বাতায়ন/শারদীয়া/অন্য চোখে/৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া
অন্য চোখে
মানালী হোড়
অমরত্ব আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ
প্রকৃত অমরত্ব মানুষের দেহের নয়, কর্মের। একজন মানুষ তার সৎকর্ম, আদর্শ, ভালবাসা এবং মানবকল্যাণের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারে।
অমৃত
কাকে বলে? যেটা সমুদ্রমন্থনের
সময় সমুদ্রের গভীরতম বিন্দু থেকে উঠে এসেছিল নাকি মৃত্যুর পরও মানুষের আবেগে
বেঁচে থাকা! আদি যুগে দেবতা ও অসুরের মধ্যে সমুদ্র মন্থন থেকে শুরু করে আধুনিক
যুগে বার্ধক্যরোধী বিজ্ঞান—সবই মানুষের অমরত্বলাভের আকাঙ্ক্ষার পরিচয়। কিন্তু
আসলে এই অমরত্ব কী? আর এই অমরত্ব যদি কেউ
লাভ করেও ফেলে তাহলে তার শেষ পরিণতি কী?
শ্রীকৃষ্ণ
মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অশ্বত্থামাকে অমরত্বের অভিশাপ দেন। যা অশ্বত্থামাকে
আমৃত্যু এই পৃথিবীর বুকে যন্ত্রণায়, অসহনীয় অবস্থায় জীবন দর্শন করিয়েছে।
অন্যদিকে
হিন্দু পুরাণে বর্ণিত আছে দেবতাদের আশীর্বাদ পেয়ে রামভক্ত হনুমান আজও এই পৃথিবীর
কোন এক অদৃশ্য অংশে বিরাজমান। কিন্তু তার জীবন তো অশ্বত্থামার জীবনের মতো
যন্ত্রণাদায়ক নয়। তবে পার্থক্যটা কী শুধুই অভিশাপ আর আশীর্বাদের। তাহলে অমরত্বের
গুরুত্ব কোথায়?
মানুষের
জীবনের সবচেয়ে বড় ভয় হল মৃত্যু ভয়। আর আমার মনে হয় মনুষ যদি এই ভয়টা জয়
করতে পারে তাহলেই সে অমরত্ব লাভ করবে। কিন্তু এই অমরত্ব লাভ করার মূল্য কী? যদি বেঁচে থেকে নিজের প্রিয়
মানুষদের মরতে দেখতে হয়।
রবীন্দ্রনাথ
লিখেছিলেন, 'মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান।' অতত্রব মৃত্যুকে তিনি ভয় নয়, জীবনের পরিপূর্ণতার অংশ
হিসেবে দেখেছিলেন। কারণ অনন্ত জীবন মানুষকে ক্লান্ত করে দিতে পারে, কিন্তু সীমিত জীবন তাকে
প্রতিটি মুহূর্তকে ভালবাসতে শেখায়।
তাই
প্রকৃত অমরত্ব মানুষের দেহের নয়,
কর্মের।
একজন মানুষ তার সৎকর্ম, আদর্শ, ভালবাসা এবং মানবকল্যাণের
মাধ্যমে মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারে।
তাহলে
এটা বলাই যায় যে অমরত্ব আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ তার সম্পূর্ণ নির্ভর করে অমরত্ব
লাভের পদ্ধতির উপর। যদি দৈহিক মৃত্যু না ঘটা অমরত্বের হয় তাহলে সে অমরত্ব এক সময়
মাথার বোঝাতেও পরিণত হতে পারে। কিন্তু কোন মানুষ যদি নিজের কর্মের দ্বারা সকলের
হৃদয়ে এবং স্মৃতিতে মৃত্যুর পরও আজীবন বেঁচে থাকতে পারে তাহলে তার থেকে বড়
অমরত্ব আর কিছু না।
~~000~~
No comments:
Post a Comment