বাতায়ন/শারদীয়া/সম্পাদকীয়/৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে
ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া
সম্পাদকীয়
ফকিরের চাল
বাঙালির দুর্গা সার্বজনীন, চিরকালীন। ছিল, আছে, থাকবে। আজ যদি কোনো অতি বড় ধার্মিক ভগবানকে উলঙ্গ করেও এবং অথবা তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন অচিরেই তাঁর বিনাশ আসন্ন। প্রগতির ময়দানে শিক্ষিত, আধুনিক ভারতবাসী টাইমমেশিনে পিছনে যেতে রাজি নন।
‘ফকিরের চালে চাল মেশাতে তুমি আজ কেন এলে বাবু!’ কোন এক অখ্যাত লেখকের লেখা থেকে উদ্ধৃত অংশটি বিশেষ ভাবে স্মরণীয়।
প্রথমেই বাতায়ন পরিবারের পক্ষ থেকে সকল পাঠক, কবি-সাহিত্যিক,
শুভানুধ্যায়ী বন্ধুদের এবং বাতায়ন পরিবারের সম্পাদকমণ্ডলীর-সহ সকল সদস্যদের আসন্ন শারদোৎসব তথা দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানাই। সেইসঙ্গে ভারতবর্ষজোড়া দুর্বিপাকে বিধ্বস্ত বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি জানাই সমবেদনা। তাঁরা তাঁদের বিপদ কাটিয়ে
উঠুন, সর্বান্তকরণে
এই প্রার্থনা করি। মনের গ্লানি ভুলে সকলেই খুব ভাল ভাবে বাঙালির সেরা উৎসবে সামিল হন। কেটে যাক সকল দ্বিধা।
সুদীর্ঘ বছর ধরেই বাঙালির দুর্গাপুজো জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে
সকল মলিনতা ভুলে ধুমধাম করে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে এসেছেন, আজও করছেন। অন্য ধর্মের মুষ্টিমেয় কিছু গোঁড়া মানুষকে বাদ দিলে (হয়তো ধর্মের খাতিরে) বাকিরাও নিছক উৎসব পালনই নয়, মনেপ্রাণে কোথাও যেন দেবী দুর্গার কাছে মাথা নোয়ান, তাঁরাও এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকেন। কেউ তাঁদের বাধ্য করেনি বাধাও দেয়নি। এমনকি তথাকথিত নাস্তিক সম্প্রদায়ও কারোর কোনো ধর্মাচরণে বাধা হয়ে দাঁড়াননি কখনও। অথচ আজ স্বঘোষিত কিছু মানুষ ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের দেওয়াল তুলে চলেছে। তাঁদের এই দম্ভের দুর্গতি
বিনাশ হোক।
বাঙালির দুর্গা সার্বজনীন, চিরকালীন। ছিল, আছে, থাকবে। আজ
যদি কোনো অতি বড় ধার্মিক ভগবানকে উলঙ্গ করেও এবং অথবা তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন অচিরেই তাঁর বিনাশ আসন্ন। প্রগতির ময়দানে শিক্ষিত, আধুনিক ভারতবাসী টাইমমেশিনে পিছনে যেতে রাজি নন।
প্রশ্ন জাগে, পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্রে অবশ্যই শোভনীয় এবং প্রয়োজনীয়, কিন্তু
তা কি
স্বাধীনতার বিনিময়ে! নইলে
(ন্যায়ের জলাঞ্জলি দিয়েছে বহুকাল) অন্যায়ের নির্লজ্জ সমর্থন করে কী
করে? তাদের জন্য অবশিষ্ট থাকে শুধুই ধিক্কার।
বাংলার সব
জেলার মধ্যে মেদিনীপুর চিরকাল একের পর এক রত্নপ্রসবা। বিস্ময় জাগে সেখানকার বীর সন্তান সমগ্র জাতির এবং বিশ্বের আত্মঘাতী প্রবণতায় সামিল দেখলে!
সর্বোপরি আদর্শ শিক্ষার পরিবেশ, ধ্বংসলীলার অবসান, মানুষের শুভবুদ্ধির জাগরণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় দুর্গোৎসব তথা শারদোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য
কামনা করি।
ভারি চমৎকার ও সময়োপযোগী একটি সম্পাদকীয়। বাঙালির দুর্গোৎসবের সর্বজনীন ও চিরকালীন রূপটিকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সম্পাদকীয়তে। ধর্মের নামে সংকীর্ণতা, গোঁড়ামি বা অহংকারের কোনো স্থান যে আমাদের এই প্রগতিশীল সমাজে নেই, তা খুব সুন্দরভাবে একটি বিশেষ বাক্যবন্ধ দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাঙালির চিরকালীন শারদোৎসব বা দুর্গোৎসব যে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, তা চিরকালীন ও সর্বজনীন—এই গভীর সত্যটিও খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। বাতায়ন পরিবারের এই মানবিক এবং সময়োপযোগী লেখনীর এই নির্ভিক উচ্চারণকে সাধুবাদ জানাই। উৎসবের আলোয় সবার মনের গ্লানি আর দ্বিধা কেটে যাক। বাতায়ন পরিবারকে আসন্ন শারদীয়ার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
ReplyDeleteঅজস্র ধন্যবাদ আপনাকে। সত্যিই মানুষ মনুষ্যত্ব ভুলতে বসেছে আজ।
Deleteদুর্গা পুজো বারো মাসে তের পার্বণ বাঙালির প্রাণের উৎসব, বারোয়ারি পূজা গুলো ছাড়া বনেদি বাড়ি গুলোতে শাক্ত মতে বা বৈষ্ণব রীতিতে পূজা হয়। চমৎকার সহাবস্থান । ভালো লাগল সম্পাদকীয় লেখাটা পড়ে। সম্পাদক মহাশয় কে জানাই শারদীয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রণাম ।
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ।
ReplyDeleteপারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনের মুক্তচিন্তা এই সম্পাদকীয়। ভালো লাগল।
ReplyDeleteধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।
Delete