মোহন
রায়হান সংখ্যা | ছোটগল্প
পারমিতা
চ্যাটার্জি
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
"সমাজ বদলেছে কারণ মেয়েরা এখন প্রায় প্রত্যেকেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন। তাদের সময় মেয়েদের এভাবে অনেককেই মরে বেঁচে থাকতে হয়েছে, প্রতিদিন কত মেয়ে একটু একটু করে নিজেদের মেরে ফেলেছে। ক’জন আর তার খবর রাখে?"
মিত্রা আজই
ফিরল মেয়ের বাড়ি থেকে, এসে নিজেই একটু চা করল, স্বামী প্রতীককেও দিল নিজের জন্যেও নিল। বেশ
ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সে এতটা জার্নি করে এসে। ক্লান্ত হাতে চায়ের কাপটা নিয়ে একটু বসল খাবার টেবিলে। সে জানে এরপর সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে হবে তাকে, তা সে যতই ক্লান্ত হোক না কেন।
মিত্রার
অর্থনৈতিক জোর নেই। যদিও মেয়েদের কৃপায় এখন সে অনেকটাই
স্বাবলম্বী তবুও সংসার খরচের টাকা তো এর কাছ থেকেই হাত পেতে নিতেও হয় আবার গুণে
গুণে তার হিসেবও দিতে হয়। সেই হিসেবে ওরই জোরটা মেনে নিতে হয়।
কিছুক্ষণ
বসার পর প্রশ্ন আসতে শুরু করল, ওখানকার খবর সব ঠিক আছে তো?
-হ্যাঁ সব
ঠিক আছে।
-তুমি নিশ্চয়ই খুব ভাল ছিলে?
-হ্যাঁ তা
ছিলাম,
-হুঁ এদিকে আমাকে যে কত সমস্যার মধ্যে কাটাতে হয় তার খবর আর কে রাখে?
-কেন তুমিও
তো বেড়িয়ে এলে ব্যাংকক থেকে।
-ওই শুধু
একটু চারদিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছিলাম ওতেই জ্বলে যাচ্ছ না?
-কী আশ্চর্য! আসতে না
আসতে ঝগড়া শুরু করে দিলে!
আমার শরীর খুব খারাপ আর এভাবে আমার সাথে ঝগড়া কোরো না।
-সুখের বিছানায় শুয়ে শুয়ে যদি কারও শরীর খারাপ হয় তবে আর কী করা যাবে! নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত চিরকাল। কোনদিন যদি আমার মনটাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করতে তা হলে এত সমস্যা থাকত না।
-তুমি কি কোনদিন আমাকে বোঝার চেষ্টা করেছ?
-তোমাকে আবার
বোঝার কী আছে? মেয়েদেরই উচিৎ তার স্বামীর মনটাকে জয় করে নেওয়া, সে চেষ্টা তুমি কোনদিন করনি।
-সব উচিৎ মেয়েদেরই না?
-হ্যাঁ তা তো
বটেই। আমরা রোজগারও করব খাওয়াপরার জোগানও দেব, আবার
তোমাদের নিয়ে ভাবব, এত সময় কোথায়?
-সেই তোমাদের
ওই একটাই জোর অর্থনৈতিক… যা দিয়ে তোমরা আমাদের মাথাটা কিনে নিয়েছ।
খাই তো দুটো ভাত দুবেলা বিনিময়ে যে সার্ভিসটা দিই তার কোন মূল্য তো তোমাদের কাছে নেই। তোমাদের ওই
একটাই উত্তর, মেয়েদের এটাই করতে হয়,
এটাই নিয়ম। তাদের আবার আলাদা কোন মনের অস্তিত্ব থাকতে পারে
না কি? সব
কিছু তোমাদেরই আছে, একমাত্র কাজ আমাদের স্বামীর তালে তাল
মিলিয়ে চলা।
-হ্যাঁ সেটাই একমাত্র কাজ তোমার, যা তুমি কোনদিন করনি।
-ঠিক আছে মেনে নিলাম সব, সত্যি আমার অন্যায় তোমার খাই পরি অথচ তোমার তালে তাল দিয়ে চলি না, খুবই অন্যায়। কিন্তু একটা কথা বলবে আমায় আর কীভাবে ঠিক চললে তোমার তালে মিলিয়ে চলা হয়?
-খালি তর্ক করতেই শিখেছ। বললাম একটা সমস্যা আছে তা নিয়ে কোনো তাপ-উত্তাপ নেই।
-বল শুনছি, কী সমস্যা?
