প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নারী না পুরুষ | সাম্য

বাতায়ন/নারী না পুরুষ / ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ , ১৪৩৩ নারী না পুরুষ সম্পাদকীয় সাম্য "একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ...

Saturday, August 15, 2026

প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে ধারাবাহিক-৫ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
 
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-৫

"আমাকে একটু ঘন্টা খানেক ধরে আদর করো না! আমার খুব ইচ্ছে হয়েছে। আচ্ছা পুরুষ তো তুমি? তোমার কি বউকে ভাল লাগে না? আমি যে তোমায় এত ভালোবাসি!"

 
সারাদিন দুজনে দুদিকে মুখ করে শুয়ে রইলাম। দুপুর দুটো বাজতেই পেটের জ্বালা শুরু হল। বউ যা রাগী, বয়সে ছোটো হলে কী হবে ওকে আমি বাগে আনতে পারিনি। জেদ করে শুয়ে রইল। আমি ভাবছি খিদে পেয়ে গেছে এবার কী করি?
ফোঁস ফোঁস আওয়াজে ভয় পেলাম সাপ নাকি? ভালো করে শুনলাম, প্রেয়সী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কী মুশকিল হল কী করি?
 
ঘাড় উঁচু করে ওর দিকে দেখতে গেলাম, ও ঠিক দেখে নিয়ে লাফিয়ে উঠে আমার চুলের মুঠি ধরে আমার উপর চড়াও হল, বুকের উপর শুয়ে দুহাত দিয়ে বুকে দুমদাম কিল মারতে লাগল। আমি ইচ্ছে করেই চেঁচিয়ে উঠলাম,
-উরিঃ বাপরে! মরে যাবো রে
-মরেই যাও। থেকে আমার কী লাভ? একটা মিষ্টি বউকে যে ভালোবাসতে পারে না তার থাকা আর না থাকায় কী আসে যায়? তার থেকে আমি বিধবা হয়েই বৃন্দাবন চলে যাই।
-কেন? ইয়াং বন্ধুর অভাব হল। ওদের একটাকে বিয়ে করে সুখেই থাকবে।
-হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো বলবে তুমি…
বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকল প্রেয়সী আর এত কান্না, তার জলে যে আমার বুকের গেঞ্জি ভিজে বিছানার চাদর ভিজে যেতে থাকলেও কান্নাকাটি থামল না।
আমি নিরুপায় হয়ে ওর মাথা ধরে তুলে ওর মুখটা দেখলাম। জলে ভরে গেছে সে মুখ। ও নিমেষে আমার মুখের কাছে এসে করুণ ভাবে বলল,
-আমাকে একটু ঘন্টা খানেক ধরে আদর করো না! আমার খুব ইচ্ছে হয়েছে। আচ্ছা পুরুষ তো তুমি? তোমার কি বউকে ভাল লাগে না? আমি যে তোমায় এত ভালোবাসি!
-উরিঃ বাপরে!
-বিশ্বাস হচ্ছে না? সত্যি আমি তোমাকেই খুব ভালোবাসি কিন্তু। তুমি আমার ভালো বর। আমিও শুধুই তোমার। বিশ্বাস না হলে দেখো আমি তোমায় কত ভালোবাসি...
বলেই প্রেয়সী আমায় খুব আদর করতে থাকল আমি চুপ করে শুয়ে রইলাম। তারপর বললাম,
-চলো খুব খিদে পেয়ে গেছে...
-হ্যাঁ সোনা, আমি এখনই করে দেব কিন্তু এখন আমার খুব আদর খেতে ইচ্ছে হয়েছে। তুমি আগে আমায় এক ঘন্টা ধরে মাথায়-গায়ে হাত বুলিয়ে খুব আদর করে দাও। তারপর আমি ভালো ভালো রান্না করে দেব
বোঝো ঠ্যালা! বাপের নাম খগেন! খিদে পেয়েছে যেখানে, এখন তা ভুলে বউকে একঘন্টা আদর করতে হবে। করলে ভয় হয় যদি মাথা ঘুরে পড়ে যাই? আবার না করলেও চলবে না, যা জেদি বউ। উঠে বসে পড়লাম, ওর মাথাটা আমার কোলের উপর তুলে হাত বুলিয়ে দিলাম। প্রথমে চুলের মধ্যে আঙুল চালিয়ে দিলাম তারপর তালু দিয়ে গাল ঘষে ঘযে কপাল টিপে দিলাম! প্রেয়সী চোখ বুজে থেকে বললে,
-তুমি কী ভালো গো? আরো জড়িয়ে ধরে আদর করো না। আমি কি পর? আমিও পরে তোমায় খুশি করে দেব। তুমি তো আমার সব। আমি সারাজীবন ধরে তোমারই থাকব। আমার বলে কিচ্ছুটি রাখব না সব তোমাকে উজাড় করে দেব। আমার প্রান, আমার কেষ্ট ঠাকুর!
আমি শালা পাগল! না হলে বউয়ের কথায় গলি? সোওয়া ঘন্টা ধরে খুশি করিয়ে ক্ষান্ত হলাম, বউ প্রেয়সী উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরে গদগদ গলায় বললে,
-অনেক তপস্যা করে তোমায় পেয়েছি। এখনকার ইয়াং ছেলেরা শুধুই হ্যাঙলা! তোমার চিন্তা নেই আমি তোমাকে ছাড়বই না। এখনই ফ্রিজে রাখা চিকেন দিয়ে বিরিয়ানি করে আনছি একটু অপেক্ষা করো সোনা...
 

~~000~~

1 comment:

  1. পত্রিকার জন্য শুভকামনা রইল 🌹

    ReplyDelete

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)