প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Friday, September 27, 2024

শারদ | ভাষা | শিশির আজম

বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/প্রবন্ধ/২য় বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/শারদ/১১ই আশ্বিন, ১৪৩১

শারদ | প্রবন্ধ

শিশির আজম

ভাষা


"সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের বাহক ইংরেজি ভাষাটাও ছিল। এই ভাষার ভিতর ছিল বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির রাক্ষস। যা আদিবাসীদের প্রাচীন সভ্যতাভাষা-সংস্কৃতিকে গিলে খেয়েছে। ওদের করে তুলেছে পরনির্ভরশীলশেকড়চ্যুত। কিন্তু এই দেয়াল এখন নড়বড়ে।"


ভাষা এক বহমান স্রোত। ইংরেজির মতো বাংলারও গ্রহনক্ষমতা বেশি। আজকের ইংরেজি ভাষায় ৭০ শতাংশের বেশি শব্দই অন্য ভাষা থেকে গ্রাস করা। এতে ইংরেজি সমৃদ্ধ হয়েছে। এভাবে বাংলাও পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষায় পরিণত হযেছে কালের পরিক্রমায়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ফারসি বা স্প্যানিশের মতো বাংলা কখনও রাজদরবারের ভাষা ছিল না। এই জনপদের সাধারণ মানুষই বাংলার প্রাণ। ফলে সাধারণ মানুষই বাংলাকে বাঁচিয়ে রাখবে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হবার 
কিছু নেই। বাংলা বরং দিনদিন আগ্রাসী হয়ে উঠছে। এ ব্যাপারে প্রভাবশালী মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী নোম চমস্কি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। ওর মতে, সংস্কৃত, রোমান ও গ্রিক ভাষার পর বাংলা একমাত্র ভাষা যা ক্রিয়াভিত্তিক শব্দার্থবিধি মেনে গঠিত হয়েছে। ইংরেজি, ফরাসিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভাষাগুলো মূলত প্রতীকভিত্তিক অনুশাসন মেনে গঠিত। এই ভাষাগুলোতে একেকটি শব্দের নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। কিন্তু বাংলায় একেকটি শব্দের গঠনপক্রিয়ায় এই জনপদের মানুষের সংস্কৃতি অর্থাৎ খাদ্য, পোশাক-আশাক, সংগীত, ধর্মাচরণ, উৎসব প্রভৃতির লক্ষণ বা আঁচ নিহীত থাকে। এই ভাষা উর্দুর মতো ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসেনি। সাধারণ মানুষই এই ভাষাকে লালন করে। মিশেল ফুকোর ডিকনস্ট্রাশন তত্ত্বেও এর ব্যাখ্যা আছে। বিখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক রণজিৎ গুহ, হোমি ভাবা ও গায়ত্রি চক্রবর্তী স্পিভাক তাদের গবেষণায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাদের নিম্নবর্গের খতিয়ান আমাদের ভাবাচ্ছে। ভাষা কীভাবে সাম্রাজ্যবাদের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এডয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। প্রাচ্য কীভাবে নিজেকে দেখবে তা পাশ্চাত্যই ঠিক করে দেয়। কালো যে খারাপ, এটা আমরা মেনে নিয়েছি। কার পশ্চিম সাদা। অনেক পরে অবশ্য কবি টেড হিউজ 'দ্য ক্রো' লিখেছেন। কালোদের গলা উনি শুনতে পেয়েছেন। পিট সিগার আর জর্জ হ্যারিসন তো কালোদেরই কন্ঠস্বর বলা যায়। কিন্তু মোটা দাগে, পশ্চিম মনে করে প্রাচ্য কথা বলতে পারে না। পশ্চিমের দায়িত্ব প্রাচ্য কী বলবে তা নির্ধারণ করে দেয়া। প্রাচ্য যেহেতু অসভ্য তাই প্রাচ্যকে সভ্য বানানো পশ্চিমের নৈতিক দায়িত্বও। এক্ষেত্রে ভাষা একটা বড় মাধ্যম, বলা যায় অস্ত্র। আদিবাসী ল্যাতিন আমেরিকানরা এখন স্প্যানিশ আর পর্তুগিজ বলে। কার সভ্য পশ্চিম ওদের ওই ভাষা শিখিয়েছে। ইংরেজরা আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানদের শিখিয়েছে ইংরেজি। ইংরেজরা যখন উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছে তখন তাদের হাতে বাইবেল আর বন্দুক তো ছিলই, সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের বাহক ইংরেজি ভাষাটাও ছিল। এই ভাষার ভিতর ছিল বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির রাক্ষস। যা আদিবাসীদের প্রাচীন সভ্যতা, ভাষা-সংস্কৃতিকে গিলে খেয়েছে। ওদের করে তুলেছে পরনির্ভরশীল, শেকড়চ্যুত। কিন্তু এই দেয়াল এখন নড়বড়ে। ফলে আমাদের আতঙ্কিত বা উচ্চাকাঙ্খী কোনটাই হবার দরকার নেই। ভাষা নিজের গতিতে চলবে।
 

***

1 comment:

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)