-থাক আর
শুনতে হবে না। আমায় খাবার দাও আর নিজে খেয়ে দয়া করে শুয়ে
পর।
-হ্যাঁ সেটাই ভাল, কাল সকালে বরং ঠান্ডা মাথায় বোলো তোমার সব সমস্যার কথা।
মিত্রা সমস্ত দিনের ক্লান্তি মুছে স্বামীর খাবার দিল সাজিয়ে আর নিজের জন্য সামান্য একটু ভাত আর আলুসিদ্ধ নিল।
ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন প্রতীকের,
-মাছ নিলে না?
-না
-কেন?
-ভাল লাগছে না।
-ও তা এই আলুসেদ্ধভাত খেয়ে তুমি কী প্রমাণ করতে চাইছ? কত কষ্টে থাক তুমি?
-আমি কিছুই
প্রমাণ করতে চাইছি না,
শুধু খুব ক্লান্ত বলে আর কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।
-তুমি নিশ্চয়ই খুব ভাল ছিলে?
-হুঁ এদিকে আমাকে যে কত সমস্যার মধ্যে কাটাতে হয় তার খবর আর কে রাখে?
-সুখের বিছানায় শুয়ে শুয়ে যদি কারও শরীর খারাপ হয় তবে আর কী করা যাবে! নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত চিরকাল। কোনদিন যদি আমার মনটাকে ছোঁয়ার চেষ্টা করতে তা হলে এত সমস্যা থাকত না।
-তুমি কি কোনদিন আমাকে বোঝার চেষ্টা করেছ?
-সব উচিৎ মেয়েদেরই না?
-হ্যাঁ সেটাই একমাত্র কাজ তোমার, যা তুমি কোনদিন করনি।
-ঠিক আছে মেনে নিলাম সব, সত্যি আমার অন্যায় তোমার খাই পরি অথচ তোমার তালে তাল দিয়ে চলি না, খুবই অন্যায়। কিন্তু একটা কথা বলবে আমায় আর কীভাবে ঠিক চললে তোমার তালে মিলিয়ে চলা হয়?
-খালি তর্ক করতেই শিখেছ। বললাম একটা সমস্যা আছে তা নিয়ে কোনো তাপ-উত্তাপ নেই।
-বল শুনছি, কী সমস্যা?
-হ্যাঁ সেটাই ভাল, কাল সকালে বরং ঠান্ডা মাথায় বোলো তোমার সব সমস্যার কথা।
মিত্রা সমস্ত দিনের ক্লান্তি মুছে স্বামীর খাবার দিল সাজিয়ে আর নিজের জন্য সামান্য একটু ভাত আর আলুসিদ্ধ নিল।
ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন প্রতীকের,
-কেন?
-ও তা এই আলুসেদ্ধভাত খেয়ে তুমি কী প্রমাণ করতে চাইছ? কত কষ্টে থাক তুমি?
খাওয়ার পালা
মিটে গেলে যে যার ঘরের দিকে চলে গেল। একটু পরে প্রতীকের নাক ডাকার শব্দ
কানে আসতে লাগল। মিত্রার চোখে ঘুম আসছে না।
আর কতদিন, আর কতদিন?
এই পরাধীনতার গ্লানি সহ্য করে তাকে বেঁচে থাকতে হবে? শুধুমাত্র
তার আজ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নেই বলেই এত অপমান তাকে শুনে যেতে হয়। তার স্বামীর জোর হচ্ছে তার অর্থের যেহেতু সংসারটা তার পয়সায় চলে তাই
সংসারের সব কিছু সিদ্ধান্ত তার, মিত্রাকে তা মেনে চলতেই হবে। সমাজ বদলেছে
কারণ মেয়েরা এখন প্রায় প্রত্যেকেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন। তাদের সময় মেয়েদের এভাবে অনেককেই মরে বেঁচে থাকতে হয়েছে, প্রতিদিন কত মেয়ে একটু একটু করে নিজেদের মেরে ফেলেছে। ক’জন আর তার খবর রাখে? এটাই ছিল
জীবন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তবে ব্যতিক্রম তো আছেই, আছে বলেই ভালমন্দ
মিশিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি।
সমাপ্ত

বাস্তব সত্য! ঘরে ঘরে এই সমস্যা। কোন পুরুষ বলে , কেউ বলতে পারে না। তবে আমাদের সময়টা অন্য রকম ছিল। তাঁরা জানতো একজনের ভরন পোষণ এর ভার গ্রহণ করলাম। খুব জোর বলতো একটু বুঝে চলার চেষ্টা কর। স্বাধীনতা মানে আমরা মেয়েরা এখনো এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। তাই এতো বিচ্ছেদ।
ReplyDeleteValo laglo
ReplyDeletePoran Majhi