মোহন
রায়হান সংখ্যা | কবিতা
বিপুল রায়
জানি- তবু
আমি জেনে গেছি ট্রেন দেরিতে আসে
বাস অতিরিক্ত স্টপেজ দেয়
ট্যাক্সি ড্রাইভার মিটার গণ্ডগোল করে রাখে
অফিসের ক্লার্ক ঘুষ না পেলে বিল ছাড়ে না।
বাস অতিরিক্ত স্টপেজ দেয়
ট্যাক্সি ড্রাইভার মিটার গণ্ডগোল করে রাখে
অফিসের ক্লার্ক ঘুষ না পেলে বিল ছাড়ে না।
আমি জেনে গেছি অফিসারের চেম্বারে গেলে
দামী সিগারেটের প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়।
লেবারকে কনট্যাক্ট দিয়ে কাজ না করলেই ফাঁকি দেবে।
বিশ্বাস করলেই মাছ ব্যবসায়ী ওজনে কম দেবে
বাইকে তেল থাকলেই সার্ভিসিং-এর সময় গ্যারেজ মিস্ত্রি
তেল সাইফন করে নেবে।
দামী সিগারেটের প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়।
লেবারকে কনট্যাক্ট দিয়ে কাজ না করলেই ফাঁকি দেবে।
বিশ্বাস করলেই মাছ ব্যবসায়ী ওজনে কম দেবে
বাইকে তেল থাকলেই সার্ভিসিং-এর সময় গ্যারেজ মিস্ত্রি
তেল সাইফন করে নেবে।
আরও জেনে গেছি আমি না আসা পর্যন্ত
মা আমার জন্যে না খেয়ে অপেক্ষায় থাকবে।
বউ নতুন ফ্ল্যাটে উঠে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করবে,
বাবা তার পেনশনের টাকায় আমার জন্য রেখে দেবে।
মা আমার জন্যে না খেয়ে অপেক্ষায় থাকবে।
বউ নতুন ফ্ল্যাটে উঠে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করবে,
বাবা তার পেনশনের টাকায় আমার জন্য রেখে দেবে।
এত জানার পরও আমি পাল্টে যেতে পারলাম না। ট্রেন দেরি করলেও আমি অপেক্ষমাণ
যাত্রীদের স্টেশন মাস্টারের রুম ভাঙচুর করতে ইন্ধন দিই না। বাস কোনও যাত্রীকে বিনা
স্টপেজে তুললেও কন্ডাক্টরের উপর হম্বিতম্বি করি না। ট্যাক্সি ড্রাইভার বেঠিক ভাড়া
নিলেও সন্দেহ করি না। অফিসের ক্লার্ককে ধমকাই না। অফিসাররের ঘরে জামার বুকের বোতাম
খুলে প্রবেশ করি না। লেবাররা ফাঁকি দিলেও বকাবকি করতে বাধে। চোখের সামনে মাছ
বিক্রেতা কম ওজন দিলেও মেনে নিই। বাইক সার্ভিসিং-এর সময় তেল চুরি গেলেও নিশ্চুপ
থাকি।
জানি, মা না খেয়ে থাকলেও তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরি না। বৌ-এর কথামতো নতুন ফ্ল্যাটের সন্ধান করি। বাবার টাকার প্রতি আমার কোনও লোভ নেই।
জানি, মা না খেয়ে থাকলেও তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরি না। বৌ-এর কথামতো নতুন ফ্ল্যাটের সন্ধান করি। বাবার টাকার প্রতি আমার কোনও লোভ নেই।

No comments:
Post a Comment