প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Tuesday, May 5, 2026

অচেনা পথ | সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায়

বাতায়ন/আতঙ্ক/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৩য় সংখ্যা/২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ছোটগল্প
সুদীপ্তা চট্টোপাধ্যায়
 
অচেনা পথ

"পুলিশ তো ওর ফোনটা থেকে অনেক কিছু পেয়েছে শুনলাম। একটা মেয়ে নাকি তাকে ব্ল্যাকমেল করত। কীসব উলঙ্গ শরীর নাকি দেখাত। আরও কীসব হয়েছে হোটেলে।"

 
সিগারেটে দুবার টান দিয়ে সিগারেটটা ফেলে দেয় অনির্বাণ। মনটা তার ভাল নেই। ফেসবুক খুললেই অপহরণের ভিডিও। বেশ কিছু নিউজ চ‍্যানেলেও দেখানো হচ্ছে। ছেলে ধরা সন্দেহে বেশ কিছু নির্দোষ লোক মার খেয়েছে। আজ সকালেই নিতার মা ফোন করেছিল। নিতা কাল থেকে বাড়ি ফেরেনি।
-সেই যে কলেজের জন্য বের হল—!
আর কোনো কথা বলতে পারছিল না। কান্নায় ভেঙে পড়ল।
-তুমি কি কিছু জানো বাবা। তোমরা তো একই কলেজের।
অনির্বাণ কিছুই জানে না। কলেজ সে খুব একটা যায় না। সায়েন্স ছাড়া অন্য কোনো বিভাগের ক্লাস খুব একটা হয় না। তাছাড়া হাতে আছে মোবাইল। আছে গুগল-কাকু। কী দরকার বই পড়ার। কলেজে ভিড় করার। সুদীপের দাদা বলেছিল,
-তোরা কলেজ যাস না! আড্ডা দিস না! আমাদের সময় কলেজ ক‍্যান্টিন ছিল আড্ডার জায়গা। কী যে তোদের আজকাল ফোন, ফেসবুক হয়েছে। ক্লাবেও তো কাউকে খুব একটা দেখি না।
কথাগুলো বলেই সুদীপের দাদা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ফাইভজিপি নেট নেওয়ার পর থেকে সুদীপ সত্যিই ফোন নিয়ে একটু বেশিই পড়ে থাকে। সেদিন বলছিল,
-ফেসবুকে কোন এক সুন্দরী মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছে। মেয়েটা হ‍েব্বি মাইরি। ফেসবুকে যা ছবি দেয়। সুদীপের কথা শুনে অনির্বাণ অবাক হয়। হাঁটতে থাকে অনির্বাণ। প্রকাশের ডাক। পিছন ফিরে দেখে প্রকাশ ছুটতে ছুটতে আসছে।
-কী হয়েছে?
হাঁপাতে হাঁপাতে প্রকাশ বলে,
-সুদীপ সুসাইড করেছে।
চমকে ওঠে অনির্বাণ।
-কখন?
-এই তো দেখে এলাম, বডিটাকে হসপিটাল নিয়ে যাচ্ছে পোস্টমর্টেমের জন্য।
-কিন্তু কেন এমন করল!
অনির্বাণ অস্থির হয়ে  ওঠে।
-আরে পুলিশ তো ওর ফোনটা থেকে অনেক কিছু পেয়েছে শুনলাম। একটা মেয়ে নাকি তাকে ব্ল্যাকমেল করত। কীসব উলঙ্গ শরীর নাকি দেখাত। আরও কীসব হয়েছে হোটেলে। বুঝতে পারছি না। ছাড় তো, একটা সিগারেট দে অনি।
সারারাত ঘুমোতে পারেনি অনির্বাণ। হাজারটা চিন্তা তার মাথায় ঘোরাফেরা করছে। সুদীপের মৃত্যুটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। আজকাল আমরা আমাদের ফোন নিয়ে এত ব‍্যস্ত হয়ে পড়েছি যে বন্ধুদের খোঁজ নেওয়ার সময়ই পাচ্ছি না। ভিডিও, গেম, ফেসবুক আমাদের বন্ধুদের মধ্যে আড্ডাটকে একেবারেই মাটি করে দিয়েছে। ভাবতে থাকে অনির্বাণ। জেঠুর হাতে ফোন। কাকার অনলাইন বিজনেস। আগের মতো জমজমাট পারিবারিক আড্ডাটাও আর নেই। ভোর হতে চলল। অনির্বাণের চোখ লেগে এসেছে। ফোনটা বেজে ওঠে তার। বিমলের ফোন।
-আজ একবার কলেজ আসবি। খবর পেলাম কলেজে পুলিশ আসবে। নিতাকে পাওয়া গেছে দীঘার এক হোটেল থেকে। পুলিশ আসবে তদন্ত করতে।
-নিতা ভাল আছে তো!
-না, খুন হয়েছে।
ফোনটা কেটে যায়।
 
পুলিশ প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলছে। অনির্বাণ সুমনার দিকে এগিয়ে যায়। সে তার সুন্দর সুন্দর আঙুল দিয়ে ফোন ঘেঁটে চলেছে।
-কী রে অনি তুই! কতদিন পর দেখা হল।
-হুম। আসলে ক্লাস করাই হয় না।
-তুই কিছু জানিস না? তুই তো ওর ভাল বন্ধু ছিলিস।
-পুলিশকে সব জানিয়েছি। ওকেও বুঝিয়েছিলাম। ফেসবুকে ছেলেটার সাথে ছ'মাসের বন্ধুত্ব। তারপর প্রেম। কয়েকবার কথা বলেছে মাত্র। বারণ করেছিলাম শোনেনি।
সুমনা সজল চোখে জানায়।
 
খোলা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে অনির্বাণ। ফোনটা নিজের কাছ থেকে দুরে সরিয়ে রাখে। মনটা ভাল নেই। নীচ থেকে কাকিমার চিৎকার।
-শয়তান ছেলে দিনরাত ফোন। মাঠে খেল।
অনির্বাণ দেখেছে ভাইবোনদের সাথে তার কাকিমার ফোন নিয়ে রোজ অশান্তি। খেলার মাঠ কেমন যেন ফাঁকা। মর্মান্তিক দুটো ঘটনা ঘটে গেল। অনির্বাণ নীচে নামে। ছুটে যায় বিমল, প্রকাশদের বাড়ি। বলে,
-চল সুদীপ আর নিতাদের বাড়ি। নিতার মার এখনো জ্ঞান ফেরেনি। সুদীপের মা পাগল হয়ে গেছে। বন্ধু হিসাবে বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
তিনজনে একে অপরের হাত ধরে। ছুঁয়ে যায় একে অপরের আঙুল। ফোন নামক যন্ত্রটি নিস্প্রাণ হয়ে পড়ে থাকে পকেটে।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)