বাতায়ন/শারদীয়া/হলদে খাম/৪র্থ বর্ষ/১৫তম
সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া
হলদে খাম
মীনা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়
বাতায়নকে মীনা— ১
তুমি কি জানো! ভোরের আকাশ দেখলে, যোগ-প্রাণায়াম করলে এই মনটা ফুরফুরে হয়ে ওঠে। আয়না দেখে হাসি তখন। একাকিত্ব কাটে। বোধহয় মস্তিষ্কে সদর্থক হরমোন বাড়ে।
মনের
মিতা বাতায়ন,
মনের
মিতা বাতায়ন, আজ তোমাকে আমার ‘মন
খারাপের মহৌষধ’ প্রসঙ্গে দু-চার কথা জানাই। মনের অস্তিত্ববোধ আমার কাছে এই মন খারাপ
আর মন ভাল’র মধ্যেই লুকোচুরি খেলে। আমার মন ভাল রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব আমারই। মন
খারাপ লাগলেই ব্যস্ত থাকি সঞ্চয়ে থাকা বইপত্রগুলো ঝাড়পোঁছ করি। পুরনো অ্যালবাম
নাড়াচাড়া করে দেখি অতীত দিনের ছবি। গোছগাছ করি নিজের সাজগোজ, পোশাক, অলংকার, বিছানার চাদর, বালিশ ইত্যাদি। সঙ্গে রেডিয়ো
শুনি। ছোট্ট জায়গা হলেও নিজের হাতে তৈরি ফুলবাগানটির পরিচর্যা করি। কারিপাতার
কাঁচায়-পাকায় থোকা থোকা ফলে ঠোকরায় বুলবুলি। গত বছর আমাদের ব্যালকনিতে জন্মেছিল
দুটি পাখি। সে এরাই কি? চিন্তা ও ভাবান্তরে
নতুন লেখার জন্ম হয়। আসে গল্প,
কবিতা।
বন্ধু, আজকাল সোশ্যাল
মিডিয়াতে বেশিক্ষণ থাকলেই অস্বস্তি বোধ করি। মনের মোড় ফেরাতে খাতা-কলমে
আঁকিবুঁকি কাটি। তুমি কি জানো! ভোরের আকাশ দেখলে, যোগ-প্রাণায়াম করলে এই মনটা ফুরফুরে হয়ে ওঠে। আয়না দেখে
হাসি তখন। একাকিত্ব কাটে। বোধহয় মস্তিষ্কে সদর্থক হরমোন বাড়ে। ঠিক তখনই তোমাকে
চিঠি লিখতে ইচ্ছে করে। আজকাল তো কেবলই সোশ্যাল মিডিয়াতে সচল বার্তা। সেই
কলম-খাতায় লেখা সুবাস ছড়িয়ে খামে ভরে চিঠি ডাকবাক্সে ফেলা—আহা! কী নস্টালজিক
লাগছে না তোমারও? সত্যি ঠিক কি না বলো তুমি? তুমিও তো চাও আমার কথার মালা
তোমাকে, কেবলমাত্র তোমাকেই, তোমার নামের ঠিকানাতেই পাঠাই!
কী খুশি খুশি লাগছে তো! লাগবেই। আমারও কি কম আনন্দ হচ্ছে তোমার জন্য পত্র রচনা
করতে, সখা! বিএড পাঠের সময়
মনোবিজ্ঞান বইতে পড়েছি—মন খারাপ বা বিষণ্ণতা ভয়ানক ব্যাধি। মনের জট খুলতে
মনোবিদের পরামর্শ প্রয়োজন। নেতিবাচক চিন্তা মন থেকে সরাতেই হবে। ইতিবাচক কাজে
যুক্ত হলেই মন সুস্থ ও সুন্দর থাকে। তুমিই তো আমার ইতিবাচক সাহিত্য, তুমি বাতায়ন। প্রিয়জনের
সঙ্গে কথা বললে বা পছন্দের খাবার খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন—খুশির হরমোন—নিঃসৃত হয়।
যা এই মুহূর্তে আমি অনুভব করছি,
তোমাকে
পত্র লিখছি তাই, প্রিয়। আমাদের
শ্রীরামপুরে একটা রাস্তায় আমি প্রায়ই হাঁটি। গাছগাছালিতে ঘেরা। মধ্যে পথ, দু’পাশে দীঘি—সেই পথে হাঁটলেই
মনে সুস্বাস্থ্যের টনিক মেলে। যেমনটা তোমার সঙ্গে গ্রুপে ঘুরলে মেলে—হাসির খোরাক।
তোমার কথাতে হাসি বলেই হার্ট বিকল হয়নি আজও। এখনো হতাশা গ্রাস করেনি, তুমি সঙ্গে আছ বলেই। আমার এই
মনটা অল্পেই তুষ্ট, সামান্যেই রুষ্ট।
জানি, মন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তবে দীর্ঘদিনের মনের অসুখ বাধলে কিন্তু তা সারানোর মহৌষধ কাউন্সেলিং। আমি তাকে
ভীষণ ভয় পাই গো। তাই তো আমি মিথ্যা ভাষণ, অন্যের ক্ষতি করা, বিশেষত মন খারাপ হয় যে বিষয়গুলিতে, তা থেকে শত যোজন দূরে থাকি। সম্ভবমতো মানুষের পাশে থেকে বিপদে সহযোগিতা করতে
চাই, এতে মনে আনন্দ পাই।
কিন্তু আমার সে সামর্থ্য আর কতটুকু বলো। কলিযুগের ভাগবত বা উপনিষদ বলেই মনে করি
‘কথামৃত’ গ্রন্থটিকে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দিনলিপি এটি। সহজ ভাষায় জীবনযাপনের
গভীর তত্বকথায় পরিপূর্ণ শাস্ত্র। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের কথা লিখেছেন শ্রীযুক্ত
মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত। কথামৃতকার মাস্টারমশাই বা ‘শ্রীম’ নামে পরিচিত। তিনি তো
প্রচণ্ড মন খারাপ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পরিণামে দক্ষিণেশ্বরে
শ্রীরামকৃষ্ণের দর্শন ও সান্নিধ্যে মানসিক শান্তি পান। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্মীয়
দিনলিপি ‘শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’ পুস্তকে বাণীরূপে পরমহংসদেবকেই পেলাম তাঁর লেখনীতে।
হতাশামুক্তির মহৌষধ সাধুসঙ্গ,
সদ্গ্রন্থ পাঠ। তোমার ও পরিবারের
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা প্রার্থনা করে আজকের মতো। ইতি—
মীনা
রায় বন্দ্যোপাধ্যায়
No comments:
Post a Comment