেনি অনির্বাণ। হাজারটা চিন্তা তার মাথায় ঘোরাফেরা করছে। সুদীপের মৃত্যুটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। আজকাল আমরা আমাদের ফোন নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে বন্ধুদের খোঁজ নেওয়ার সময়ই পাচ্ছি না। ভিডিও, গেম, ফেসবুক আমাদের বন্ধুদের মধ্যে আড্ডাটকে একেবারেই মাটি করে দিয়েছে। ভাবতে থাকে অনির্বাণ। জেঠুর হাতে ফোন। কাকার অনলাইন বিজনেস। আগের মতো জমজমাট পারিবারিক আড্ডাটাও আর নেই। ভোর হতে চলল। অনির্বাণের চোখ লেগে এসেছে। ফোনটা বেজে ওঠে তার। বিমলের ফোন।
-আজ একবার কলেজ আসবি। খবর পেলাম কলেজে পুলিশ আসবে। নিতাকে পাওয়া গেছে দীঘার এক হোটেল থেকে। পুলিশ আসবে তদন্ত করতে।
-নিতা ভাল আছে তো!
-না, খুন হয়েছে।
ফোনটা কেটে যায়।
-কী রে অনি তুই! কতদিন পর দেখা হল।
-হুম। আসলে ক্লাস করাই হয় না।
-তুই কিছু জানিস না? তুই তো ওর ভাল বন্ধু ছিলিস।
-পুলিশকে সব জানিয়েছি। ওকেও বুঝিয়েছিলাম। ফেসবুকে ছেলেটার সাথে ছ'মাসের বন্ধুত্ব। তারপর প্রেম। কয়েকবার কথা বলেছে মাত্র। বারণ করেছিলাম শোনেনি।
সুমনা সজল চোখে জানায়।
অনির্বাণ দেখেছে ভাইবোনদের সাথে তার কাকিমার ফোন নিয়ে রোজ অশান্তি। খেলার মাঠ কেমন যেন ফাঁকা। মর্মান্তিক দুটো ঘটনা ঘটে গেল। অনির্বাণ নীচে নামে। ছুটে যায় বিমল, প্রকাশদের বাড়ি। বলে,
~~000~~

No comments:
Post a Comment