বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/গল্পাণু/২য় বর্ষ/৯ম/অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা/১৮ই
শ্রাবণ, ১৪৩১
অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা | গল্পাণু
তন্ময় কবিরাজ
শব্দ তাস
"শিশির শব্দে ঝরে যাচ্ছে নবান্নের ধান। জীবনানন্দ বলল, "চলো আজ শব্দ খেলি।" লাবণ্য বিরক্ত, "রাতে কী ন্যাকামো করছ?" জীবনানন্দ বলল, "তোমার জন্য শব্দ তাস রেখেছি।" "সেটা কী?" জানতে চাইল লাবণ্য। "এখানে কিছু শব্দের টুকরো আছে। তোমার পছন্দ মতো শব্দ বসাবে পরপর।"
মঞ্জু এসে বসল। জীবনানন্দ ব্যস্ত লেখা জমা দিতে হবে। কবিতা পত্রিকা থেকে লেখা
চাওয়া হয়েছে। কদর বাড়ছে জীবনানন্দের। কবিগুরুর সুনজরে মিলু। নজরুল থেকে বেরিয়ে
নিজের জাত প্রমাণ করেছে। বুদ্ধদেব বসুর আদেশ তাই তাড়াতাড়ি লেখা শেষ করতেই হবে। মঞ্জু
বলল, "বাবা,
মা কেন কবিতা লেখে না? ঠাকুমা এত ভাল কবিতা
লিখত।"
খানিক চুপ। পরে উত্তর দিল, "লাবণ্যকে বলি
তো লিখতে। তোর মা তো শুধু বলে এসব আমার আসে না।" "তুমি শিখিয়ে
দাও" আবদার মঞ্জুর। কথা বাড়াল না জীবনানন্দ। কবিতা তার কাছে আয়নার মতো। দিনের শেষে সে কবিতায় মুখ দেখে।
সেদিন হেমন্তের রাত। শিশির শব্দে ঝরে যাচ্ছে নবান্নের ধান। জীবনানন্দ বলল, "চলো আজ শব্দ খেলি।" লাবণ্য বিরক্ত, "রাতে কী ন্যাকামো করছ?" জীবনানন্দ বলল, "তোমার জন্য শব্দ তাস রেখেছি।" "সেটা কী?" জানতে চাইল লাবণ্য। "এখানে কিছু শব্দের টুকরো আছে। তোমার পছন্দ মতো
শব্দ বসাবে পরপর। মনের ভাব প্রকাশ করবে।" বুঝিয়ে বলল জীবনানন্দ। লাবণ্য
দেখল। শব্দগুলো বসল— "হেমন্তের
রাত শেষ হোক এ জীবনে / তারাদের মাঝে গিরিদি আজও / স্বাধীনতার আবেশ..." "শান্তি
তো? বলে শুয়ে পড়ল লাবণ্য। ভোর হতেই মঞ্জুর ঘরে গেল
জীবনানন্দ। চোখে জল। "দেখ আমি পেরেছি। তোর মা কবিতায় লিখেছে।" মাল্যবান
ব্যর্থ হতে পারে কিন্তু মিলু পেরেছে। লাবণ্য ডাকছে "ঘরের কোনো খেয়াল রাখো?
একটা কাজও তো টিকিয়ে রাখতে পারলে না।" ভাঙা পেন। মা-কে খুব মনে পড়ছে। ধূসর পাণ্ডুলিপি। তবু ভাবনার
আনন্দ আছে।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment