প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Thursday, December 12, 2024

অনুর স্বপ্ন | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/মাসিক/ছোটগল্প/২য় বর্ষ/২২তম সংখ্যা/২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩১

মোহন রায়হান সংখ্যা | ছোটগল্প

পারমিতা চ্যাটার্জি

অনুর স্বপ্ন


"একজন গৃহবধূ সে, সারাদিন তার কেটেছে সংসারে সবার মন রেখে আর রান্নাঘরে। এত পরিশ্রমের পরও সে লিখে চলত ডায়েরি আর নির্যাস গ্রহণ করত বাংলার অতুল ঐশ্বর্যশালী সাহিত্য ভাণ্ডারকে। তার এই সাধনা কি বৃথা যেতে পারে?"


শৈশব থেকেই অনু স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে। খেলাধুলা, পড়াশোনা, গল্প সবকিছুর মাঝখানেই চলত তার দিবারাত্রির স্বপ্নের জালবোনাএমন স্বপ্ন দেখতে দেখতেই তার কৈশোর পার হয়ে যৌবনের চৌকাঠে পা রাখল। আশাপূর্ণা দেবীর প্রথম প্রতিশ্রুতির সত্যবতীর চরিত্র আর সুবর্ণলতার চরিত্র তাকে তীব্র আকর্ষণ করত। তার অভ্যাস ছিল ডায়েরি লেখা আর বিভিন্ন সাহিত্যিকের বই পড়ে তার থেকে সাহিত্যরস সংগ্রহ করা। প্রতিদিনের ঘটনার সাথে নিজের কল্পিত কিছু ঘটনা নিয়ে সে রোজ সবার অলক্ষ্যে ডায়েরি লিখে যেত
 
স্বপ্ন দেখতে দেখতে একদিন তার স্বপ্ন চূড়ায় উঠে বসল, চোখের সামনে সে সিনেমার ছবি মতন দেখত সে তার সাহিত্যরচনার জন্য পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছে তার বাড়ির লোক কত খুশি সে যেন দেখছে তার বাবা বলছে, আমি জানি আমার অনুমা একদিন অনেক বড় লেখক হবে। ও যে স্বপ্ন দেখতে জানে যে স্বপ্ন দেখে সে তার স্বপ্নকে বাস্তবের আঙিনায় বপন করতেও পারে
 
যৌবনে সে প্রবেশ করল সংসারের আঙিনায় তখনই তার স্বপ্নের সিঁড়িগুলো আস্তে আস্তে ভেঙে পড়তে লাগল। তবু সে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করল না কিন্তু সত্যবতী সুবর্ণলতার মতন প্রতিবাদীও হয়ে উঠতে পারল নানিজেই নিজেকে বোঝাল, যা উপন্যাসের পাতায় লেখা থাকে তা কি আর বাস্তবে হয়? বাস্তবে একটা সুন্দর সংসারের জন্য তাকে স্বপ্নগুলো আপাতত তুলে রাখতে হবে, অনেক ওপরে কোনো অদৃশ্য কাঠের বাক্সে
 
সংসারে হাজারো কাজের মধ্যেই চলল তার স্বপ্ন  দেখা আর গভীর রাতে ডায়েরি লেখামনে মনে ভাবে, আজকের পর তো কাল আছে, কালকের পর পরশু, একদিন যে তার স্বপ্ন বাস্তবের আঙিনায় ফুল হয়ে ফুটে উঠবে না, তা কে বলতে পারে?
 
অনু এখন পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব এক মহিলা, সে এখন লেখিকা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত সে তার স্বপ্নকে অনেকটা বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনতে পেরেছে। মনে মনে ভাবে এই জায়গায় বা কজন যেতে পারে? একদম একজন গৃহবধূ সে, সারাদিন তার কেটেছে সংসারে সবার মন রেখে আর রান্নাঘরে। এত পরিশ্রমের পরও সে লিখে চলত ডায়েরি আর নির্যাস গ্রহণ করত বাংলার অতুল ঐশ্বর্যশালী সাহিত্য ভাণ্ডারকে। তার এই সাধনা কি বৃথা যেতে পারে? তার জীবনের প্রতিটা সত্য তথ্য নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তার সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ অনুর স্বপ্নে। বইটার বইমেলায় চাহিদা দেখে সে নিজেও অবাক হয়ে গেল। সে আরও আশ্চর্য হল যখন অনেকে এসে তার সামনে সদ্য কেনা নতুন বইটা নিয়ে বলছে, দিদি একটু সই করে দেবেন? বা দিদি আপনার সাথে একটা ছবি তুলব
 
মেলা শেষে বাড়ির পথে যেতে যেতে তার দুচোখে জলের ধারা… মনে মনে তার ইষ্টদেবীকে স্মরণ করে বলল, অনেক দিনের অনেক লাঞ্ছনা, অপমান, যন্ত্রণা বেদনার জবাব তুমি দিলে মাগো সবকিছু যে তোমারই দান, নইলে রান্নাঘরের কোণে পড়ে থাকা এক নিতান্ত সাধারণ মেয়ের স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে কী করে বপন করলে? তার মেয়ে তাকে বলল, ভাগ্যিস মা তুমি মনে মনে দিবারাত্র স্বপ্নের জাল বুনে যেতে তাই তো লিখতে পারলে— "অনুর স্বপ্ন"।  অনু তার মেয়েদের হাত ধরে নিজের সৃষ্টিকে অনুর স্বপ্নকে বুকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলল, সামনের পথ ধরে
 

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)