বাতায়ন/নারী না পুরুষ/গল্পাণু/৪র্থ
বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
সন্দীপন সাহা
অপূর্ণ আলো
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
সন্দীপন সাহা
অপূর্ণ আলো
"চিঠিটার ভাঁজে এখনো শুকিয়ে থাকা একটা কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি আটকে ছিল। রাহুল অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর নিঃশব্দে কাগজটা বুকের কাছে চেপে ধরল।"
একসময় এই মেয়েটাই বলেছিল,
রাহুল বিশ্বাস করেছিল।
ছোট্ট চায়ের দোকানে কাজ করেও সে স্বপ্ন দেখত। ভাবত, একদিন একটা ভালো চাকরি হবে, ছোট্ট ঘর হবে, জানালার পাশে টবের গাছ থাকবে। মেঘলা সন্ধ্যায় চা বানাবে, আর সে ক্লান্ত শরীরে ফিরে বলবে,
কিন্তু বাস্তব বড় নিষ্ঠুর।
মেঘলার বাবা প্রথমে কিছু বলেননি। পরে একদিন সরাসরি বলেছিলেন,
সেদিন রাহুল মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। কারণ প্রতিবাদ করার মতো অবস্থাও তার ছিল না। তার বাবার অসুখ, ঘরে ঋণ, নিজের অনিশ্চিত কাজ— সবকিছু মিলিয়ে সে নিজেকেই তখন বোঝা মনে করত।
তারপর ধীরে ধীরে মেঘলার ফোন কমে গেল। কথা কমে গেল। একদিন কাঁদতে কাঁদতেই মেঘলা বলেছিল,
আজ সেই হার মানার শেষ দিন।
বিয়ের গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার আগে একবার মেঘলা তাকিয়েছিল। সেই চোখে ভালোবাসা ছিল, কিন্তু সাহস ছিল না। সমাজের সামনে দরিদ্র ভালোবাসা খুব সহজেই হেরে যায়।
গাড়ি চলে গেল।
রাস্তার ধুলো উড়ে এসে রাহুলের মুখে লাগল। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,
স্টেশনের মাইক তখন ঘোষণা করছিল অন্য কোনো ট্রেনের নাম। অথচ রাহুলের মনে হচ্ছিল, চলে গেল শুধু একটা ট্রেন নয়— তার পুরো জীবনটাই।
পকেট থেকে ধীরে ধীরে একটা পুরোনো কাগজ বের করল সে। মেঘলার হাতে লেখা ছোট্ট চিঠি— ‘যেদিন তুমি নিজের পায়ে দাঁড়াবে, সেদিন আমায় নিয়ে যেও।’
চিঠিটার ভাঁজে এখনো শুকিয়ে থাকা একটা কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি আটকে ছিল। রাহুল অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর নিঃশব্দে কাগজটা বুকের কাছে চেপে ধরল।
কিছু ভালোবাসা মৃত্যুতে শেষ হয় না, শেষ হয় অসহায়তায়।
যেখানে মানুষ হারে না— হেরে যায় তার অভাব, তার দারিদ্র্য, তার অসমর্থতা।
~~000~~

No comments:
Post a Comment