বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/ছোটগল্প/২য়
বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/শারদ/১১ই আশ্বিন, ১৪৩১
শারদ | ছোটগল্প
তপতী
রায়
বড্ড জ্বালাতন!
"তোমার জন্য বেনারসি এনেছি। ছোট্ট একটা প্যাকেট খুলে একটা লাল গামছা বার করল। উজ্জ্বল হেসে অস্থির। আমি সেদিন রাগ করে মার বাড়ি চলে গিয়েছিলাম।"
বড্ড জ্বালাতন! অনুরাধা এই
নিয়ে তিনবার দরজা খুলল। কেউ নেই। প্রত্যেকের ফ্ল্যাট বন্ধ। তবু পাশের ফ্ল্যাটের
মহিলার সাথে অল্প বিস্তর আলাপ আছে। বেল বাজালাম,
- মহিলা হাসতে
হাসতে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? আজ সকাল সকাল আমার বাড়ি, আপনি তো কারও বাড়িতে খুব একটা যান না।
অনুরাধা হেসে বলল,
- আমার
বাড়ি তিন তিনবার বেলা বাজল, কিন্তু দরজা খুলে দেখি কেউ নেই।
তাই ভাবলাম হয়তো তুমি এসেছিলে।
- না গো আমি যায়নি। সকল থেকে মেয়েটার খুব জ্বর। মনে হয় কোন বাচ্ছা ছেলে দুষ্টুমি করছে। এখন গরমের ছুটি। ওই রকম করে।
- হয়তো তাই!
- দরকার হলে আমাকে ডেকো।
অনুরাধা হেসে বলল,
- না গো আমি যায়নি। সকল থেকে মেয়েটার খুব জ্বর। মনে হয় কোন বাচ্ছা ছেলে দুষ্টুমি করছে। এখন গরমের ছুটি। ওই রকম করে।
- হয়তো তাই!
- দরকার হলে আমাকে ডেকো।
চলে এলাম। দরজা বন্ধ করে
ঘরে ফেরার কিছুক্ষণ বাদেই আবার বেল বাজল। একটু রেগেই দরজা খুলতেই, রাগা দূরের কথা ভয়ে হাত-পা
কাঁপতে শুরু করল। আমার পাগলা প্রাক্তন স্বামী। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরে গিয়ে শুয়ে
পড়ল। আমি বাড়ি বন্ধ করে রাস্তায় গিয়ে উজ্জ্বল, আমার বর্তমান স্বামীকে ফোন করলাম।
- দীপু বাড়িতে এসেছে, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে খাটে শুয়ে আছে, আমি রাস্তা থেকে ফোন করছি। উত্তরে বলল,
- তুমি
গিয়ে ওর পাশে শুয়ে পড়ো,
- একেবারে বোকা। আমার সাথে প্রায়ই এই রকম ইয়ার্কি-ঠাট্টা করে।
- তোমার জন্য শাড়ি কিনেছে। নিজের চোখে দেখে এলাম।
সত্যি একদিন এসে হাজির।
- তোমার জন্য বেনারসি এনেছি।
ছোট্ট একটা প্যাকেট খুলে একটা লাল গামছা বার করল। উজ্জ্বল হেসে অস্থির। আমি সেদিন রাগ করে মার বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। আজ প্রচণ্ড রেগে বললাম,
- আমার যে
দিকে চোখ যায় চলে যাচ্ছি।
- রাগ করো না। প্লিজ! দশ মিনিটের মধ্যে যাচ্ছি। তুমি ক্লাব হাউসে অপেক্ষা কর।
উজ্জ্বল এলো সাথে মেন্টাল হসপিটালের লোকজন। আমি বাড়ি যেতে রাজি হলাম না। উজ্জ্বল কিছুতেই শুনল না। বলল,
- একজন জন্ম
থেকে পাগল মানুষ, তাকে এত অবহেলা করা উচিত নয়।
উজ্জ্বল জোর করে আমাকে নিয়ে গেল। আমার হাত-পা ঠান্ডা। একদিন মাত্র বিয়ের সময় দেখেছি। ওষুধ খাইয়ে এনেছিল বরপক্ষ। সয়য় পেরিয়ে যাবার জন্যে ওষুধের ঘোর কেটে যায়। নানারকম পাগলামি শুরু করল। আমাকে জোর করে হিড়হিড় করতে করতে টেনে নিয়ে গিয়ে আমন্ত্রিত লোকেদের মধ্যে রসগোল্লা খাওয়াবেই খাওয়াবে, প্রায় একশো। সেই রাতে দাদার বন্ধু উজ্জ্বলের সঙ্গে বিয়ে হয়। পাগলা বিয়ে নিষিদ্ধ। শেষ পর্যন্ত লোকজন মিলে, পুলিশের গাড়ি এসে ধরে নিয়ে যায় বরপক্ষকে। আজ আবার বায়না করল ওকে রান্না করে আমাকে খাওয়াতে হবে। আমি কিছুতেই রাজি নই। উজ্জ্বল নিজে রান্না করে আমাকে সামনে বসিয়ে খাওয়াল। যাবার সময় বলে গেল,
- টাটা—
আর জ্বালাতন করব না! তুমি খুব ভাল থেকো।
- দীপু বাড়িতে এসেছে, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে খাটে শুয়ে আছে, আমি রাস্তা থেকে ফোন করছি। উত্তরে বলল,
- একেবারে বোকা। আমার সাথে প্রায়ই এই রকম ইয়ার্কি-ঠাট্টা করে।
- তোমার জন্য শাড়ি কিনেছে। নিজের চোখে দেখে এলাম।
সত্যি একদিন এসে হাজির।
- তোমার জন্য বেনারসি এনেছি।
ছোট্ট একটা প্যাকেট খুলে একটা লাল গামছা বার করল। উজ্জ্বল হেসে অস্থির। আমি সেদিন রাগ করে মার বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। আজ প্রচণ্ড রেগে বললাম,
- রাগ করো না। প্লিজ! দশ মিনিটের মধ্যে যাচ্ছি। তুমি ক্লাব হাউসে অপেক্ষা কর।
উজ্জ্বল এলো সাথে মেন্টাল হসপিটালের লোকজন। আমি বাড়ি যেতে রাজি হলাম না। উজ্জ্বল কিছুতেই শুনল না। বলল,
উজ্জ্বল জোর করে আমাকে নিয়ে গেল। আমার হাত-পা ঠান্ডা। একদিন মাত্র বিয়ের সময় দেখেছি। ওষুধ খাইয়ে এনেছিল বরপক্ষ। সয়য় পেরিয়ে যাবার জন্যে ওষুধের ঘোর কেটে যায়। নানারকম পাগলামি শুরু করল। আমাকে জোর করে হিড়হিড় করতে করতে টেনে নিয়ে গিয়ে আমন্ত্রিত লোকেদের মধ্যে রসগোল্লা খাওয়াবেই খাওয়াবে, প্রায় একশো। সেই রাতে দাদার বন্ধু উজ্জ্বলের সঙ্গে বিয়ে হয়। পাগলা বিয়ে নিষিদ্ধ। শেষ পর্যন্ত লোকজন মিলে, পুলিশের গাড়ি এসে ধরে নিয়ে যায় বরপক্ষকে। আজ আবার বায়না করল ওকে রান্না করে আমাকে খাওয়াতে হবে। আমি কিছুতেই রাজি নই। উজ্জ্বল নিজে রান্না করে আমাকে সামনে বসিয়ে খাওয়াল। যাবার সময় বলে গেল,
এরপর বহু বছর কেটে গেছে।
আমি দুই ছেলেমেয়ের মা। মেয়ের বিয়ে। বাড়ি ভর্তি লোকজন। হঠাৎ দেখি বিয়ের আসরে
একটি চেয়ারে বসে আছে। ভয় হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। দৌড়ে
গিয়ে উজ্জ্বলকে খবর দিলম। উজ্জ্বল পাশে গিয়ে বসল। বলল,
- আমি আর
পাগল নই। মেয়েটার বিয়ে দেখে চলে যাব। এক বাক্স গয়না দিয়ে বলল,
- আমার মার গয়না। নাতনির জন্য রেখেছিল। এ কী কথা! আমার না হয়ে তোমার হয়েছে। বাবার মতো তো। উজ্জ্বল মেয়েকে ডেকে এনে প্রণাম করতে বলল। দীপু এক বাক্স গয়না হাতে দিয়ে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ করল।
- আমার মার গয়না। নাতনির জন্য রেখেছিল। এ কী কথা! আমার না হয়ে তোমার হয়েছে। বাবার মতো তো। উজ্জ্বল মেয়েকে ডেকে এনে প্রণাম করতে বলল। দীপু এক বাক্স গয়না হাতে দিয়ে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ করল।
বর এসে গেল। সবাই ব্যস্ত
হয়ে উঠল। ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল দীপু। মধ্য রাতে উজ্জ্বল দেখল তার একান্ত আপন একজন
জানলায় দাঁড়িয়ে কাঁদছে। প্রথম কিছু ঘটে যাওয়া ঘটনা, স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা বোধহয় বড় মুশকিল। এ কষ্ট বড্ড জ্বালাতন!
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment