বাতায়ন/নারী না পুরুষ/গল্পাণু/৪র্থ
বর্ষ/১০ম সংখ্যা/৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩
নারী না পুরুষ
গল্পাণু
অর্চনা দাস
দাপট
"গভীর রাতে দাউদাউ করে চিতা জ্বলে উঠে শ্মশানে। ছাব্বিশ বছরের তরতাজা যুবক রনি চিতাকাঠের উপরে পরম নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে। সন্ধের দিকে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।"
বড়দা
এখনও আসেননি তাই দুপুরের খাওয়া হয়নি কারো। যদিও সবার পেটে খিদের পোকাগুলো
বিদ্রোহ শুরু করে দিয়েছে। বাবা খাবেন না। রীতা, রুমি,
রনি বসে
আছে বড়দার অপেক্ষায়। রনির শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। 'খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নাও ভাই’, শুভ্রা এসে দাঁড়ায় দেবরের পাশে। রনির পিঠের ব্যথাটা কমেও
কমছে না। বড়দা বলেছেন, ‘উপুড় হয়ে শুয়ে
থাকতে’। তাই রনি সারাক্ষণ
উপুড় হয়ে শুয়ে থাকার চেষ্টা করে। ছোটবোন রুমি থাকে তক্কে তক্কে। চিত হয়ে শুলেই
খবর যায় বড়দার কাছে, যেমন মনীষাদের
বাড়িতে স্বামীর চোখ এড়িয়ে গিয়েও ধরা পড়ে গেছিল শুভ্রা। শিলংয়ে সেই ছোটোবেলায়
পাশাপাশি ছিল ওরা। একসাথে স্কুলে যাওয়া খেলাধুলা গানের ক্লাস, পুরোনো স্মৃতি মাঝেমাঝে মনের
কোনে দোলা দেয় এখনো। একই শহরের একই পাড়া হবার সুবাদে বিয়ের আগে উচ্ছ্বসিত ছিল
শুভ্রা। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস ক্রমে পরিণত হয় মরুভূমির নিরস রুক্ষতায়। মনীষাদের
সাথে এ বাড়ির আসা-যাওয়া নেই। বড়দার নিষেধ। পরিবারের প্রত্যেকের কাছে এ
ব্যাপারে শুধিয়ে কোন সদুত্তর পায়নি শুভ্রা। বিয়ের পর শুভ্রা বুঝতে পারে
পরিবারের হর্তাকর্তা বিধাতা হলেন বড়দা। কারো ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য নেই। এমনকি
বৃদ্ধ মা-বাবার
বক্তব্যও ধোপে টেকে না। এক আত্মীয়ের মুখে শুভ্রা শুনেছে ওদের ঠাকুমা মহিলাটি নাকি
যেমন দাপুটে তেমনি দজ্জাল ছিলেন। পরিবারের একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন তিনিই। বড়ো নাতি
স্বপন ওরফে সপু ছিল প্রচণ্ড ঠাকুমা নেওটা। ঠাকুমার দাপট ও ক্ষমতা ক্রমে
হস্তান্তরিত হয় স্বপনের হাতে। রনি, ‘খেয়ে নাও ভাই’। শুভ্রা
আবার আসে দেবরের পাশে। কোন সাড়াশব্দ নেই। কেমন যেন সন্দেহ হয়। ছুটে যায়
শ্বশুরমশায়ের কাছে। ‘রনিকে একবার
ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন নাকি বাবা। কাঠ হয়ে পড়ে আছে।‘ ‘ডাক্তার আবার কেন? সপু আসুক’। শ্বশুরমশায়ের
নির্লিপ্ত কন্ঠস্বর।
গভীর
রাতে দাউদাউ করে চিতা জ্বলে উঠে শ্মশানে। ছাব্বিশ বছরের তরতাজা যুবক রনি চিতাকাঠের
উপরে পরম নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে। সন্ধের দিকে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে
তাঁর। মা-বাবা-বোনরা বসেছিল বড়দার
অপেক্ষায়। বড়দা এসে আবার যদি বলে বসেন, ‘আদিখ্যেতার একটা সীমা আছে।’
~~000~~
No comments:
Post a Comment