বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/কবিতা/২য়
বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/শারদ/১১ই আশ্বিন, ১৪৩১
শারদ | কবিতা
জয়দেব সাঁতরা
উচিত ছিল
আমরা যারা দু এক কলম লিখতে থাকি রোজ,
কার কী হলো কে কী খেল তার কি রাখি খোঁজ?
উচিত ছিল খবর নেওয়া ফেলে
সকল কাজ,
কলেজ থেকে ফিরল কিনা সেই মেয়েটা আজ।
কার কী হলো কে কী খেল তার কি রাখি খোঁজ?
কলেজ থেকে ফিরল কিনা সেই মেয়েটা আজ।
যেই ছেলেটা জন্মেই হল মাতৃ-পিতৃহারা
কেউ কি জানে সেই অনাথের কেমন জীবন-ধারা?
কিংবা ধরো খগেন কাকার
মাটির ছিটে বেড়া,
ঝড় বাদলে ঠিক আছে তো পোষ্য দুটো ভেড়া?
কেউ কি জানে সেই অনাথের কেমন জীবন-ধারা?
ঝড় বাদলে ঠিক আছে তো পোষ্য দুটো ভেড়া?
টাকার জন্য যেই মেয়েটির হয়নি আজও বিয়ে
তার কী খবর কেউ কি রাখে কীসব থাকে নিয়ে?
বাজারের সেই বাটি হাতে
ভিখারিনি মেয়ে,
পেয়েছে কি খাবার কোনো এর-ওর বাড়ি চেয়ে?
তার কী খবর কেউ কি রাখে কীসব থাকে নিয়ে?
ওই যে সেদিন আন্দোলনে কী নাম যেন ভুতো,
চাকরি চাওয়ার অপরাধে মারল পুলিশ গুঁতো
ঠিক আছে সে আগের মতো? চলতে পারে সোজা?
বইতে সে কি পারছে আজো সংসারের
ওই বোঝা?
চাকরি চাওয়ার অপরাধে মারল পুলিশ গুঁতো
ঠিক আছে সে আগের মতো? চলতে পারে সোজা?
রাস্তাঘাটে ভাষণ দিয়ে চলে হাজার কথা,
কেউ কী বোঝে বন্ধ্যা নারীর বুকে কীসের ব্যথা?
যে বাবা-মা অবহেলায়
বৃদ্ধাশ্রমে থাকে,
পিতা-মাতার সম্বোধনে কেউ কি তাদের ডাকে?
উচিত ছিল অনেক কিছুই
প্রশ্ন হাজার জমা,
ব্যর্থ কবি করজোড়ে চাইছে গো তাই ক্ষমা।
কেউ কী বোঝে বন্ধ্যা নারীর বুকে কীসের ব্যথা?
পিতা-মাতার সম্বোধনে কেউ কি তাদের ডাকে?
ব্যর্থ কবি করজোড়ে চাইছে গো তাই ক্ষমা।

একটি সহানুভূতিপূর্ণ কবিতা।
ReplyDelete