বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/গল্পাণু/২য় বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/শারদ/১১ই আশ্বিন,
১৪৩১
শারদ | গল্পাণু
এস এ বিপ্লব
ভাই ভাগ
"ছোট ভাই বিছানায় মৃত্যু শয্যায় ভাইয়েরা টাকা ভাগ নিয়ে বসে থাকে। ছোট ভাই আবেগে যায় হারিয়ে, মনে মনে বলতে থাকে বাবা-মা না থাকলে যে সন্তানের কত কষ্ট তা নিজের জীবন দিয়ে বুঝে গেলাম। "
আমরা সর্বদাই দেখে থাকি বা শুনে থাকি যে, জনক,
জননীকে তার সন্তানরা ভাগ করে রেখে থাকে। দেখা যায় যে, কারো তিন সন্তান আছে তো বাবা-মাকে প্রত্যেক সন্তান চার মাস করে রাখবে।
কারো বা বাবা থাকে না মা থাকে কারো বা মা থাকে না বাবা থাকে।
তখন বাবা বা মা যেই থাকুক না কেন সন্তানরা ভাগ করেই রাখে যেন। এগুলো বললে হয়তো
অনেকে বলবে এ তো পুরাতন কথা সবারই জানা। তাই নতুন কথা দিয়েই শুরু করব। বাবা-মাকে
ভাগ করার কথা সবাই
শুনেছি, দেখেছি। কিন্তু কখনো কি ভাই ভাগ
করার কথা শুনেছি। আমার বন্ধু সাজ, ওর তিনকুলে ভাই ছাড়া আর
কেউ ছিল না। তার ভাইয়েরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। বাবা-মা, অর্থ, জমিজমা, কিছুই ছিল না। তাই
এমন অবস্থায় পরিণত হয়েছে। আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মরণ পথ যেন গুনে। ডাক্তার বলেছে কিডনি দুটো একেবারেই অচল। অর্থাৎ কিডনি রোগে আক্রান্ত। সাথে এটা-ওটা জড়িত। অপারেশন
করে কিডনি পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু কে দিবে এত টাকা। এক ভাই আরেক ভাইকে বলে কত
টাকা দিবে। এ ভাই সে ভাইকে বলে কত টাকা দিবে। ছোট ভাই বিছানায় মৃত্যু শয্যায়
ভাইয়েরা টাকা ভাগ নিয়ে বসে থাকে। ছোট ভাই আবেগে যায় হারিয়ে, মনে
মনে বলতে থাকে বাবা-মা না থাকলে যে সন্তানের কত কষ্ট তা নিজের জীবন দিয়ে বুঝে
গেলাম। আসলে অনেকের চেয়ে বা পরের চেয়ে যে ভাল সে হলো ভাই। কিন্তু ভাইয়ের চেয়ে যে
ভাল সে হলো বাবা। সাজের লেখা কবিতা বারবার স্মরণ করছে –
ছোট ভাইয়ের জীবন
হয়নি উন্নয়ন
যেদিক দিয়ে যায়
হয় শুধু পতন
তার চেয়ে ভাল হয়
যদি হয় মরণ
শেষ হলো ছোট ভাইয়ের জীবন
এগুলো বলতে বলতে কখন যে নিঃশ্বাস বের হয়ে গেল তা কেউ টের পায়নি। এভাবে টাকার অভাবে আর টাকার ব্যবস্হা করতে করতেই ছোট ভাই গেল চিরতরে।
ছোট ভাইয়ের জীবন
হয়নি উন্নয়ন
যেদিক দিয়ে যায়
হয় শুধু পতন
তার চেয়ে ভাল হয়
যদি হয় মরণ
শেষ হলো ছোট ভাইয়ের জীবন
এগুলো বলতে বলতে কখন যে নিঃশ্বাস বের হয়ে গেল তা কেউ টের পায়নি। এভাবে টাকার অভাবে আর টাকার ব্যবস্হা করতে করতেই ছোট ভাই গেল চিরতরে।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment