বাতায়ন/ধারাবাহিক/২য়
বর্ষ/সৈয়দ হাসমত জালাল সংখ্যা/২১শে বৈশাখ, ১৪৩১
ধারাবাহিক গল্প
সুনন্দিনী শুক্লা
বিস্মৃতবীর
[৩য় পর্ব]
পূর্বানুবৃত্তি
অহীন্দ্র, মনোজিৎ আর স্বর্ণেন্দু তমলুকের জীর্ণ একটা চায়ের দোকানে চা খেতে বসে
বৃদ্ধ চা-দোকানির কাছে কথায় কথায় গল্প শুনতে বসে। বৃদ্ধের মুখে ব্রিটিশ আমলের,
সূর্য সেনের রোমাঞ্চকর গল্প শুনতে বসে ওরা সকলেই উত্তেজনায় বুঁদ হয়ে গেল। তারপর…
দারুণ ভাব হয়ে গেল সতীশদার সাথে সে যে কী লোক কী বলব। একদিন ওনার কাছে না গেলে প্রাণ আনচান করত। কলেজের ক্লাস করতাম দিনের বেলা সন্ধেবেলা
দারুণ ভাব হয়ে গেল সতীশদার সাথে সে যে কী লোক কী বলব। একদিন ওনার কাছে না গেলে প্রাণ আনচান করত। কলেজের ক্লাস করতাম দিনের বেলা সন্ধেবেলা
ওনার টালির ঘরে বসে ওনার মুখে শুনতাম
আইরিশ বিপ্লবের কথা।
Vow to thee my country, all earthly things above
Entire and whole and perfect, the service of my love
The love that asks no question, the love that stands the test
That lays upon the alter, the dearest and best
The love that never falters, the love that pays the price
The love that makes understand, the final sacrifice
সূর্যদা আমার হাতটা মুঠো করে চেপে ধরত সেই সময়।
কী সুন্দর ইতিহাস পড়াতেন সতীশদা। আইরিশ বিপ্লবী মিচেলের কথা বলতে গিয়ে ওনার মুখমণ্ডল রক্তরাঙা হয়ে উঠত। মিচেলের উদাত্ত বাণী শত শত আইরিশ যুবককে উদ্বুদ্ধ করেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ দেওয়ার জন্য -
"Oh my countrymen, look up! look up! Rise from the death-dust, where you have long been lying and let this light visit your eyes also and touch your souls. Let your ears drink, in the blessed world. liberty! fraternity! equality!"
নলিনাক্ষ আমাদের চোখে খুব সম্মানের পাত্র হয়ে উঠেছিল। সূর্যদার সাথে হাঁটতে হাঁটতে একদিন বলছিল
- একদিন দেশ স্বাধীন হবেই, নিশ্চিত।
পরদিন সূর্যদা সতীশদার কাছে সংশয় প্রকাশ করেছিল
- Mighty British force, তার সাথে আমরা লড়ব কী করে?
সতীশদা হেসে বলেছিলেন
- জ্বলন্ত বিশ্বাস! স্বামীজীর কথা মনে কর। এই জ্বলন্ত বিশ্বাস নিয়েই তো শুরু করতে হবে। আমার গুরু ছিলেন অতুলদা। অতুলদা আমাকে বারবার বিবেকানন্দের একটা কথা কানে ঢুকিয়ে দিতেন - life is a mission. খাওয়াপরা সম্ভোগ নিয়ে জীবন নয়। খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবে এই জীবন যেটা তুমি পেয়েছ সেটা নিয়ে কী করবে তুমি। অতুলদা যুবক বয়সে আমাকে যে আগুনের স্পর্শ করিয়ে শুদ্ধ করিয়েছিলেন সেই আগুন আমি তোমাদের সবাইকে ছুঁইয়ে দিতে চাই। তোমরা সবাই শুদ্ধ হও। খাঁটি সোনার মতো হও।
সূর্যদার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেছিলাম ওর ঠোঁটগুলো তিরতির করে কাঁপছে।
সতীশদা বলে চললেন
- ক্ষাত্রতেজ চাই সূর্য। যা ছিল যতীনদার। মৃত্যুর আগে টেগার্টকে কী বলেছিলেন? "Tell the people of Bengal that Chitrapriya and I sacrificed our lives in vindicating the honour of Bengal."
যতীনদা প্রায় আবৃত্তি করতেন-
None but the brave
None but the brave
None but the brave
Deserves the fair!
দুই বছরেই বহরমপুর যে আপনার হয়ে যাবে তা নিজের কাছেই অজানা ছিল। যথা নিয়মে একদিন কলেজের পাট শেষ হলো। সব বন্ধুদের চোখের জল, শিক্ষকদের আশীর্বাদ, আর সতীশদার দেওয়া অনেকখানি সাহস, অনেকখানি স্বপ্ন নিয়ে আমরা সবাই আবার ফিরে এলাম।
উমাতারা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন সূর্যদা। আমার বাবার ছিল পুরনো বস্ত্র বিপণী। আমি পারিবারিক ব্যবসা সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। অল্পদিনে ছাত্রদের কাছে মাস্টারমশাই থেকে দাদা হয়ে উঠলেন তিনি। সুকুমার দলিলুর রাখালদের কাছে অচিরেই হয়ে উঠলেন 'মাস্টারদা'। কর্ণফুলীর নদীর বুকে নৌকার উপর বসত সংগীতের আসর। ছাত্রদের সাথে মাস্টারদা গলা ছেড়ে গাইতেন -'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।'
হঠাৎ নিস্তরঙ্গ জীবনে ছন্দপতন। নিষ্ঠুর নির্মম জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনা স্তম্ভিত করে দিয়েছিল দেশবাসীকে। পরদিন মাস্টারদা ক্লাস নিতে ঢুকে দেখেন সবাই জড়ো হয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।
- কী রে তোরা সব এখানে দাঁড়িয়ে কেন? ক্লাস শুরু করবি না?
দলিলুর বলল - মাস্টারদা ক্লাস করব না আজ।
- তাহলে কী করবি?
প্রতিবাদ সভা করব। আপনি অনুমতি দিন। আপনিও কিছু বলুন।
সূর্যদার বুকের ভেতরটা শিরশির করে উঠেছিল। একসময় তো সেও হেমেন্দ্রবাবুর কাছে এই একই আবদার করেছিল- প্রতিবাদ সভা করব। সেই লেগ্যাসি আজ পুনরায় ফিরে এসেছে দলিলুর রাখাল সুকুমারদের হাত ধরে। অনুমতি দিলেন মাস্টারদা। উমাতারা হাই স্কুলের মাঠে প্রতিবাদ সভার আয়োজন হলো মাস্টারদা বক্তব্য রাখলেন। সবাই মিলে উপবাস রাখলেন সেই দিনটা।
মাস্টারদার মনে অনেকদিন থেকেই পরিকল্পনা ছিল বিপ্লবী সংগঠন তৈরি করার। একদম রেজিমেন্টেড সংগঠন। একজন যোগ্য নেতার নির্দেশে প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর মতো সবাই কাজ করবে। আস্তে আস্তে মাস্টারদার সাথে এসে মিলিত হলেন জুলু সেন, নির্মল সেন, অনুরূপ সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, চারুবিকাশ দত্ত। তৈরি হলো সাম্যাশ্রম। উপরে দেখতে আধ্যাত্মিক আশ্রম, ভেতরে ভেতরে বিপ্লবী কার্যকলাপ। অনুরূপ সেন কনস্টিটিউশন তৈরি করলেন। এই নির্দেশনামা দলের প্রত্যেক সংগঠককে মেনে চলতে হবে। Anybody who will violet the fundamentals of this constitution shall be done away with.
অনন্তদার সাথে যখন প্রথম সূর্যদার দেখা হল সেই সময়টা ছিল স্মরণীয়। রোগাভোগা মাস্টারদাকে দেখে অনন্তদা মুখ বেঁকিয়ে ফেলল। মাস্টারদা ফিক করে হেসে বললেন
- হতাশ হয়েছ তো?
- তোমার কাছে বন্দুক আছে?
- নেই।
আরো মুষড়ে পড়ে অনন্ত।
- তুমি সাহেব মেরেছ?
- আমি এখনো কিছুই করে উঠতে পারিনি যাতে তুমি খুশি হও।
বিমর্ষ হলেও অনন্তর ভাল লাগল। কী সহজ সরল সত্য কথা বলেন মানুষটা। রোজ রোজ আসত সে। মাস্টারদা আস্তে আস্তে ওকে বোঝালেন - শুধু অস্ত্র পেলে হবে না অনন্ত, অস্ত্র ঠিকঠাক চালাতে জানে এমন মানুষও তো দরকার।
একদিন গণেশকে নিয়ে হাজির হল অনন্তদা।
গণেশ বলল - আমি ইংরেজ তাড়িয়ে দেবো এই দেশ থেকে।
মাস্টারদা কৌতুক করে বললেন- কেন? ইংরেজের সময় দেশের কত উন্নতি হয়েছে বলো তো! কলকারখানা আধুনিক শিক্ষা নগর বন্দর এতকিছু, তার পরেও তোমরা তাড়াতে চাও? এটা কি অন্যায় নয়? নিমকহারামি নয়?
গণেশ ভাল করে গুছিয়ে কথা বলতে পারত না। ওর মনে জমাট বেঁধে থাকা ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম ও পেল না। শুধু দু চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল। মুখটা লাল হয়ে উঠল। কিন্তু কিছু বলে উঠতে পারল না। মাস্টারদা উঠে গিয়ে দুচোখ মুছিয়ে বুকে টেনে নিলেন।
Vow to thee my country, all earthly things above
Entire and whole and perfect, the service of my love
The love that asks no question, the love that stands the test
That lays upon the alter, the dearest and best
The love that never falters, the love that pays the price
The love that makes understand, the final sacrifice
সূর্যদা আমার হাতটা মুঠো করে চেপে ধরত সেই সময়।
কী সুন্দর ইতিহাস পড়াতেন সতীশদা। আইরিশ বিপ্লবী মিচেলের কথা বলতে গিয়ে ওনার মুখমণ্ডল রক্তরাঙা হয়ে উঠত। মিচেলের উদাত্ত বাণী শত শত আইরিশ যুবককে উদ্বুদ্ধ করেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ দেওয়ার জন্য -
"Oh my countrymen, look up! look up! Rise from the death-dust, where you have long been lying and let this light visit your eyes also and touch your souls. Let your ears drink, in the blessed world. liberty! fraternity! equality!"
নলিনাক্ষ আমাদের চোখে খুব সম্মানের পাত্র হয়ে উঠেছিল। সূর্যদার সাথে হাঁটতে হাঁটতে একদিন বলছিল
- একদিন দেশ স্বাধীন হবেই, নিশ্চিত।
পরদিন সূর্যদা সতীশদার কাছে সংশয় প্রকাশ করেছিল
- Mighty British force, তার সাথে আমরা লড়ব কী করে?
- জ্বলন্ত বিশ্বাস! স্বামীজীর কথা মনে কর। এই জ্বলন্ত বিশ্বাস নিয়েই তো শুরু করতে হবে। আমার গুরু ছিলেন অতুলদা। অতুলদা আমাকে বারবার বিবেকানন্দের একটা কথা কানে ঢুকিয়ে দিতেন - life is a mission. খাওয়াপরা সম্ভোগ নিয়ে জীবন নয়। খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবে এই জীবন যেটা তুমি পেয়েছ সেটা নিয়ে কী করবে তুমি। অতুলদা যুবক বয়সে আমাকে যে আগুনের স্পর্শ করিয়ে শুদ্ধ করিয়েছিলেন সেই আগুন আমি তোমাদের সবাইকে ছুঁইয়ে দিতে চাই। তোমরা সবাই শুদ্ধ হও। খাঁটি সোনার মতো হও।
সূর্যদার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেছিলাম ওর ঠোঁটগুলো তিরতির করে কাঁপছে।
সতীশদা বলে চললেন
- ক্ষাত্রতেজ চাই সূর্য। যা ছিল যতীনদার। মৃত্যুর আগে টেগার্টকে কী বলেছিলেন? "Tell the people of Bengal that Chitrapriya and I sacrificed our lives in vindicating the honour of Bengal."
যতীনদা প্রায় আবৃত্তি করতেন-
None but the brave
None but the brave
None but the brave
Deserves the fair!
দুই বছরেই বহরমপুর যে আপনার হয়ে যাবে তা নিজের কাছেই অজানা ছিল। যথা নিয়মে একদিন কলেজের পাট শেষ হলো। সব বন্ধুদের চোখের জল, শিক্ষকদের আশীর্বাদ, আর সতীশদার দেওয়া অনেকখানি সাহস, অনেকখানি স্বপ্ন নিয়ে আমরা সবাই আবার ফিরে এলাম।
উমাতারা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন সূর্যদা। আমার বাবার ছিল পুরনো বস্ত্র বিপণী। আমি পারিবারিক ব্যবসা সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। অল্পদিনে ছাত্রদের কাছে মাস্টারমশাই থেকে দাদা হয়ে উঠলেন তিনি। সুকুমার দলিলুর রাখালদের কাছে অচিরেই হয়ে উঠলেন 'মাস্টারদা'। কর্ণফুলীর নদীর বুকে নৌকার উপর বসত সংগীতের আসর। ছাত্রদের সাথে মাস্টারদা গলা ছেড়ে গাইতেন -'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।'
হঠাৎ নিস্তরঙ্গ জীবনে ছন্দপতন। নিষ্ঠুর নির্মম জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনা স্তম্ভিত করে দিয়েছিল দেশবাসীকে। পরদিন মাস্টারদা ক্লাস নিতে ঢুকে দেখেন সবাই জড়ো হয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।
- কী রে তোরা সব এখানে দাঁড়িয়ে কেন? ক্লাস শুরু করবি না?
দলিলুর বলল - মাস্টারদা ক্লাস করব না আজ।
- তাহলে কী করবি?
প্রতিবাদ সভা করব। আপনি অনুমতি দিন। আপনিও কিছু বলুন।
সূর্যদার বুকের ভেতরটা শিরশির করে উঠেছিল। একসময় তো সেও হেমেন্দ্রবাবুর কাছে এই একই আবদার করেছিল- প্রতিবাদ সভা করব। সেই লেগ্যাসি আজ পুনরায় ফিরে এসেছে দলিলুর রাখাল সুকুমারদের হাত ধরে। অনুমতি দিলেন মাস্টারদা। উমাতারা হাই স্কুলের মাঠে প্রতিবাদ সভার আয়োজন হলো মাস্টারদা বক্তব্য রাখলেন। সবাই মিলে উপবাস রাখলেন সেই দিনটা।
মাস্টারদার মনে অনেকদিন থেকেই পরিকল্পনা ছিল বিপ্লবী সংগঠন তৈরি করার। একদম রেজিমেন্টেড সংগঠন। একজন যোগ্য নেতার নির্দেশে প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর মতো সবাই কাজ করবে। আস্তে আস্তে মাস্টারদার সাথে এসে মিলিত হলেন জুলু সেন, নির্মল সেন, অনুরূপ সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, চারুবিকাশ দত্ত। তৈরি হলো সাম্যাশ্রম। উপরে দেখতে আধ্যাত্মিক আশ্রম, ভেতরে ভেতরে বিপ্লবী কার্যকলাপ। অনুরূপ সেন কনস্টিটিউশন তৈরি করলেন। এই নির্দেশনামা দলের প্রত্যেক সংগঠককে মেনে চলতে হবে। Anybody who will violet the fundamentals of this constitution shall be done away with.
অনন্তদার সাথে যখন প্রথম সূর্যদার দেখা হল সেই সময়টা ছিল স্মরণীয়। রোগাভোগা মাস্টারদাকে দেখে অনন্তদা মুখ বেঁকিয়ে ফেলল। মাস্টারদা ফিক করে হেসে বললেন
- হতাশ হয়েছ তো?
- তোমার কাছে বন্দুক আছে?
- নেই।
আরো মুষড়ে পড়ে অনন্ত।
- তুমি সাহেব মেরেছ?
- আমি এখনো কিছুই করে উঠতে পারিনি যাতে তুমি খুশি হও।
বিমর্ষ হলেও অনন্তর ভাল লাগল। কী সহজ সরল সত্য কথা বলেন মানুষটা। রোজ রোজ আসত সে। মাস্টারদা আস্তে আস্তে ওকে বোঝালেন - শুধু অস্ত্র পেলে হবে না অনন্ত, অস্ত্র ঠিকঠাক চালাতে জানে এমন মানুষও তো দরকার।
একদিন গণেশকে নিয়ে হাজির হল অনন্তদা।
গণেশ বলল - আমি ইংরেজ তাড়িয়ে দেবো এই দেশ থেকে।
মাস্টারদা কৌতুক করে বললেন- কেন? ইংরেজের সময় দেশের কত উন্নতি হয়েছে বলো তো! কলকারখানা আধুনিক শিক্ষা নগর বন্দর এতকিছু, তার পরেও তোমরা তাড়াতে চাও? এটা কি অন্যায় নয়? নিমকহারামি নয়?
গণেশ ভাল করে গুছিয়ে কথা বলতে পারত না। ওর মনে জমাট বেঁধে থাকা ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম ও পেল না। শুধু দু চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল। মুখটা লাল হয়ে উঠল। কিন্তু কিছু বলে উঠতে পারল না। মাস্টারদা উঠে গিয়ে দুচোখ মুছিয়ে বুকে টেনে নিলেন।
ক্রমশ…

No comments:
Post a Comment