প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Friday, November 8, 2024

মাটির মৃন্ময়ী | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/মাসিক/গল্পাণু/২য় বর্ষ/১৮তম সংখ্যা/২৩শে কার্ত্তিক, ১৪৩১

চৈতালী চট্টোপাধ্যায় সংখ্যা | গল্পাণু

পারমিতা চ্যাটার্জি

মাটির মৃন্ময়ী


"বাজল তোমার আলোর বেণু গান শুনে মনের ক্লান্তিটা মুছে গেল অনেক
হঠাৎ প্যন্ডেলের আড়াল থেকে কিছু মদ্যপ ছেলে এগিয়ে আসে তার দিকে, কিছু বোঝার আগেই টেনে নিয়ে যায় অন্ধকারে।"


রত্না প্রায় পুজো প্যান্ডেলের কাছাকাছি এসে গেছে, তাদের পাড়ার পুজোসারাদিন আয়ার কাজ সেরে এই সবে ঘরে ফিরছে, এখন ট্রেনে যা ভিড়, প্রায় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে চিঁড়েচেপটা হয়ে ফিরছে ছেলেটা অপেক্ষা করে আছে, মা নতুন জামা কিনে আনবে বলে পুজো বলে দয়া করে গিন্নি কিছু বেশি টাকা দিয়েছে, তাই শিয়ালদাতে নেমে কিছু কেনাকাটা করে

আজ আরও দেরি হয়ে গেল, প্রতিবার দিদি এসে তাকে শাড়ি আর ছেলেকে জামা দিয়ে যায় বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাছে ছেলেটাকে রেখে আসে, কোনদিন কাউকে কিছু দিতে পারে না

আজ তাই দিদির আর মায়ের জন্য একটা করে শাড়ি আর বাবার জন্য একটা পাঞ্জাবি কেনে ছেলের জামা-প্যান্টের দামটা একটু বেশি হয়ে গেল, তার ওপর ছেলের আব্দার পুজোয় একদিন অন্তত মাংস খাওয়াতেই হবে। সারা মাস কী করে চলবে জানে না। বাবা আগে চাকরি করত, অত অসুবিধা হত না এখন অবসর নেওয়ার পর থেকে বেশ টানাটানি চলছে, তাও সামনের দিকে একটা ঘর আর তার সাথে একফালি বারান্দা ভাড়া দিয়েছে নিজেও পাশে একটা ছোট মুদির দোকান খুলে বসে, কোনরকমে চলে আর একটু  রোজগার না বাড়ালেই নয়, কিন্তু কী করে তা সম্ভব পথ খুঁজে পাচ্ছে না ছেলেটাও তো বড় হবে পড়াশোনার খরচও আস্তে আস্তে বাড়বে দিদি সাধ্যমতো মাঝে মাঝে এসে কিছু দিয়ে যায়, এ ভাবে আর কতদিন চলবে ভেবে পায় না

স্বামী তো তার থেকেও নেই, সেই যে ছেলে হতে বাপেরবাড়ি এসেছিল আর ফিরিয়ে নিয়ে যায়নি কী না ঠিক মতোন বিয়েতে জিনিসপত্র দেয়নি তাই মা তোমাকে নিয়ে যেতে বারণ করেছে তার নাকি প্রেমের বিয়ে ছিল! রত্না মনে মনে হাসে, হায় রে প্রেম! মাতৃভক্ত ছেলের প্রেম করার সময় মনে ছিল না কিছু?

প্যান্ডেলে আগমনির গান বাজছে— বাজল তোমার আলোর বেণু গান শুনে মনের ক্লান্তিটা মুছে গেল অনেক
হঠাৎ প্যন্ডেলের আড়াল থেকে কিছু মদ্যপ ছেলে এগিয়ে আসে তার দিকে, কিছু বোঝার আগেই টেনে নিয়ে যায় অন্ধকারে

ষষ্ঠীর বোধন হচ্ছে, আগমনির গানটা তখনও বেজে চলেছে এদিকে প্যান্ডেলের একটু পাশেই এক জীবন্ত দুর্গা লজ্জা হারিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে। হায় মা দুর্গা কবে এই জীবন্ত অসুরগুলো বধ হবে বলতে পারো? মাটির মৃন্ময়ীর কোন উত্তর নেই
 

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)