বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক/২য়
বর্ষ/৭ম সংখ্যা/২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১
ধারাবাহিক গল্প
বলাই দাস
চোরা বালির স্রোত
[২য় পর্ব]
"রামায়ণে শুনিস লাই, রামচন্দ্র একযুগ বনে যাইনছিল, মাতা সীতা আর ভাই লক্ষণকে সঙ্গে লিয়ে। সিটা তেতাযুগ আর ইটা কলিযুগ। তু কী ভাবছিস শচীর মা? হামি চোর লয়, চুরি কইরে ইত ট্যাকা আনি লাই গো- সবই ওই উপরবালার খেলা!"
পূর্বানুবৃত্তি
বুধা সিং ছেলে শচীন, বৌ দুলালীর জন্য রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজের থেকে ফেরার সময়
রোজের অভ্যাস মতো কিছু জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যাবে বলে ফেরার বাসের অপেক্ষা করছিল।
এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি কথায় কথায় তার ব্যাগ দেখতে বলে পেচ্ছাপ করতে গেল।
ইতিমধ্যে সিআইডি খবর পেয়ে ব্যাগ চেক করে আপত্তিকর জিনিস পেয়ে বুধাকে মাওবাদী
সন্দেহে অ্যারেস্ট করল। বারো বছর জেল খেটে ছাড়া পেল। ছেলে ততদিনে লেখাপড়া শিখে
চাকরি করে। তারপর…
- আচ্ছা ঠিক আছে, আগে তু ভালো হ তারপর তো ইয়ে—
পরের দিন সকাল দশটা
নাগাদ রোড অ্যাক্সিডেন্টের অনেক রোগী এলো হাসপাতালে। কৌতুহল বশত শচীন দেখতে
গেল, কাউকেই চিনতে পারছে না, না পারারই কথা। একজন লোককে যেন কেমন চেনা চেনা লাগছে
সে তার মাকে এসে বলল— মাগো, বাস অ্যাক্সিডেন্টের অনেক রোগী আইসছে, একটা লোক ঠিক
যেন বাবার মতো দেখতে।
- আচ্ছা পরে ভাল হলে দেখবি যদি চিনতে পারিস। বলাও যায় না- হতেও পারে সে। কর জোড়ে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য...
শিমুলিয়ায় বাস দুর্ঘটনার সমস্ত রোগীদের নামের তালিকা দিয়ে রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাবার নাম বুধা সিং দেখেই ছুটল মায়ের কাছে। মা বলল— আগে তু কিনা দেইখে কথা বলে আয় কেমন আছে, হামার খু-ব ইচ্ছে কইরছে দেইখতে কিন্তু ডাক্তার…
- না না একদম না মা! তুহার বেড থেকে ওঠা বারণ বটে। আমি তো আছি, অত চিন্তা কীসের?
শচীন ধীর পায়ে পুরুষদের ওয়ার্ডে এসে খুঁজতে লাগল। বুধা সিং মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে আছে। মাথায়, মুখে ব্যান্ডেজ বাঁধা। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে—
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল বাবা তো! বেড নম্বর ঠিকই আছে। একবার গায়ে হাত দিয়ে দেখা যাক—
- কিমন লাইগছে, ব্যাজায় যন্ত্রণা হইনছে?
- কে কে! কে বটে, গলার স্বর কিমন চিনা চিনা লাইগছে!
- তুহার নাম তো বুধা সিং বটে।
- আইরে বাপরে বাপ, হামাকে ই নামে সকলেই তো ডাকে। মা-বাপের দিয়া নাম।
- তুহার ঘর ভালুকাডিয়া? ইকটা বিটা ছিলা তার নাম- শচীন বটে।
- হা হা, ইকদম ঠিক বইলছো, কী করে জাইনলেক? তুহার কি বন্ধু লাগে?
- হ বন্ধু তো বটে। আচ্ছা, তুমি হামাকে ভাল কইরে ভাইলে দেখ দেখি— কিছু কি মনে পড়ছে? দেখল চোখ মিটমিটিয়ে, মুখটা যেন খুব চেনা লাগছে। ঠিক মনে করতে পারছে না।
- কী বইলবো বাবুগো, বারো বছর পার হইছে ঘর ছাড়া হামি। হামার কুনো দোষ নাইখে তবু হামাকে পুলিশ ধইরে লিয়ে গেল। বিনা দোষে বারোটি বছর জেলের ঘানি টাইনে ছাড়ল। কাইল জেল থিকে ছুটি দিল, সকালে, মেদিনীপুর- ধুমসাই বাসে চাইপে নিজের ঘরকে যাইতে ছিলি…
খকখক করে কাশল, বলল— শিমুলিয়ার পুলের কাছে বাস অ্যাক্সিডেন্ট করল। সিখাইন থিকা ই হাসপাতালে।
শচীন বুঝতে পারল তাকে চিনতে পারেনি বাবা, স্বাভাবিক; কারণ নয় বছরের শিশুটি আজ একুশ-বাইশ বছরের যুবক। শরীর, মুখমণ্ডল সব পাল্টে গেছে, আলাদা হয়েছে।
সে বলল- আচ্ছা, ইখন তাইলে আসি।
বুধা ওর হাত ধরে— তুমি যে-ই হও হামার ছাইলার মতো, হামার ঘরে একটু খবর দিবে; হামার বহুটা, ছাইলাটা ভাল আছে তো? খুব কষ্টের সাথে বলল।
- হ গো তারা সবাই ভাল আছে বটে। হামার ইকটা রোগী আছে তাকে দেইখে আইসে তারপর তুহার সাথে কুথা বলবক। শচীনের চোখ ছলছল করছে! বলে চলে গেল শচীন মায়ের কাছে গিয়ে বলল— মাগো, বাবাই বটে, হামাকে চিনতে পারে লাই। তুমি চল, আমি ধরে ধরে লিয়ে যাব।
মায়ের মন আনন্দে নেচে উঠল, কতগুলো বছর পর স্বামীকে দেখতে পাবে। ধীরে ধীরে অতি সন্তর্পণে মায়ে-পোয়ে
এলো বুধা সিংয়ের কাছে। মাথায়, হাতে-পায়ে, ব্যান্ডেজ বাঁধা দেখে তো তার মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার অবস্থা। অনেক সাহসের সঙ্গে বেডে বসে বলল— কী গো, শচীর বাবা। কিমন আছ?
সংকোচ পূর্ণ মনে গায়ে হাত দিতেই চমকে উঠে বুধা সিং, মাথা ঘুরিয়ে বউকে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারল না। বলল— হায় গো-, তু-মি আইছ। উপরবালার বেজায় কৃপা, মইরতে মইরতে বাঁইচে ফিরে আইছি। তুমরা সব ভাল আছ তো? আর হামার বিটা ছিলা? সে কুঁথায়?
ধরে তুলে বসাল। বলল— কিমন বাপ হে নিজের ছিলাকে চিনতে লারছো। ইতো দাঁড়ায় আছে তুহার বিটা, ভাইলে দেখ।
- কুত বড় হইচে, ইতো সহজে কি চিনা যায় গো? সবকিছু পাল্টাই জাইনচে।
- ঠিক আছে গো বাপ, ইখন বিশি কুথা বুলা বারণ। মায়ের তো শরীর খারাপ। সিও তো ইখানে ভর্তি বটে। পরশুদিন ছাইড়ে দিবে।
- কী হইচে গো তুহার?
- আর কী হবেক, চিন্তা-ভাবনায় শরীরের ভিতরটার কি কিছু আছে? খাইটে খাইটে ছিলাকে লিখাপড়া শিখাই এতবড় করাই, চাকরি করাই…
- আচ্ছা, আচ্ছা, খুব খুব ভাল বটে। হামি এতসব করাইতে পারতম নাই গো— সত্যি কী জান অভাব দুঃখ মানিষকে অনেক অনেক কিছু শিখাঁইন দেয়। তাই...
- এক্কেবারে হক কথা বলিনচো বটে। খাদ পুঁড়েই তো পাক্কা সুনা হয় বটে। তো কবে তুমহাকে ছাইড়বেক—বুললে— ডাক্তার?
- পরশু গো—
- তবে হামিও পরশু ছুটি লিয়ে লিব। একসাইথে ঘরকে যাইনবো, ভারি মজা হবে বটেক, তাই না শচীর মা?
- আগে ভাল ত হও।
- ও ভাল হইন যাইনবে। তুমাদেরকে পাইনচে তো মনে ইবার বেজায় জোর বটে। আর কুন চিন্তা নাই গো—
পরশু উভয়কেই ছুটি দিয়ে দিল ডাক্তার। একটা বডিরিক্সায় বাবা-মাকে বসিয়ে দিয়ে শচীন সাইকেল নিয়ে ভাড়াবাড়িতে এসে উপস্থিত। বুধা অবাক হয়ে দেখতে থাকল আর বলল— ইখানে কেনে গো, ইটা কাদের ঘর? ই বাবা ইত বড় পাকা ঘর!
- হামরা তো ইখানেই থাকি, গেরাম থিকা শহুরে ডিউটি করা বেজায় মুশকিল তাই ঘর ভাড়ায় মায়ে-পোয়ে…
- আর হামমার গিরামের ঘর সব সব ঠিকঠাক আছে তো?
- হ গো সব ঠিক আছে। কে লিবে গো—
- হা গো শচীর মা ইকটা ভাল দেইখ্যে বিটিছানা দ্যাখ না কেনে, উদের দু-হাত ইক কইরতে হবেক।
- ইবার সব দায়িত্ব তুহার, হামাকে ইবার রেহাই দে। সবকিছু গুছাইন দিছি; বলতে তো আর পারবিক লাই। শচীর মা হামার সংসারটাকে নষ্ট কোরিন দিছিস। কত লুকে কত কুথা বইলত। তু একটা বিহা কর, বুধা আর ঘুরে আইসবেক লাই। খারাপ খারাপ কুথা, খারাপ লজর! সব ফেলাইন দি, ছিলাটাকে বুকে আঁকড়ে…
- এ্য বউ, রাগ করিস না বটে, হামার জীবনে কী কী ঘইটেছিল তা তো জানলি লাই। ওঃ, সে কী দিন যাইচে গো
মানিষ মানিষের সাইথে ইরকম করে বোলে জানাছিল লাই। এই লে লে কত ট্যাকা, জেল খাইটে পাঁইচি।
অনেকগুলো টাকা দুললীর হাতে দিল। দুলালী টাকাগুলো নিয়ে বলল— জেল খাইটলে ইত ট্যাকা পায়?
- হ গো, বারো বছর! রামায়ণে শুনিস লাই, রামচন্দ্র একযুগ বনে যাইনছিল, মাতা সীতা আর ভাই লক্ষণকে সঙ্গে লিয়ে। সিটা তেতাযুগ আর ইটা কলিযুগ। তু কী ভাবছিস শচীর মা? হামি চোর লয়, চুরি কইরে ইত ট্যাকা আনি লাই গো- সবই ওই উপরবালার খেলা!
দুজন জনকে দেখতে থাকল, বহুকাল তো এভাবে দেখেনি…
- আচ্ছা পরে ভাল হলে দেখবি যদি চিনতে পারিস। বলাও যায় না- হতেও পারে সে। কর জোড়ে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য...
শিমুলিয়ায় বাস দুর্ঘটনার সমস্ত রোগীদের নামের তালিকা দিয়ে রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাবার নাম বুধা সিং দেখেই ছুটল মায়ের কাছে। মা বলল— আগে তু কিনা দেইখে কথা বলে আয় কেমন আছে, হামার খু-ব ইচ্ছে কইরছে দেইখতে কিন্তু ডাক্তার…
- না না একদম না মা! তুহার বেড থেকে ওঠা বারণ বটে। আমি তো আছি, অত চিন্তা কীসের?
শচীন ধীর পায়ে পুরুষদের ওয়ার্ডে এসে খুঁজতে লাগল। বুধা সিং মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে আছে। মাথায়, মুখে ব্যান্ডেজ বাঁধা। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে—
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল বাবা তো! বেড নম্বর ঠিকই আছে। একবার গায়ে হাত দিয়ে দেখা যাক—
- কিমন লাইগছে, ব্যাজায় যন্ত্রণা হইনছে?
