প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

শারদীয়া | সম্পাদকীয়

  বাতায়ন/শারদীয়া/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র , ১৪৩৩ শারদীয়া সম্পাদকীয়   ফকিরের চাল বাঙালির দুর্গা সার্বজনীন , চিরকালীন ।...

Friday, September 18, 2026

বদহজম | অজয় দেবনাথ

বাতায়ন/শারদীয়া/নাটক/৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া
নাটক
অজয় দেবনাথ
বদহজম

এতকাল পড়াশোনা করে পাস করতেই ঘাম ছুটে যেত, আর এখন তো পড়ার চাষ ছাড়াই দিব্যি নাম্বার পাচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন পাবেন না। সতু-দা হীরক রাজার দেশেতে একবার দেখিয়েছিল, আমার মা তো সত্যি সত্যি করে দেখাল।


[দুর্গা পরিবারকে কেন্দ্র করে ২০২২-এ রচিত রঙ্গ-নাটকটি অনিবার্য কারণে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি, যদিও এই নাটকে কারোর বিশ্বাসে আঘাত করা হয়নি এবং কাউকেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করারও কোনও উদ্দেশ্য নেই। নিছক মজা। পাঠকের কাছে অনুরোধ সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পড়ুন।]
 
[চরিত্রঃ দুর্গা, মহাদেব, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, অসুর, নন্দি, ভৃঙ্গি, নারদ, চার’জন অফিসার, পুলিশ।]
 
[নাটকের শুরুতেই সাইরেনের শব্দ শোনা যায়। অফিসাররা রেইড করছে। যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ।]

১ম অফিসার—   এই এই এই ধর ধর ধর।
২য় অফিসার—   ওইদিকটা দেখ, ওইদিকটা দেখ।
১ম অফিসার—   দেখিস পালাতে না পারে।
২য় অফিসার—   পালালেই হল! আটঘাট বেঁধেই এসেছি।
গণেশ—         এসব হচ্ছেটা কী! বখরা তো নিয়মিত যাচ্ছে।
৩য় অফিসার—   বখরা দিলেই সাতখুন মাফ? মানুষের জীবন নিয়ে, কেরিয়ার নিয়ে ছেলেখেলা?
গণেশ—         দেখ ভাই, বাপ-মা-ভাই-বোন নিয়ে আমার সুখের সংসার। কলা-বউটার কথাও ভাবি না। তারও তো                     একটা শখ-আহ্লাদ আছে।
৪র্থ অফিসার—   এত ছোঁকছোঁকানি থাকলে কি বউয়ের কথা ভাবা যায়!
গণেশ—         কী সব বলছিস!
৩য় অফিসার—   একটা একটা করে মেয়েগুলোকে আনব?
গণেশ—         আরে… ফালতু ঝামেলা করছিস কেন বল তো! কত লাগবে বল?
৪র্থ অফিসার—   এটা কার ছবি? (হাতে অ্যালব্যাম)
গণেশ—         ধ্যাত মাইরি! ও তো আমার বোন।
১ম অফিসার—   বোন! তোর বোনের নাম তো লক্ষ্মী।
গণেশ—         আরে সে কথাই তো বলছি। বাণিজ্যে বসত লক্ষ্মী। একটু মেকওভার করেছে তাই চিনতে পারছিস না।
৪র্থ অফিসার—   আর এইগুলো? এই মেয়েগুলোও তোর বোন? ইয়ার্কি মারার আর জায়গা পাসনি?
গণেশ—         ওরা তো বোনের বন্ধু। বোনের বন্ধুরা বোন হয় না বল!
১ম অফিসার—   সরস্বতীও তো তোর বোন, তাকে ঠুঁটো করে সরিয়ে দিলি কেন?
গণেশ—         ঠুঁটো করব কেন! এক পদে বেশিদিন থাকলে… তাছাড়া বেওসাটা একেবারেই বোঝে না মাইরি। মা আছে                 মাথার ওপর, বাবা আছে। তলায় তলায় মা-বাবার হেব্বি মিল।
 
[মোবাইলে স্ট্যাটাস দিতে দিতে সরস্বতীর প্রবেশ।]
 
