বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— কাগজের নৌকা
কবি— সোমা পালিত ঘোষ
পর্যালোচক— মণিপদ্ম দত্ত
"কাগজের নৌকোর কবি অনায়াস দক্ষতায় ভোরের আলোয় বেরিয়ে পড়েন।"
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
কবিতাটি পাঠে এক দ্বন্দ্বময়
মায়াবেশ ছোঁয়া হয়ে যায়। গদ্যময় শরীরী সূত্রের পরোয়া না করেই ভোরের আলো বেড়ে
দেয় সে। অসমাপ্ত মায়াবেশ কথাটি অনেক সম্ভাবনা তৈরি করে পাঠকের মনে। ঘাটের পেটের
পিছল শ্যাওলার ঘ্রাণ একটি অনবদ্য সত্য অনুষঙ্গ গড়ে। মনে পড়ে যায় জীবনানন্দের
সেই অমোঘ উচ্চারণ: রক্ত ক্লেদ বসা থেকে রৌদ্রে ফের উড়ে যায় মাছি। ঘাটের
শ্যাওলার যে জৈবিকতা তা মান্য ও অগ্ৰাহ্য করে হইহই করে
বেরিয়ে পড়ে কবিতা আলো-ছায়া কেটে ব্যাগ দুলিয়ে। এই চিত্রকল্পের গূঢ়তা পাঠককে
উত্তীর্ণ করে।
হয়তো তুলনীয় নয়, হয়তো বা অবশ্য তুলনীয়, বুদ্ধদেব বসুর মাছ ধরা কবিতার সুর ও মাছ?
না কি
জ্বলন্ত জলের শাঠ্য? স্বপ্নের ছলনা?/ কিন্তু ফের কাঁপে জল,
রূপ
নেয় বিশ্বাস্য বাস্তবে:/ ঐ তো সপ্রাণ রশ্মি,
মূর্তিমতী
সম্মত বাসনা/ ভেসে উঠে ডুবে যায়। তাকে আরো দক্ষ হতে হবে।
কাগজের নৌকোর কবি অনায়াস
দক্ষতায় ভোরের আলোয় বেরিয়ে পড়েন।
আমার কবিতাটি পাঠে এমনই মনে
হয়েছে।
No comments:
Post a Comment