- কে কে! কে বটে, গলার স্বর কিমন চিনা চিনা লাইগছে!
- তুহার নাম তো বুধা সিং বটে।
- আইরে বাপরে বাপ, হামাকে ই নামে সকলেই তো ডাকে। মা-বাপের দিয়া নাম।
- তুহার ঘর ভালুকাডিয়া? ইকটা বিটা ছিলা তার নাম- শচীন বটে।
- হা হা, ইকদম ঠিক বইলছো, কী করে জাইনলেক? তুহার কি বন্ধু লাগে?
- হ বন্ধু তো বটে। আচ্ছা, তুমি হামাকে ভাল কইরে ভাইলে দেখ দেখি— কিছু কি মনে পড়ছে? দেখল চোখ মিটমিটিয়ে, মুখটা যেন খুব চেনা লাগছে। ঠিক মনে করতে পারছে না।
- কী বইলবো বাবুগো, বারো বছর পার হইছে ঘর ছাড়া হামি। হামার কুনো দোষ নাইখে তবু হামাকে পুলিশ ধইরে লিয়ে গেল। বিনা দোষে বারোটি বছর জেলের ঘানি টাইনে ছাড়ল। কাইল জেল থিকে ছুটি দিল, সকালে, মেদিনীপুর- ধুমসাই বাসে চাইপে নিজের ঘরকে যাইতে ছিলি…
খকখক করে কাশল, বলল— শিমুলিয়ার পুলের কাছে বাস অ্যাক্সিডেন্ট করল। সিখাইন থিকা ই হাসপাতালে।
শচীন বুঝতে পারল তাকে চিনতে পারেনি বাবা, স্বাভাবিক; কারণ নয় বছরের শিশুটি আজ একুশ-বাইশ বছরের যুবক। শরীর, মুখমণ্ডল সব পাল্টে গেছে, আলাদা হয়েছে।
সে বলল- আচ্ছা, ইখন তাইলে আসি।
বুধা ওর হাত ধরে— তুমি যে-ই হও হামার ছাইলার মতো, হামার ঘরে একটু খবর দিবে; হামার বহুটা, ছাইলাটা ভাল আছে তো? খুব কষ্টের সাথে বলল।
- হ গো তারা সবাই ভাল আছে বটে। হামার ইকটা রোগী আছে তাকে দেইখে আইসে তারপর তুহার সাথে কুথা বলবক। শচীনের চোখ ছলছল করছে! বলে চলে গেল শচীন মায়ের কাছে গিয়ে বলল— মাগো, বাবাই বটে, হামাকে চিনতে পারে লাই। তুমি চল, আমি ধরে ধরে লিয়ে যাব।
মায়ের মন আনন্দে নেচে উঠল, কতগুলো বছর পর স্বামীকে দেখতে পাবে। ধীরে ধীরে অতি সন্তর্পণে মায়ে-পোয়ে
এলো বুধা সিংয়ের কাছে। মাথায়, হাতে-পায়ে, ব্যান্ডেজ বাঁধা দেখে তো তার মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার অবস্থা। অনেক সাহসের সঙ্গে বেডে বসে বলল— কী গো, শচীর বাবা। কিমন আছ?
সংকোচ পূর্ণ মনে গায়ে হাত দিতেই চমকে উঠে বুধা সিং, মাথা ঘুরিয়ে বউকে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারল না। বলল— হায় গো-, তু-মি আইছ। উপরবালার বেজায় কৃপা, মইরতে মইরতে বাঁইচে ফিরে আইছি। তুমরা সব ভাল আছ তো? আর হামার বিটা ছিলা? সে কুঁথায়?
ধরে তুলে বসাল। বলল— কিমন বাপ হে নিজের ছিলাকে চিনতে লারছো। ইতো দাঁড়ায় আছে তুহার বিটা, ভাইলে দেখ।
- কুত বড় হইচে, ইতো সহজে কি চিনা যায় গো? সবকিছু পাল্টাই জাইনচে।
- ঠিক আছে গো বাপ, ইখন বিশি কুথা বুলা বারণ। মায়ের তো শরীর খারাপ। সিও তো ইখানে ভর্তি বটে। পরশুদিন ছাইড়ে দিবে।
- কী হইচে গো তুহার?
- আর কী হবেক, চিন্তা-ভাবনায় শরীরের ভিতরটার কি কিছু আছে? খাইটে খাইটে ছিলাকে লিখাপড়া শিখাই এতবড় করাই, চাকরি করাই…
- আচ্ছা, আচ্ছা, খুব খুব ভাল বটে। হামি এতসব করাইতে পারতম নাই গো— সত্যি কী জান অভাব দুঃখ মানিষকে অনেক অনেক কিছু শিখাঁইন দেয়। তাই...
- এক্কেবারে হক কথা বলিনচো বটে। খাদ পুঁড়েই তো পাক্কা সুনা হয় বটে। তো কবে তুমহাকে ছাইড়বেক—বুললে— ডাক্তার?
- পরশু গো—
- তবে হামিও পরশু ছুটি লিয়ে লিব। একসাইথে ঘরকে যাইনবো, ভারি মজা হবে বটেক, তাই না শচীর মা?
- আগে ভাল ত হও।
- ও ভাল হইন যাইনবে। তুমাদেরকে পাইনচে তো মনে ইবার বেজায় জোর বটে। আর কুন চিন্তা নাই গো—
পরশু উভয়কেই ছুটি দিয়ে দিল ডাক্তার। একটা বডিরিক্সায় বাবা-মাকে বসিয়ে দিয়ে শচীন সাইকেল নিয়ে ভাড়াবাড়িতে এসে উপস্থিত। বুধা অবাক হয়ে দেখতে থাকল আর বলল— ইখানে কেনে গো, ইটা কাদের ঘর? ই বাবা ইত বড় পাকা ঘর!
- হামরা তো ইখানেই থাকি, গেরাম থিকা শহুরে ডিউটি করা বেজায় মুশকিল তাই ঘর ভাড়ায় মায়ে-পোয়ে…
- আর হামমার গিরামের ঘর সব সব ঠিকঠাক আছে তো?
- হ গো সব ঠিক আছে। কে লিবে গো—
- হা গো শচীর মা ইকটা ভাল দেইখ্যে বিটিছানা দ্যাখ না কেনে, উদের দু-হাত ইক কইরতে হবেক।
- ইবার সব দায়িত্ব তুহার, হামাকে ইবার রেহাই দে। সবকিছু গুছাইন দিছি; বলতে তো আর পারবিক লাই। শচীর মা হামার সংসারটাকে নষ্ট কোরিন দিছিস। কত লুকে কত কুথা বইলত। তু একটা বিহা কর, বুধা আর ঘুরে আইসবেক লাই। খারাপ খারাপ কুথা, খারাপ লজর! সব ফেলাইন দি, ছিলাটাকে বুকে আঁকড়ে…
- এ্য বউ, রাগ করিস না বটে, হামার জীবনে কী কী ঘইটেছিল তা তো জানলি লাই। ওঃ, সে কী দিন যাইচে গো
মানিষ মানিষের সাইথে ইরকম করে বোলে জানাছিল লাই। এই লে লে কত ট্যাকা, জেল খাইটে পাঁইচি।
অনেকগুলো টাকা দুললীর হাতে দিল। দুলালী টাকাগুলো নিয়ে বলল— জেল খাইটলে ইত ট্যাকা পায়?
- হ গো, বারো বছর! রামায়ণে শুনিস লাই, রামচন্দ্র একযুগ বনে যাইনছিল, মাতা সীতা আর ভাই লক্ষণকে সঙ্গে লিয়ে। সিটা তেতাযুগ আর ইটা কলিযুগ। তু কী ভাবছিস শচীর মা? হামি চোর লয়, চুরি কইরে ইত ট্যাকা আনি লাই গো- সবই ওই উপরবালার খেলা!
দুজন জনকে দেখতে থাকল, বহুকাল তো এভাবে দেখেনি…
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment