মোহন
রায়হান সংখ্যা | গল্পাণু
পারমিতা চ্যাটার্জি
যে যেরকম
"আজ মনে হচ্ছিল দীপালিকার আগুনে নিজেকে জ্বালিয়ে শেষ করে দিই, করতে গিয়েও থমকে গেলাম, আমার শরীরে যে তোমার সন্তান বেড়ে উঠছে। মেয়েদের মরতেও কত বাধা। অপু তোমার ভালবাসা দিয়ে আমায় বদলে নিতে পারো না?"
কালীপুজোর দিন সন্ধ্যাবেলায় অপু অনেক জ্বর নিয়ে উঠেও প্রদীপ জ্বালাতে গেল—
জ্বলন্ত প্রদীপ শিখাটার দিকে চেয়ে তার মনে হল— সে কেন পুড়ে মরে যায় না। এই
প্রদীপ শিখার
মতন প্রতিদিন একটু একটু করে না জ্বলে একেবারেই তো জ্বলে যেতে পারে— ভাবনাটা
থামিয়ে দেয়, মনে হল নীচে যেন খুব গণ্ডগোল হচ্ছে, তার স্বামীর অর্ণবের চিৎকার ও গালাগালি বেশ জোরে ভেসে
আসছে।
তাড়াতাড়ি
করে অপু মানে অপরাজিতা নীচে নেমে এলো, দেখল পাড়ার ছেলেদের
সঙ্গে তার স্বামী অর্ণবের ঝামেলা বেধেছে, বোধহয় গাড়ি পার্ক করা নিয়ে।
অর্ণবের
কপাল ফেটে রক্ত বার হচ্ছে। অপু তাড়াতাড়ি এসে অর্ণবকে সরিয়ে আনতে গেল, সব রাগটা যেন আছড়ে পড়ল অপুর ওপর। সজোরে এক ধাক্কা মারল তাকে, ছিটকে পড়ে গিয়ে কপাল
দিয়ে ঝরঝর করে রক্ত পড়তে লাগল। একজন ছেলে বলল, আমাদের হাতে মার খেয়ে নীরিহ বউটার কপাল ফাটাল? দাঁড়াও
হচ্ছে তোমার?
ভিড়ের মধ্যে কে একজন বলল— বউদি খুব রক্ত পড়ছে মনে হচ্ছে সেলাই দিতে হবে।
অপু শান্ত
হয়ে অর্ণবকে নিয়ে ওপরে উঠল। ওকে বসিয়ে তুলো আর ডেটল নিয়ে কপালটা পরিষ্কার করতে লাগল। ওর তখন শাড়ি ভেসে যাচ্ছে রক্তে, তা দেখে অর্ণবের মতো পশুও বলল, নিজেরটা দেখো আগে।
অপু নির্বিকার উত্তর দিল, আমার তো অভ্যাস আছে, মেয়েদের প্রাণ বলে না কই মাছের জান।
অপু নির্বিকার উত্তর দিল, আমার তো অভ্যাস আছে, মেয়েদের প্রাণ বলে না কই মাছের জান।
এককাপ কফি
নিয়ে এসে সামনে ধরে বলল, আজ মনে হচ্ছিল দীপালিকার আগুনে নিজেকে
জ্বালিয়ে শেষ করে দিই, করতে গিয়েও থমকে গেলাম, আমার শরীরে যে তোমার সন্তান বেড়ে উঠছে। মেয়েদের
মরতেও কত বাধা।
অপু তোমার ভালবাসা দিয়ে আমায় বদলে নিতে পারো না?
অপু তোমার ভালবাসা দিয়ে আমায় বদলে নিতে পারো না?
অপুর
নির্বিকার উত্তর— কাউকে বদলানো যায় না, যে যেরকম সেখানেই
দাঁড়িয়ে থাকে।
সমাপ্ত

अनबद्य
ReplyDeleteपराण माझि