রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
রসের
জুটি
ধারাবাহিক— ৪
"ভাই ক্যাবলা দৌড়ে এল, -বৌদি যেও-না, আমি তোমায় রোজগার করে খাওয়াব, দাদাকে ডিভোর্স দিয়ে দাও!"
-আরে, তুমি এরকম কেন? মা আছে, ভাই আছে।
-তাহলে আমার আর বিয়ে করে কী লাভ হল। নতুন বউ, একেবারে প্রথম কোন মেয়েকে নিজের মতো করে পাওয়া, সেখানেও ভাবতে হবে?
-সেতো রাতই আছে।
-না। আমি পারব না ওরকম নিয়মে থাকতে। আমার সবসময় তোমার কথা
মনে হচ্ছে যে, শোনো একটা কথা তোমায় বলি, আমি দোকানটা বিক্রি করে দিচ্ছি। আর দোকানে যাব না।
আদরের বুক কেঁপে ওঠে,
-কী বললে চালু দোকান তুমি বিক্রি করে দিচ্ছ?
-হ্যাঁ। প্রায় দিয়েই দিয়েছি।
-ঠিক আছে, আমার জন্য যখন এত
ঝামেলা আমি বাবাকে জানিয়ে আজই আমি বাড়ি ফিরে যাব।
আদর মুখ ভার করে ঘর থেকে
বেরিয়ে যায় মাকে সব কিছুই বলতে, মা মাথা ঘুরে পড়ে
যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়। তার মধ্যেই মা দৌড় লাগায় ছেলের কাছে,
-হ্যাঁরে, তুই নাকি চালু দোকান
বিক্রি করে দিবি?
হ্যাবলা দাঁত বার করে,
-হ্যাঁ। চালু দোকান বেচে সেই টাকায় বসে খাব। খেটে কী হবে?
মা রেগে লাল,
-আরে পাঁঠা, তুই এমনিতেই একটা
হ্যাবলা বটে, এখন দেখছি আরও একটা চিকন ভেড়ি
পেয়ে এবার একেবারে ভেড়াও বনে গেলি?
ব্যস হয়ে গেল আসল খেলা! কথা
গিয়ে লাগল আদরের ইজ্জতে। ছিটকে বেরিয়ে গেল আদর সেখান থেকে। মিনিট দশের মধ্যেই
নিজের জিনিস গুছিয়ে ক্যাব নিয়ে সোজা বাপের বাড়ি চাকদায়, যাওয়ার আগে শাশুড়ির পায়ে হাত দিয়ে কেঁদে বলে গেল,
-ভেড়িটা চলেই যাচ্ছে। আমার জন্যে যখন এত ঝামেলা...
মা ঈষৎ রাগ দেখাল।
ভাবটা এমনই যে নতুন বৌমাই যেন বড় ছেলের মাথাটা খেয়ে নিয়েছে। ছেলে
গোবেচারা আর বউ চকচকে, খায়দায় ছেলেকে
পুরোটাই নিজের বশে করে নিচ্ছে। ছেলেটার মাথায় গণ্ডগোল ছিলই আরও বেড়ে গেল এই নতুন
বৌকে পেয়েই।
ভাই ক্যাবলা দৌড়ে এল,
-বৌদি যেও-না, আমি তোমায় রোজগার করে খাওয়াব, দাদাকে ডিভোর্স দিয়ে
দাও!
কেউ কাউকে বোঝার আগেই ক্যাব
হু হু করে কলকাতার ছকুকানাসামা লেনের গলি পেরিয়ে রাজাবাজার হয়ে সোজা বিটি রোডের দিকে
ছুটে চলল। উদ্দেশ্য চাকদা।
ক্রমশ

ধন্যবাদ দিই সম্পাদক মহাশয়কে। উনি ভালবেসে সম্পাদনা করেন, কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি পাঠক আর পড়তে ভালবাসে না 🙏
ReplyDelete