সরস্বতী—        এটা তো এমনি এমনি দিলাম। কেমন লাগছে! উমমম… (ফ্লাইং কিস ছোঁড়ে) আজ আরও দেব… কেমন                  জিরো ফিগার বানিয়েছি… পুরো বলিউড… বাচ্চা থেকে বুড়ো সব হাঁ হয়ে যাবে… তাছাড়া হাঁসের পিঠে                     চড়ে এদিক-ওদিক ঝাড়ি মারতে হবে না! কে কোথায় স্কিপ করে যায়…
২য় অফিসার—   এই যে দেবী সরস্বতী… আপনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিল, কিছু বললেন না!
সরস্বতী—        ধুত! যত সব বেরসিক। এতকাল পড়াশোনা করে পাস করতেই ঘাম ছুটে যেত, আর এখন তো পড়ার                  চাষ ছাড়াই দিব্যি নাম্বার পাচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন পাবেন না। সতু-দা হীরক রাজার দেশেতে                     একবার দেখিয়েছিল, আমার মা তো সত্যি সত্যি করে দেখাল।
৩য় অফিসার—   তাবলে…
সরস্বতী—        ধ্যাত! এই গোনু-দাদা দেখ তো ড্রেসটা কেমন ফিট করেছে? বাই ওয়ান গেট-থ্রি ফ্রি, সেইসঙ্গে পুরো এক                  বছরের ফ্রি-মেইনটেনেন্স। দেখ-না কেমন হয়েছে?
৩য় অফিসার—   আপনি আমাদের কিছু বলুন…
সরস্বতী—        আমাকে বাবা ওসব কিছু বলবেন না। এই বেশ আছি। আপনারা গোনু-দাদাকে হ্যারাস করছেন। আয়-না                  গোনু-দাদা একটা সেলফি তুলি। আপনারাও আসুন-না…
২য় অফিসার—   (গলা ঝাড়া দেয়) বেকার ছেলেমেয়েদের চাকরি দেবার নামে টাকা নয়ছয়…
গণেশ—         কালো ধন! যার আছে দিয়েছে… আমরা কি কেড়ে নিয়েছি?
১ম অফিসার—   কালো ধন! হিসেব দে…
গণেশ—         দেব, কিন্তু মেলাতে পারবি না। সব তো টুকে পাস…
২য় অফিসার—   এতগুলো জায়গায় টাকা কেন?
গণেশ—         এই দেখ! এটাই তো নিয়ম। আমার ইঁদুরটাও সমানে কুটকুট করছে, কখন বলতে কখন সব টাকা কুচো                 করে দেবে তখন!
১ম অফিসার—   আর কোথায় কোথায় টাকা আছে, সত্যি করে বল।
 
[লক্ষ্মীর প্রবেশ।]
 
লক্ষ্মী—          কী হয়েছে রে গোনু-দাদা?
গণেশ—         দেখ-না তখন থেকে ক্যাচরা করছে।
লক্ষ্মী—          তখনই বলেছিলাম বেশি দায়িত্ব নিস-না…
২য় অফিসার—   এই যে লক্ষ্মী দেবী এখন বলুন তো, কোথায় কোথায় টাকা আছে?
লক্ষ্মী—          চপের দোকানে দেখতে পারেন, কৃষ্ণনগর স্টেশনে চপের দোকান আর বিরিয়ানির দোকান পাশাপাশি।                     চল্লিশ টাকায় চিকেন-কিমা বিরিয়ানি। হেব্বি সেল। বাকিটা মা জানে।
৩য় অফিসার—   টাকা তো শেষ পর্যন্ত আপনার জিম্মাতেই আসে।
লক্ষ্মী—          আমার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এখন অন্যের ঘরে ঘরে। এই প্যাঁচা যা, খুঁটে খুঁটে খা।
১ম অফিসার—   সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না দেখছি।
গণেশ—         ওই ওই তখন থেকে তুইতোকারি করছিস যে বড়!
২য় অফিসার—   আবে তোকে তুইতোকারি করবে না তো কি, সিংহাসনে বসিয়ে পুজো করবে?
গণেশ—         রোজ সকালে তো “ওম্ সিদ্ধিদাতা গণেশায় নমঃ” না বলে চোখ খুলিস না। কাল থেকে ডেকে দেখিস                     চোখ গেলে দেব।
১ম অফিসার—   এই নিয়ে চল তো মালটাকে নিয়ে চল।
গণেশ—         নিয়ে যাবি মানে! মজা দেখবি?
 
[অফিসাররা গণেশকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যায়। সাইরেনের শব্দ শোনা যায়, সাইরেনের সঙ্গে মিসাইল যোগ হয়দৃশ্য বদল। দুর্গা, নন্দি, ভৃঙ্গি।]
 
দুর্গা—           ওগো শুনচ? কই গো… ও গোনুর বাপ…
নন্দি—          মা, বাবা তো এখন পাতা টানে না, তাই বেহুঁশ…
ভৃঙ্গি—          ধুমকি ছাড়া তো সাড়া পাবে না।
দুর্গা—           দূর হতভাগা। তোরা আচিসই তো এ জন্যে। আমার হয়েচে যত জ্বালা। চ্যায়রা বেড়ে গিয়ে গ্যাস, অম্বল,                 কোলেস্টোরেজ যত রাজ্যের ব্যামো। আর মিনসেকে দেখো… কোনও হুঁশ নেই…
নন্দি—          মা, তেঁতুল জল খাইয়ে দেকব?
ভৃঙ্গি—          তেঁতুল জলে কী হবে! নেশা করলে তবে তো! দব্যগুণ বলে এগডা কতা আচে না!
দুর্গা—           ওগো বাবা গো। তুমি নিজে চোকে দেকে যাও, কোন মিনসের হাতে আমাকে তুলে দিয়েচ। আমার                     হাড়মাস কালি করে দিলে গা।
ভৃঙ্গি—          এট্টু বোনভিটা খাইয়ে দেকব মা? কেলাবগুলো এমনিতে দেচ্চে…
নন্দি—          একদম ফিরিতে দেবে। যাব মা?
দুর্গা—           আর পিত্তি জ্বালাতি হবে না। পেটেরগুলোর হুঁশ নেই। ভূতো মাতালগুলো ম্যা ম্যা করছে। এই এই নামা                 নামা নামা, পথ পেইরে গেল! আবার কোতায় বলতে কোতায় ন্যে যায়! ওরে ওসব কী যন্তরপাতি আনচে                 রে! কেরেনফেরেন কীসব কইচে, শেষে এই বিদেশবিভুঁইতে আচড়ে মারবে নাকি! ওগো… শুনচ…
ভৃঙ্গি—          বাবা একন যোগনিদ্দায়…
দুর্গা—           সরুটাই বা কোতায় গেল? ওর কাচে নতুন নীলপাড় সাদা শাড়ি আর হাওয়াই চপ্পলটা আচে। এবার                     ম্যাগচাঁইচাঁইটা মেরে দেব।
নন্দি—          ছোট মুকে বড় কতা মা। অপরাদ নিয়ো না মা।
ভৃঙ্গি—          হ্যাঁ মা।
দুর্গা—           আবার ম্যা ম্যা করচিস। যা বলবি বল।
নন্দি—          সরু দিদিমণি ডেটিং না কোতায় যেন…
দুর্গা—           সে আবার কী রে!
 
[নারদের প্রবেশ।]
 
নারদ—         নারায়ণ। নারায়ণ। প্রণাম মা জননী।
দুর্গা—           জয় হোক নেড়ো।
নারদ—         নির্বাচন, নির্বাচন। ফিজিক্যালি সিলেকশন। বিয়ের পর যাতে ঝামেলা না হয়, তাই আগেভাগেই                         মধুচন্দ্রিমা…
দুর্গা—           ও গো মা গো… এসব তুমি কী বলছ নেড়ো!
নারদ—         নারায়ণ। নারায়ণ। আমি কেন বলব মা! একটু চোখ মেলে রাখলে আপনিও দেখতে পাবেন মা                             জগজ্জননী।
 
[মহাদেবের প্রবেশ।]
 
