বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/ছোটগল্প/২য়
বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/শারদ/১১ই আশ্বিন, ১৪৩১
শারদ | ছোটগল্প
সুমিতা চৌধুরী
সার্থকনামা উপন্যাস
"পুলিশ ইন্সপেক্টর বারবার এভিডেন্সের কথা জানতে চেয়েও অক্ষম হলো দিপ্তীর মানসিক দৃঢ়তা আর দৃপ্ত স্বরের কাছে। সে বলল, সে নিজে উকিল হিসেবে নিজেই নিজের কেসটা লড়বে, তখন তাঁরা সব জানতেই পারবেন, কিন্তু তার আগে অবধি নয়।"
পর্ব- ১
দীপ্তির যখন জ্ঞান ফিরল
তখন সে হসপিটালের বেডে,
আইসিইউ-তে। সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা। এমনকি চোখ খুলেও ভাল করে
তাকাতে পারছে না সে। তবু, চোখ পুরোপুরি বোজার আগেই কয়েকটা
মুখ ঝুঁকে পড়ল তার উপর।
"মিস সেন, শুনতে পাচ্ছেন আমার কথা? মিস সেন..."
ডাক্তারের ডাকে আধবোজা চোখটা আবার খোলার চেষ্টা করল দীপ্তি।
"এখন কী অসুবিধা হচ্ছে? কোথায় কষ্ট হচ্ছে? বলতে পারবেন?"
অসহায়তায় দীপ্তির ঘোলাটে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
"ওকে, ওকে। আই আণ্ডারস্ট্যাণ্ড। ইউ আর এ স্ট্রং ফাইটার। আই নো ইউ উইল রিকোভার সুন। দুদিন ধরে আপনার বাড়ির লোক ওয়েট করছে, আপনাকে দেখার জন্য। আমি ওনাদের পাঠাচ্ছি আপনাকে একবার দেখে যাওয়ার জন্য। বাট, নো এক্সসাইটমেন্ট। বি কুল, বি পেশেন্স।"
"সিস্টার পাঠান ওনাদের। আগেই বলে দেবেন, ওনলি ফাইভ মিনিটস। কোনো কথা নয়, স্রেফ দেখা করার পারমিশন দিয়েছি আমি।"
বেশ কিছুটা দূর থেকে বাবা, মা আর চন্দনকে বড়ো ঝাপসা লাগল, চোখের বহমান ধারায়।
পর্ব-২
"বলুন ম্যাম, ঠিক কী ঘটেছিল ঐদিন।"
"আমি কোর্টের কাজ সেরে ফিরছিলাম। বাস থেকে নামার পর গলিটায় ঢুকতেই দেখি রাস্তার আলোটা জ্বলছে না। একটু হাঁটার পরই কেমন অস্বস্তি হতে লাগল। কেউ যেন পিছু নিয়েছে। কিন্তু বার দুয়েক পিছনে ফিরে দেখেও কিছুই দেখতে পেলাম না অন্ধকারে। হঠাৎই মাথার পিছনে একটা প্রচণ্ড আঘাত, আর কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরল দেখলাম আমি একটা গোডাউনে আটক হাত-পা বাঁধা অবস্থায়। তারপরই চার-পাঁচটা ছেলের সাথে আমাদের কাউন্সিলরের ভাই অর্পণ ঝাকে দেখলাম খুব বিশ্রীভাবে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। গা-টা গুলিয়ে উঠল। আমি চিৎকার করে বললাম, "ভয় পেয়েছেন, আপনার নারী পাচার চক্রের সব এভিডেন্স আমার হাতে চলে এসেছে বলে? তাই এই ব্যবস্থা?"
এরপর উনি হাতের ইশারায়
আমাকে চুপ করতে বলতেই একজন আমার মুখে একদলা কাপড় গুঁজে, লিউকোপ্লাস
লাগিয়ে দিল। তারপর উনি বললেন, "আমি ভয় পেতে নয়,
ভয় পাওয়াতে ভালবাসি।"
আর ওনার চোখের ইশারাতেই
শুরু হয়ে গেল আমার ওপর পৈশাচিক অত্যাচার। একের পর এক পাঁচজন মিলে আমায়... রেপ
করল। একদম শেষে অর্পণ ঝা-ও। তখন আর আমার প্রায় জ্ঞান নেই। তারপর জ্ঞান ফিরল এই
হসপিটালের আইসিইউ-তে।"
"অর্পণবাবু কেন করলেন এমন?"
"ওনার একটা এনজিও আছে। যার আড়ালে নারী পাচার চক্রের ব্যবসা চলে। ওর এনজিওর কয়েকটি মেয়ে আমার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে সবটা জানায়। আমি তখন নানাভাবে এভিডেন্স জোগাড় করে ওর এগেইনস্টে কেস ফাইল করি। আর ঠিক তার একদিন পরই এই ঘটনা ঘটে।"
"এভিডেন্সগুলো আছে?"
"সেটা আমি আদালতেই বলব। আপনারা আমার রেপ কেসের ইনভেস্টিগেশনে এসেছেন। সেটা সব জানালাম। বাকিটা আদালতকেই জানাব।"
ডাক্তারের ডাকে আধবোজা চোখটা আবার খোলার চেষ্টা করল দীপ্তি।
"এখন কী অসুবিধা হচ্ছে? কোথায় কষ্ট হচ্ছে? বলতে পারবেন?"
