বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/ছোটগল্প/২য়
বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/শারদ/১১ই আশ্বিন, ১৪৩১
শারদ | ছোটগল্প
ডরোথী ভট্টাচার্য
রাজপথ
"আমার নিষ্পাপ কুমারীত্বকে তাদের লালসার শরীর দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে। আমি চিরনিদ্রায় শুয়ে সব অনুভব করতে পারছি কিন্তু কিছু করতে পারছিনা মা। বিদায় পৃথিবী, তোমার রূপ, রস, গন্ধকে আমি প্রাণ ভরে উপভোগ করতে চেয়েছিলাম, আমার ভালবাসার মানুষটাকে আমার কুমারী শরীরটাকে নৈবেদ্য দেব বলে সবার থেকে আড়াল করে রেখেছিলাম কিন্তু পারলাম না।"
একনাগাড়ে ছত্রিশ ঘণ্টা হাসপাতালের ওয়ার্ডে ডিউটি দিয়ে
ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। এবার অনলাইনে কিছু খাবার আনতে দিয়েছি, খেয়ে একটু বিশ্রাম নেব। ওই তো খাবার এসে গেছে। আয় চটপট খেয়ে নিই। আজকের খাবারটা খুব টেষ্টি
বানিয়েছে তাই না? খেয়ে বেশ তৃপ্তি পেলাম। চল এবার যার যার
জায়গামতো গিয়ে একটু ঘুমিয়ে নেবার চেষ্টা করি।
ওরা যার যার জায়গায় চলে গেল এবার আমি সেমিনার হলে ব্ল্যাঙ্কেটটা গায়ে টেনে নিয়ে একটু শুয়ে পড়ি। আহ্ দুচোখ জুড়ে ঘুম নেমে আসছে। চারদিক কেমন যেন নিঝুম হয়ে গেছে। কী শান্তি! এই জগৎ, সংসার সব কিছুকে ছাপিয়ে ঘুম যেন বড় তৃপ্তির জিনিস!
ওরা যার যার জায়গায় চলে গেল এবার আমি সেমিনার হলে ব্ল্যাঙ্কেটটা গায়ে টেনে নিয়ে একটু শুয়ে পড়ি। আহ্ দুচোখ জুড়ে ঘুম নেমে আসছে। চারদিক কেমন যেন নিঝুম হয়ে গেছে। কী শান্তি! এই জগৎ, সংসার সব কিছুকে ছাপিয়ে ঘুম যেন বড় তৃপ্তির জিনিস!
এ কী? কারা যেন আমার চারপাশে ঘুরঘুর করছে? ওদের
নিঃশ্বাসপ্রশ্বাসে যেন বিষ, ওদের কুটিল চাউনি যেন আমাকে
আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে রেখেছে কিন্তু আমি তো সব অনুভব করলেও কিছু
করতে পারছি না। মা, ঘুমের মধ্যেও আমি বুঝতে পারছি কারা যেন
আমার গলাটা সজোরে চেপে ধরেছে, আমার কলার বোন বীভৎস চাপে ভেঙে
গেছে, আমার চোখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে
আসছে। কারা যেন আমার শরীরটাকে আঁচড়ে কামড়ে, আমার নিষ্পাপ
কুমারীত্বকে তাদের লালসার শরীর দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে। আমি চিরনিদ্রায়
শুয়ে সব অনুভব করতে পারছি কিন্তু কিছু করতে পারছিনা মা। বিদায় পৃথিবী, তোমার রূপ, রস, গন্ধকে আমি
প্রাণ ভরে উপভোগ করতে চেয়েছিলাম, আমার ভালবাসার মানুষটাকে
আমার কুমারী শরীরটাকে নৈবেদ্য দেব বলে সবার থেকে আড়াল করে রেখেছিলাম কিন্তু
পারলাম না।
এখন চারপাশে কত ভিড়, কত জটলা, কত
পুলিশ। তার মধ্যে ওরা আমাকে গাড়িতে করে টেনে নিয়ে চলেছে তাড়াতাড়ি করে আমার
শরীরটাকে চুল্লির আগুনে ছাই করে দেবে বলে। আমি তিলোত্তমা, চুল্লির
আগুনে আমার দেহটা ভস্ম হয়ে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু আমার প্রতিবাদী চেতনাকে কেউ ভস্ম করতে পারবে না।
এখন আমি রাজপথে, হাজার হাজার মানুষের কণ্ঠস্বরের মধ্যে। যে শয়তান আর
দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষগুলো এই সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে ঘুঘুর বাসা হয়ে বছরের পর বছর
ধরে জঘন্য নারকীয় অপরাধ করে চলেছে তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে মশাল জ্বালিয়ে রাখা
মানুষগুলোর সাথে আমিও অলক্ষ্যে থেকে চিৎকার করে গলা মেলাচ্ছি। মিছিলে রয়েছে
অসংখ্য ছাত্রছাত্রী, ডাক্তার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কবি, লেখক, শিল্পী তার সাথে আমার জন্মদাত্রী মা-বাবা। সবার
কণ্ঠে সমস্বরে চিৎকার করে ধ্বনিত হচ্ছে "We want justice, we demand
justice."
***

No comments:
Post a Comment