বাতায়ন/নারী না পুরুষ/গল্পাণু/৪র্থ
বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
দীনেশ সরকার
শিকড়ের টান
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
দীনেশ সরকার
শিকড়ের টান
"দেবু তো দুবাই থাকে, সেও কি আসতে পেরেছিল? তোরা দুভাইয়ের কেউ তো আসতে পারিসনি, তবু তো তোর মায়ের পারলৌকিক ক্রিয়াকলাপ সবই হয়েছিল। তাই বলছি, আমাকে নিয়ে তোরা ভাবিস-নে। আমার কিছু হয়ে গেলে কেউ না কেউ তোদের ঠিক খবর দেবে।"
প্রিয়ব্রত
অনাদিবাবুকে জিজ্ঞেস করল,
-কী ঠিক করলে বাবা? তুমি আমার সঙ্গে কানাডা যাচ্ছ
তো? আমি তাহলে ফ্লাইটের টিকিট
কাটি?
-কী বলছো বাবা? তোমার বয়স হয়েছে, তোমার কিছু হলে তোমাকে কে দেখবে? আমার পক্ষে তো আর ফ্যামিলি ছেড়ে বার বার কানাডা থেকে ছুটে আসা সম্ভব না।
-জানি রে। তোর পক্ষে বার বার আসা সম্ভব নয়। আর তোকে না আসলেও চলবে রে।
-কী বলছ বাবা! তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি আসব না?
-দেবুটা দুবাই থাকে। ও তো এসে মাঝে মাঝে তোমার খোঁজখবর নিতে পারে!
-দেবুর কথা আর বলিস নে। সে এখন দুবাইয়ে চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করতে লেগেছে। ব্যবসায় নাকি অগাধ অর্থ। দেখ, আমি তো একজন সামান্য স্কুল শিক্ষক ছিলাম, তবু তোদের খাওয়াপরার তো কোনো অভাব রাখিনি। তোদের দুভাইকে উচ্চ-শিক্ষিত করেছি। অথচ, তুই দিল্লির ভালো চাকরি ছেড়ে কানাডা গেলি শুধু অর্থের জন্য। আর দেবু, শুধু অর্থের জন্য চাকরি ছেড়ে এখন দুবাইতে ব্যবসায় নেমেছে। বুঝি না বাপু, তোদের এত অর্থের প্রয়োজনটা কী।
-বাবা আজকের দিনে অর্থই সব। অর্থ না থাকলে কিছুই হয় না।
-হয় তো তাই। কিন্তু আমরা ভাবতাম, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ, ভালোবাসা, স্নেহ-প্রীতি, দেশের প্রতি টান, এইগুলোই সব, অর্থ কিছুই না। তাই আমাকে নিয়ে তোরা টানাহ্যাঁচড়া করিস-নে। বাপ-ঠাকুর্দার এই ভিটে ছেড়ে আমি কোথাও যেতে পারব না রে। এই শিকড়ের টান অনেক গভীরে। ও তুই বুঝবি নে। তুই ফিরে যা।
~~000~~

No comments:
Post a Comment