অসহায়তায় দীপ্তির ঘোলাটে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
"ওকে, ওকে। আই আণ্ডারস্ট্যাণ্ড। ইউ আর এ স্ট্রং ফাইটার। আই নো ইউ উইল রিকোভার সুন। দুদিন ধরে আপনার বাড়ির লোক ওয়েট করছে, আপনাকে দেখার জন্য। আমি ওনাদের পাঠাচ্ছি আপনাকে একবার দেখে যাওয়ার জন্য। বাট, নো এক্সসাইটমেন্ট। বি কুল, বি পেশেন্স।"
"সিস্টার পাঠান ওনাদের। আগেই বলে দেবেন, ওনলি ফাইভ মিনিটস। কোনো কথা নয়, স্রেফ দেখা করার পারমিশন দিয়েছি আমি।"
বেশ কিছুটা দূর থেকে বাবা, মা আর চন্দনকে বড়ো ঝাপসা লাগল, চোখের বহমান ধারায়।
"আমি কোর্টের কাজ সেরে ফিরছিলাম। বাস থেকে নামার পর গলিটায় ঢুকতেই দেখি রাস্তার আলোটা জ্বলছে না। একটু হাঁটার পরই কেমন অস্বস্তি হতে লাগল। কেউ যেন পিছু নিয়েছে। কিন্তু বার দুয়েক পিছনে ফিরে দেখেও কিছুই দেখতে পেলাম না অন্ধকারে। হঠাৎই মাথার পিছনে একটা প্রচণ্ড আঘাত, আর কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরল দেখলাম আমি একটা গোডাউনে আটক হাত-পা বাঁধা অবস্থায়। তারপরই চার-পাঁচটা ছেলের সাথে আমাদের কাউন্সিলরের ভাই অর্পণ ঝাকে দেখলাম খুব বিশ্রীভাবে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। গা-টা গুলিয়ে উঠল। আমি চিৎকার করে বললাম, "ভয় পেয়েছেন, আপনার নারী পাচার চক্রের সব এভিডেন্স আমার হাতে চলে এসেছে বলে? তাই এই ব্যবস্থা?"
"অর্পণবাবু কেন করলেন এমন?"
"ওনার একটা এনজিও আছে। যার আড়ালে নারী পাচার চক্রের ব্যবসা চলে। ওর এনজিওর কয়েকটি মেয়ে আমার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে সবটা জানায়। আমি তখন নানাভাবে এভিডেন্স জোগাড় করে ওর এগেইনস্টে কেস ফাইল করি। আর ঠিক তার একদিন পরই এই ঘটনা ঘটে।"
"এভিডেন্সগুলো আছে?"
"সেটা আমি আদালতেই বলব। আপনারা আমার রেপ কেসের ইনভেস্টিগেশনে এসেছেন। সেটা সব জানালাম। বাকিটা আদালতকেই জানাব।"
পুলিশ ইন্সপেক্টর বারবার এভিডেন্সের কথা জানতে চেয়েও অক্ষম হলো দিপ্তীর মানসিক দৃঢ়তা আর দৃপ্ত স্বরের কাছে। সে বলল, সে নিজে উকিল হিসেবে নিজেই নিজের কেসটা লড়বে, তখন তাঁরা সব জানতেই পারবেন, কিন্তু তার আগে অবধি নয়।
পর্ব- ৩
ডক্টর অয়ন মিত্র, “চন্দন, আপনাকে এবার আপনার নামটা স্বার্থক করে তুলতে হবে। আজ আপনাকে ওর সবথেকে বেশি প্রয়োজন, একজন বন্ধু হিসেবে, ভালবাসার মানুষ হিসেবে। ওর শরীরের ক্ষত হয়তো অনেকটাই আমরা সারিয়ে তুলেছি, কিন্তু মনের ক্ষতটা তার থেকে অনেক বেশি। তাতে আপনাকে ভালবাসার চন্দনের প্রলেপ লাগাতে হবে। এখনও দীর্ঘ পথ বাকি। দীর্ঘ লড়াই বাকি। যেখানে বারবার মনের ক্ষততে রক্তক্ষরণ হবে ওনার, আর ঠিক ততবারই আপনাকেই যত্ন করে সেই ক্ষত ভরতে হবে। হয়তো আজীবন। বলাটা সহজ, করাটা খুব কঠিন। সেই জায়গাটাই আপনাকে নিতে হবে। ভালবাসা সব অসাধ্যসাধন করতে পারে। আমার শুভেচ্ছা রইল। আপনি এবার ওনাকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। অল দ্য বেস্ট ফর বোথ অফ ইওর ফিউচার লাইফ।"
চন্দনের মনে বাজতে থাকল দীপ্তির গাওয়া গানের কলিটা, "তুম আগর আন্ধেরোমে না ছোড়না মেরা হাত..."
চন্দনের মনে হলো, এক জীবনে দিন বলে যায় কতই না জানা-অজানা গল্প। যার সবটা নিয়ে রচিত হয় এক জীবন উপন্যাস। সে কোথাও যেন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, দীপ্তির উপন্যাসটা অন্ধকার থেকে আলোয় ভরিয়ে তোলার, দীপ্তির নামকে স্বার্থক করে।
সমাপ্ত

সার্থক _এইটা সঠিক বানান।
ReplyDelete