বাতায়ন/নৃপেন
চক্রবর্তী সংখ্যা/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/২৮ সংখ্যা/১১ই কার্ত্তিক, ১৪৩২
রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
রসের
জুটি
ধারাবাহিক— ২
"আরও একজন গোমড়া মুখে সব দেখে, সে হল ছোটো ভাই ভ্যাবলা। ভ্যাবলার খুবই ইচ্ছে ছিল বৌদিকে নিয়ে গল্পগুজব করবে কিন্তু সে সুযোগই পাচ্ছে না। কী মুশকিল! দাদাভাই কি বৌদিকে নিজের সম্পত্তি ভাবছে?"
ফুলসজ্জার রাত থেকেই একেবারে
খুব ভাব জমে গেল আদর আর হ্যাবলার মধ্যে। দুজনেই দুজনকে পেয়ে খুব খুশি। হেসে লুটোপুটি
সারা রাত। কত কথা কত গল্প। মা সব বুঝে নিয়েছে। সকাল সকাল ওঠা অভ্যাস আদরের। উঠতে
গিয়েই মুশকিল। হ্যাবলা উঠতে দেবে না,
-এই এত তাড়াতাড়ি কেন?
-না, এটাই তো আমার অভ্যেস
যে...
হ্যাবলা ক্যাবলার মতো আদরকে চেপে ধরে রাখতে চায়। আদর কায়দা করে হ্যাবলাকে খুশি করে এক ঝটকায়
দরজার বাইরে পালায়।
বাইরে বেরিয়েই দেখে শাশুড়ি-মা ঘর পরিষ্কার করছে। শাশুড়ি দৌড়ে আসে,
-আরে আমার নতুন বৌমা যে? আজ এত তাড়াতাড়ি উঠলে কেন?
-না, মা, সেটা কখনো হয়? আপনি উঠে পড়েছেন আর
আমি শুয়ে থাকব? আর এটাই যে আমার অভ্যেস।
-তুমি কত ছোট আর কত আদরের আমার বৌমা। তুমি এখনই কী কাজ করবে? তুমি এখন পড়াশোনা করবে। আমাদের সাথে গল্প করবে। এটাই আমি
চাই।
আদর ঝুঁকে পরে মাকে না ছুঁয়ে
নমস্কার করেই বাথরুমে গিয়ে ঢোকে,
-আমি এখনই আসছি মা...
হ্যাবলার মা হেসে মরে,
-দেখো আমার মেয়ের কাণ্ড? কী বুদ্ধি, কী শিক্ষা? খুবই লক্ষ্মীমতী।
হ্যাবলা কেবলই নতুন বৌয়ের
আশেপাশে ঘুরঘুর করে, ছুঁতে চায়, ধাক্কা দেয়। আদর আরও বেশি চালাক,
-এই যে আসছি মা।
বলেই এক ঝটকায় মায়ের কাছে ছুট
দেয়, আর হ্যাবলা ক্যাবলার মতো মুখ করে
দাঁড়িয়ে থাকে।
আরও একজন গোমড়া মুখে সব দেখে, সে হল ছোটো ভাই ভ্যাবলা। ভ্যাবলার খুবই ইচ্ছে ছিল বৌদিকে
নিয়ে গল্পগুজব করবে কিন্তু সে সুযোগই পাচ্ছে না। কী মুশকিল! দাদাভাই কি বৌদিকে নিজের সম্পত্তি ভাবছে?
রান্নাঘরে বৌদি আর মা রসিয়ে
গল্প জমিয়েছে। স্নান করার পর বৌদিকে আরও মিষ্টি লাগছে। ভ্যাবলা দৌড় লাগায়। মাকে
গিয়ে অভিযোগ করে,
-আচ্ছা মা, নতুন যিনি
এসেছেন এবাড়িতে উনি কি শুধু তোমার আর দাদার সাথেই কথা বলবে?
মা তো হতভম্ব!
-সে আবার কী রে?
আদর ভ্যাবলার কাছে এসে ওর
মাথার চুল এলোমেলো করে হাসতে থাকে,
-ওরে আমার সোনার দেওর,
আগে
তুমি তারপর মা, তারপর তোমার দাদা, এই হল আমার পছন্দের তালিকা, বুঝলে, ভাইটি আমার!
ভ্যাবলা বৌদির হাত ধরে টানে,
-তাহলে আগে এসে গল্প করো, নাহলে কিন্তু আমিও মায়ের কাছে বিয়ের বায়না করব, এই বলে রাখলুম কিন্তু…
মায়ের মাথায় হাত! আদরের চোখে
অবাক করা হাসি...
ক্রমশ

আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই পুরো সাহিত্য পরিবারকে। ধারাবাহিকটি উৎসর্গ করলাম সেই পরিবারের সমীপে 🙏
ReplyDeleteআন্তরিক ধন্যবাদ জানাই পুরো সাহিত্য পরিবারকে। ধারাবাহিকটি উৎসর্গ করলাম সেই পরিবারের সমীপে 🙏
ReplyDeleteভাল লাগল। মজাই মজা 😀
ReplyDelete