প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নারী না পুরুষ | সাম্য

বাতায়ন/নারী না পুরুষ / ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ , ১৪৩৩ নারী না পুরুষ সম্পাদকীয় সাম্য "একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ...

Saturday, August 15, 2026

মুক্তি দিবস | সঙ্ঘমিত্রা দাস

বাতায়ন/নারী না পুরুষ/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
সঙ্ঘমিত্রা দাস
মুক্তি দিবস

"পাইস হোটেলের দেওয়াল ঘড়িতে ঢং ঢং করে বারোটা বাজল। দূরে কোন ক্লাবে দেশাত্মবোধক গান বাজছে। আজ যে ১৫ই আগস্ট‌। স্বাধীনতা দিবস। আজ শুধু ভারতবর্ষের নয়, অন্তরার মতো মেয়েদেরও মুক্তি দিবস।"

 
রাত সাড়ে ন'টা। ঘরের দরজাটা ভেজানো। খাটে পড়ে কোঁকাচ্ছে অন্তরা। একটু আগেই ভীষণভাবে মেরেছে সুবোধ। ঠোঁটের কোণে রক্ত জমে গেছে। সোজা হয়ে দাঁড়াতে কী যন্ত্রণা শরীরে। রোজ এক ঘটনা। মদে চুর হয়ে ফেরে অফিস থেকে। তারপর  অশান্তি, মারপিট, গালাগালি। অন্তরার শ্বশুরমশাইও এমন ছিলেন শাশুড়ির কাছে শুনেছে। ছেলে বাপকে দেখেই শিখেছে। শাশুড়ি সারাজীবন এই যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। তারপর অল্প বয়সেই বৈধব্য। ছেলেকে বোঝাতে চেয়েও পারেননি। অল্প শিক্ষিত মানুষটা চান অন্তরাও সব মানিয়ে নিক।
 
সুবল খেতে বসেছে। এই সুযোগে বেরোতে হবে। আর এভাবে মার খাওয়া নয়। যে-কোন কাজ, শুধু সাহসটুকু প্রয়োজন। সব শক্তি দিয়ে অন্তরা উঠে দাঁড়ায়। চুপিচুপি পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়ে। হাতে একটা ছোটো পার্স, তাতে সামান্য কিছু টাকা। জানা নেই কোথায় যাবে? কী করবে? বাবা-মা নেই, বাপের ঘরে ঠাঁইও নেই। রাত বাড়ছে। কিছু না ভেবেই চড়ে বসে একটা বাসে। ফাঁকা বাসটা একটু গিয়ে একটা পেট্রোল পাম্পে ঢোকে। কন্ডাক্টর ছেলেটি অন্তরাকে দেখছিল। এখন এগিয়ে এলো,
-কোথায় যাবেন দিদি? বাস তো আর যাবে না। রাত হয়েছে। আপনি বাড়ি যান।
অন্তরার এতোক্ষণে হুঁশ ফিরল। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে দেখল চারদিক। মনে পড়ল কাজলদির কথা। সেদিন বলেছিল ওর রান্নার হোটেলে হেল্পার লাগবে। এই পেট্রোল পাম্পের গলিতেই তো, ছুটল সেই দিকে। গত সপ্তাহে পাশের মন্দিরে এসে কাজলদিকে দেখেছিল। আগে লোকের বাড়িতে কাজ করত। তখন অন্তরা খুব ছোটো। কাজলদির কোলে কত ঘুরেছে। বিয়ে হয়নি, ভাইয়েরা দেখে না। এখন দোকানটাই ওর সব।
 
এই তো দোকানটা। ভেতরে আলো জ্বলছে। সাটারে জোরে ধাক্কা দেয় অন্তরা। ভেতর থেকে কাজলদি বেরিয়ে আসতেই জড়িয়ে ধরে ওকে।
-আমাকে তোমার কাছে রাখবে দিদি। তুমি যা বলবে করব। আমি আর পারছি না সহ্য করতে।
ঠোঁটের কোণে জমা রক্ত, চোখ এড়ায় না কাজলদির।
-অবশ্যই থাকবি। আমার বোনের এই হাল যারা করেছে তাদের ছাড়ব নাকি? ভেতরে আয়। তোর দিদি থাকতে কোন চিন্তা নেই।
পাইস হোটেলের দেওয়াল ঘড়িতে ঢং ঢং করে বারোটা বাজল। দূরে কোন ক্লাবে দেশাত্মবোধক গান বাজছে। আজ যে ১৫ই আগস্ট‌। স্বাধীনতা দিবস। আজ শুধু ভারতবর্ষের নয়, অন্তরার মতো মেয়েদেরও মুক্তি দিবস।
 

~~000~~

1 comment:

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)