বাতায়ন/হাপিত্যেশ/গদ্য/২য়
বর্ষ/৫ম সংখ্যা/৩২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
হাপিত্যেশ | গদ্য
পাপিয়া অধিকারী
হারিয়ে যাওয়া বিকেল সন্ধ্যা রাত
"কখনও কখনও ঘন জমাট রাতে স্বপ্নের মধ্যে ভয় পেয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলে মায়েরও ঘুম যেত ছিঁড়ে। মায়েদের ঘুম তো! ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের মতো। একটু হাওয়ার ধাক্কাতেই উড়ে যায়। জ্যোৎস্নায় ঘর ভরে ওঠে। চাঁদের আলোর যে এত সুন্দর গন্ধ থাকে তা কে জানত!"
খেলনাবাটির বিকেলবেলাগুলো ফুরিয়ে, বাড়ি ফেরা ছিলো পা ভর্তি
ধুলো, মন ভর্তি কেমন একটা দিনফুরোনো চিনচিনে মনখারাপকে সঙ্গে নিয়ে। মনখারাপটা
সন্ধ্যা-আমন্ত্রণের প্রদীপের দগ্ধসলতে, ধূপগন্ধ আর শঙ্খসুরের সঙ্গে মিশে উঠোনের
বাতাসকে সঙ্গীহীন করে রাখত।
ঝিঁঝির ডাক, হ্যারিকেনের আলো ঘেরা ধারাপাত - বর্ণপরিচয়ের ঘুম জড়ানো কণ্ঠগুলোকে হাতছানি দিত। সময়ের কুলকুল স্রোত বইত। ভাত ফোটার টগবগ শব্দ-গন্ধ আর কড়াইতে ফোড়নের ঝাঁঝ, মনগুলোয় প্রজাপতির পাখা দিত এঁকে। দূর থেকে হরিনাম সংকীর্তনের সঙ্গে মন্দিরার মিহি শব্দ-তরঙ্গ, ছুটির রেখা টেনে দিত। বইগুলোর আবার ঠাঁই হতো নিমপাতা সুগন্ধিত রং-ঝাপসা সাবেক তোরঙ্গে।
হ্যারিকেনের আলো মায়াময় রূপকথাকে জড়িয়ে জড়িয়ে বিনুনি বাঁধত। থালা-বাটি-গ্লাসের পাট চুকলে চেনা জগতটা হারিয়ে যেত অচেনা অসম্ভবের রামধনুতে। মায়ের ক্ষীণ সুরেলা গলা রূপকথা বুনত। জানলা দিয়ে সবুজ মাঠ, পুকুরের ঠান্ডা জল ছোঁওয়া বাতাস এসে চোখের পাতা ছুঁয়ে ঘুমপাড়ানি মাসিপিসিকে আসন পেতে দিত।
কখনও কখনও ঘন জমাট রাতে স্বপ্নের মধ্যে ভয় পেয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলে মায়েরও ঘুম যেত ছিঁড়ে। মায়েদের ঘুম তো! ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের মতো। একটু হাওয়ার ধাক্কাতেই উড়ে যায়। জ্যোৎস্নায় ঘর ভরে ওঠে। চাঁদের আলোর যে এত সুন্দর গন্ধ থাকে তা কে জানত! মাথায় কপালে একটা ঠান্ডা খসখসে আবহমান হাতের ছোঁওয়া পেয়ে আবার ঘুম ছেয়ে আসত দু চোখ জুড়ে। ঘুমে বিলিয়ে যেতে যেতেই কান না শুনলেও মন ঠিক শুনে নিত একটা গুনগুন কণ্ঠকে। রূপকথারা আবার উঠত সত্যি হয়ে। যত না-পাওয়া-ভোলানো-রূপকথারা ঘুমের জগত থেকে হাত বাড়িয়ে ঘরের একপাশে সরিয়ে রাখা টিমটিমে হ্যারিকেনটার কাচের গায়ের ঘন হয়ে আসা কালি দিত মুছে।
সমাপ্ত
আমাদের ছোটবেলার গল্প
ReplyDeleteএই তো আমার মা, এই তো আমার গাঁয়ের মেয়ে!
ReplyDeleteঅবাক হয়ে মিলিয়ে নিলাম,তো'মা'র দিকে চেয়ে ।