মহাদেব—       এ কী! আমি টলছি কেন? (আতস কাচ নিয়ে) হেঁ হেঁ… অচ্ছে দিন স্বচ্ছে হ্যায়। সব গেল কোথায়! এই                     নন্দে, ভেঙ্গে…
ভৃঙ্গি—          হ্যাঁ পভু।
নন্দি—          এট্টু দেব নাকি পভু?
মহাদেব—       না না… নেশা একদম না। পারো… পারো… একেনে এসো না… বোসো আমার পাশে… (আসনে বসতে                     ইঙ্গিত করে)
দুর্গা—           মরণ! ঢঙ দেখলে গা জ্বলে যায়।
মহাদেবঃ—      আরে বোসোই না পারো…
দুর্গা—           আবগারি ট্যাক্সোর বারো বাজ্যে দ্যে আবার আদিখ্যেতা! বুড়ো বয়সে ভীমরতি!
নারদ—         নারায়ণ। নারায়ণ। বাবা ভোলেনাথ বোর্নভিটা খাচ্ছেন! আরও কত কী দেখাবে প্রভু!
দুর্গা—           বলো দেকি নেড়ো, এ-ও কি মানা যায়!
নারদ—         তা মা জননী, বাবা বলছেন যখন একবার বসুনই-না বাবার পাশে, নয়ন সার্থক করি।
দুর্গা—           যত্ত সব! [প্রস্থান]
মহাদেব—       এখন আবার ছুঁচোবাজি ছাড়ছে কে? কালিপুজোর তো দেরি আছে।
নারদ—         ওগুলো ছুঁচোবাজি নয় মিসাইল…
মহাদেব—       মিসাইল!
নারদ—         মিসাইল মানে মিসাইল বোম। যুদ্ধ লাগল বলে। আমি এখন যাই প্রভু… [প্রস্থান]
মহাদেব—       নেড়োটা সব ঘুলিয়ে দিল। নন্দে এই নন্দে…
নন্দি—          পভু… বুক অবদি শুক্যে গেচে…
মহাদেব—       যাক। ফলমূল খা। পারো… পারো… পারো কোথায় গেলে?
ভৃঙ্গি—          পভু আপনি যকন চোঁক চোঁক করে বোনভিটা টানচেন… মা তকন হেঁ হেঁ…
মহাদেব—       মা তখন হেঁ হেঁ মানে?
ভৃঙ্গি—          না মানে মা তো কেরেনে করে চলে গেলেন…
মহাদেব—       চলে গেলেন! চেনে না জানে না…
ভৃঙ্গি—          না… ঠিক দেকতে পেলাম না, মনে হল অসুর দাদা সঙ্গে গেল…
মহাদেব—       অসুর দাদা সঙ্গে গেল… এই শিগগির চল, শিগগির চল… কী কেলেঙ্কারি কী কেলেঙ্কারি…
 
[দৃশ্য বদল। দুর্গা ও অসুর।]
 
অসুর—         আর কত মারবে তুমি দুগ্গা?
দুর্গা—           ওরে… পাবলিকির ডেমান্ড…
অসুর—         তাবলে সারাজীবন লাঞ্ছনা!
দুর্গা—           গুন্ডাকে তো… যাক তোর সিন্ডিকেটির খপর কী? আর টালাবাবু কেমন আচেন?
অসুর—         সব ঠিক আছে।
দুর্গা—           টালাবাবু, পান্ডেবাবুর ড়্যাসান যেন ঠিকমতন পৌঁচ্যে যায়। কোনও কমপ্ল্যান যেন না পাই। তুই দেক ওরা                 সব ঠিকঠাক নামলে কিনা?
অসুর—         সে ওরা ঠিকই নামবে। এই ফাঁকে আমরা একটু এদিক-ওদিক ঘুরি।
দুর্গা—           ঘুরবি! একন! শিশির পড়ছে, অসুক করবে যে।
অসুর—         করুক অসুখ। কুছ পরোয়া নেই।
দুর্গাঃ            তা যাবিটা কোতায়?
অসুর—         গঙ্গার ধারে। মন্দাকিনী গঙ্গার ফুরফুরে হাওয়া খাব।
দুর্গা—           সামলে-সুমলে চ। একে তো কেরেনে বেঁদে ছেঁচড়্যে নাম্যেচে, বগলে বাগীর মতো ব্যাতা। মেয়েরা কেউ                 এলে এড্ডু মলমটলম লাগ্যে নিতুম। সমানে টাটাচ্চে…
 
[ওরা একটা বেঞ্চে বসে। পুলিশের প্রবেশ।]
 
পুলিশ—         এই এত রাত্রে এখানে কী হচ্ছে? ও বাব্বা! একেবারে জ্যান্ত অসুর।
অসুর—         তোদের কাজকর্ম নেই!
পুলিশ—         মাল দে মাল দে।
দুর্গা—           ওরে কত্তা তো মাল ছেড়্যে দেচে। একন কী হবে?
অসুর—         মাল ছাড়ব মানে!
পুলিশ—         রোকড়া রোকড়া…
অসুর—         রোকড়া…
পুলিশ—         বুঝতে পারছিস না? দে দুজনে মিলে চারশো চারশো আটশো টাকা দে, নইলে থানায় চল।
অসুর—         টাকা তো নেই।
পুলিশ—         পরের বউ নিয়ে ফুর্তি করছ আর টাকা নেই!
অসুর—         মাইরি বলছি।
পুলিশ—         তবে তোর বান্ধবীর নেকলেসটা দে, পাক্কা চব্বিশ ক্যারেট মনে হচ্ছে।
দুর্গা—           ওরে একন কী হবে… তোকে তকনই বলেছিলাম।
অসুর—         থামো তো, আমাকে দেখতে দাও।
 
[সরস্বতী, কার্তিকের প্রবেশ (হাতে গিটার, ধরণ মেয়েলি)।]
 
সরস্বতীঃ—       মা তুমি এখানে! ও… অসুর আঙ্কেলের সঙ্গে! তা ভাল…
দুর্গা—           সরু…
সরস্বতী—        রিল্যাক্স! চাপ নিয়ো না মা। বললাম একবার পার্লারে ঘুরে এসো। আমাকে তো শত্রুই ভাবো।
দুর্গা—           আমার শাড়ির বাসকোটা কোতায়?
সরস্বতী—        ওই যাহ্! সে তো হেলিকপ্টারেই পড়ে আছে। বললাম আমি হাঁসের পিঠেই যাই, না আমার সঙ্গে চ, নালে                 প্রেস্টিজ থাকে না।
দুর্গা—           দেকেচ… একন কী হবে?
সরস্বতী—        আঙ্কেল, তুমি একটু দেখ-না, প্লিজ…
অসুর—         আমি…
সরস্বতী—        প্লিজ প্লিজ প্লিজ… আঙ্কেল… (চুমুর মতো মুখভঙ্গি করে)
 
[অসুরের প্রস্থান।]
 
দুর্গা—           ছি ছি এসব কী সরু!
সরস্বতী—        গুরু কী হ্যান্ডসাম!
দুর্গা—           তাবলে অ্যাঙ্কেলকে এভাবে কেউ…
সরস্বতী—        কুল মাম্মাম কুল! উমমম… মাম্মাম এবারে বাচ্চা থেকে বুড়ো যা ঝাড়ি মারছে না…
দুর্গা—           সরু…
সরস্বতী—        আমার সোনা মাম্মাম। এই ভাল, পড়াশোনার বালাই নেই, শুধু সাজুগুজু, ডায়েট আর ফ্যাশন…                         বিচারকগুলো তো সব এ বলে এখানে যেতে, সে বলে সেখানে যেতে… তোমার পুজোটা কেটে গেলে                     এক বছরেও মেকআপ করতে পারব না… ওহ্ সো-এক্সাইটিং…
 
[কাঁদতে কাঁদতে গণেশের প্রবেশ।]
 
গণেশ—         ও মা… মা গো… কী মার মেরেছে শালা…
দুর্গা—           ও মা… সে কী! কেন! কার শালা!
গণেশ—         কালো ধনের খবর পেয়ে গেছে কোথ থেকে! হাত-পা সব ভেঙে দিয়েছে প্রায়… ও মা… উরি বাবা গো…
দুর্গা—           এই কেতো এট্টু দেকবি? আহা রে আমার গোনু বাবা, ষাট ষাট… ষাট ষাট…
গণেশ—         আমি তো সবসময় মানুষের ভালই চাই। বৃদ্ধি ও সিদ্ধি… তা শালারা আমাকেই এমন মার মারল!
দুর্গা—           এই কেতো… তকন থেকে কী টুংটাং করচিস!
কার্তিক—        মদন-দা গঙ্গায় ভেসে ভেসে গান বেঁধেছে, আমি সামনের জলসায় সেই গান গাব।
দুর্গা—           সে নয় গাবি।
কার্তিক—        গানটা না ব্যাপক। শুনবে একবার?
দুর্গা—           ওসব পরে হবে, একন একটু দেক-না বাবা… এই হারামজাদাটা সমানে জ্বালাচ্চে।
কার্তিক—        না বাবা, ওসব হুজ্জুতের মধ্যে আমি নেই।
দুর্গা—           তোকে এবার সেনাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেব।
কার্তিক—        সে তুমি যা ইচ্ছে করো গে।
 
[লক্ষ্মীর প্রবেশ।]
 
দুর্গা—           এই যে কমলি, কোতায় যাস!
লক্ষ্মী—          কেন মা আমায় তো ছুটি দিয়ে দিয়েছ। আমায় আবার কী দরকার!
দুর্গা—           তাবলে মা’র কাচে আসতে নেই!
লক্ষ্মী—          সংসারের কাজে সময় পাই না। তাছাড়া তোমার জামাইটা… বড্ড অসভ্য! তা কী দরকার বলো…
দুর্গা—           এই দেক-না কেরেনে করে ছেঁচড়্যে নাম্যে বগলে বাগী হয়েচে, এট্টু মলম লাগ্যে দে-না মা।
লক্ষ্মী—          ও! এই জন্যে! আমি ভাবলাম কী-না-কী পুজোর সময়।
দুর্গা—           সে হবে‘খন। চার ভরির এট্টা সীতাহার আচে। তা তোর চ্যায়ারায় এট্টা বাহার দেকচি, কোনও খপর                     আচে নাকি!
লক্ষ্মী—          কী যে বলো! আমাকে একবার পার্লারে যেতে হবে। নিজেকে আপডেট রাখতে হবে তো। পুরুষ মানুষকে                 বিশ্বাস নেই, হুলোর জাত। কখন কৃষ্ণ সেজে কোনদিকে চলে যায়…
 
[মহাদেব ও নারদের প্রবেশ।]
 
নারদ—         নারায়ণ। নারায়ণ। প্রভু মা তো এখানে…
মহাদেব—       পারো… পারো… তুমি এখানে! আর আমি তো খুঁজেই মরি।
দুর্গা—           ওগো তুমি এয়েচ? আমাকে কেরেন দিয়ে ছেঁচড়্যে… দেক-না বাগী হয়েচে। একটু মলমও কেউ লাগ্যে                     দিল না।
নারদ—         মা কমলা তুমি এখানে? ওদিকে প্রভু শ্রীহরি কাদের যেন নিমন্ত্রণ করেছেন। রান্নাবান্নার ব্যাপারে খোঁজ                     করছিলেন।
লক্ষ্মী—          রান্নাবান্না কি কেউ এখন বাড়িতে করে নাকি! সুইগি, জোম্যাটো ওরা সব আছে কী করতে? আমি এখনই                 ফোন করে দিচ্ছি, কতজন আসছেন? তাছাড়া ওদের ব্যবসাটাও তো দেখতে হবে।
পুলিশ—         এই তোমরা সব কে বলো তো?
সরস্বতী—        শরৎকালে তোমরা যাদের পুজো করো আমরা তারাই।
পুলিশ—         তার মানে দুর্গা পরিবার!
দুর্গা—           হ্যাঁ রে পাগল…
সরস্বতী—        এই এসো-না সকলে মিলে একটা সেলফি তুলি…
পুলিশ—         তা আগে বলতে হয়! কী ভাগ্য আমার। মা মা মা গো… (প্রণাম করে)।
 
সমাপ্ত

4 comments:

  1. অনন্য সৃজন 🙏 অনবদ্য একটা সৃষ্টি, প্রতিক্রিয়া লেখার ইচ্ছে রইল 🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. অজয় দেবনাথSeptember 18, 2026 at 11:32 AM

      ধন্যবাদ। লিখে ফেলুন।

      Delete
  2. অনন্য সৃজন ❤️ প্রতিক্রিয়া লেখার ইচ্ছে রইল 🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. অজয় দেবনাথSeptember 18, 2026 at 11:33 AM

      ধন্যবাদ প্রদীপ-দা, লিখে ফেলুন।

      Delete

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)