বাতায়ন/নারী না পুরুষ/গল্পাণু/৪র্থ
বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
কেয়া নন্দী
সহায়ক
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
কেয়া নন্দী
সহায়ক
"হুইলচেয়ারে বসে জায়া, আর পতি তার দিকে জল ছুঁড়ছে। দুজনেই খুশির জোয়ারে ভাসছে। ডাইনিং টেবিলে তাদের সঙ্গে আলাপ হয় সোমপার্থ ও শিরিনের। কথাবার্তায় বুঝতে পারে, পতির সাহায্যে-সাহচর্যে এভাবেই চলে দম্পতির সুখের সংসার।"
অন্যদিকে, প্রতিবার শিরিনের সঙ্গে বাক্য বিনিময়ের পর সোমপার্থের মনেও একটা চিন্তা হতো! কী জানি, বিয়ের পরে শিরিন দ্বিতীয় তার কাকিমার মতো হবে না তো? সোমপার্থের কাকিমার দৈনন্দিন আদেশ-নির্দেশেই চলে তার কাকার দিনলিপি। কাকার অসহায় মুখটা চোখে ভেসে ওঠে সোমপার্থের।
তবুও সঠিক দিনক্ষণে চার হাত এক হয়ে যায়।
কয়েক মাস পরে মধুচন্দ্রিমায় যায় নবদম্পতি। কোভালমের সমুদ্রতটে হাঁটতে হাঁটতে দুজনেরই চোখ আটকে যায় এক দম্পতির সমুদ্রস্নানের দৃশ্যে। হুইলচেয়ারে বসে জায়া, আর পতি তার দিকে জল ছুঁড়ছে। দুজনেই খুশির জোয়ারে ভাসছে। ডাইনিং টেবিলে তাদের সঙ্গে আলাপ হয় সোমপার্থ ও শিরিনের। কথাবার্তায় বুঝতে পারে, পতির সাহায্যে-সাহচর্যে এভাবেই চলে দম্পতির সুখের সংসার।
পরদিন আজিমালা শিবমন্দির দর্শন করার আবদারটা শিরিনেরই ছিল।
মায়ের পরামর্শমতো প্রার্থনা করবে শিরিন—সুখে-শান্তিতে যেন সারাজীবন কাটে। পুজো দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধার প্রার্থনা শুনে চমকে যায় শিরিন। বৃদ্ধার পরম আকুতি—‘বাবা, সব কষ্ট আমায় দাও, ওনাকে সুস্থ করে তোলো।’
সহসা মাথাটা কেমন ওলট-পালট হয়ে যায় দুজনেরই। বহুক্ষণ নীরব হয়ে থাকে শিরিন আর সোমপার্থ। মন্দির আর সমুদ্রসৈকতের দুই দম্পতির মুখ ভেসে উঠছিল। কেউ কাউকে প্রকাশ না করলেও চাপা একটা সংশয় দুজনের মনে ছিল—আজ বুঝতে পারে, নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব নয়; একে অন্যের পরিপূরক হয়ে সারা জীবন চলবে। মুখে প্রকাশ করে না, কিন্তু ভাবনায় পরস্পর বদলে যায়।
পারস্যের আখ্যান নয়, সোমপার্থ-শিরিন এক নতুন উপাখ্যান তৈরি করবে।
~~000~~

No comments:
Post a Comment