বাতায়ন/শারদীয়া/হলদে খাম/৪র্থ বর্ষ/১৫তম
সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া
হলদে খাম
অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়
ফুটবল নিয়ে আকাশ বাণী কলকাতার প্রাত্যহিকী বিভাগে পাঠানো
আমার চিঠি
১৯৮৬তে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে আমার সারা জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিদেশি ফুটবলার হয়ে ওঠেন শুধুই মারাদোনা, যার পায়ের জাদু মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখেছি পর পর দুটি বিশ্বকাপের খেলায়।
ভোরের
পাখি প্রাত্যহিকী,
এই
পক্ষের বিষয়টি আমার ভীষন মনোমতো—"ফুটবল—ফুটবল"। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল
আমার দারুণ প্রিয় খেলা। তখন তো এখনকার মতো টিভি, মোবাইল কিছু ছিল না। তাই আমরা বিকেল হলেই মুখিয়ে থাকতাম
কখন খেলতে যাব মাঠে। গ্রামের শেষ প্রান্তের মাঠে গিয়ে সমবয়সি বন্ধুদের সঙ্গে ছোট
বল নিয়ে দৌড়াতাম যাকে বলে দাপিয়ে বেড়াতাম মাঠে। এক সাথে এতগুলো বালকের ছোট
একটা ফুটবল পায়ে মাঠের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে হাফ টাইমের বিরতির সময়টুকু ছাড়া নাগাড়ে
ছোটাছুটি যে সেই বয়সে কী আনন্দের ছিল এখনকার ছেলেমেয়েদের সেকথা বিশ্বাস করানো
যাবে না। স্বামী বিবেকানন্দ তো বলেই গেছেন যে গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা শ্রেয়।
আমরা
যখন হাইস্কুলের ছাত্র তখন প্রায়ই বিভিন্ন গ্রামের বড় বড় মাঠে বড় বড় টিমের
ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখতে যেতাম। দেখতাম তখন ফুটবলের প্রতি অসম্ভব আকর্ষণে মাঠের
চারদিকে কাতারে কাতারে দর্শক। খেলা চলাকালীন তাদের সে কী উৎসাহ উদ্দীপনা! তাদের
নিজেদের দল একটা গোল দিলেই সে কি বাঁধ ভাঙা উল্লাস!
অনেক
সময় রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নেও এমন ফুটবল খেলতাম যে সকালে যে দাদার পাশে
শুয়েছিলাম সে বলত, “রাতে এত পা
চালাচ্ছিলি কেন বিছানায়? আমাকে বার দুই লাথ
মেরেছিস কেন?" তখন বেশ লজ্জা পেয়ে
চুপ থাকতাম নয় স্বপ্নের কথা বলতে হতো।
তবে
সেই সত্তর-আশির
দশকের মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং ইত্যাদি
কলকাতার বিখ্যাত ফুটবল ক্লাবের খেলার ধারাবিবরণী রেডিওতে পুস্পেন সরকার, অজয় বসু, কমল ভটচায বা সুকুমার
সমাজপতির কন্ঠের জাদুতে মোহিত হয়ে শুনতাম আর আমার প্রিয় দল মোহনবাগানের জয়
কামনা করতাম। সেই ছোট্ট বেলায় নাম শুনতাম চুনী, বলরাম,
পিকের
অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্যের। তবে আরও বড় হয়ে মুগ্ধ বিস্ময়ে রেডিও ধারাবিবরণীতে এবং
খেলার আসর বা খেলার কাগজ জার্নালে বা আনন্দবাজার বা যুগান্তর খবর কাগজে আমার
প্রিয় ফুটবলারদের চমকপ্রদ খেলার কথা পড়তাম বা শুনতাম। সেই সময় কলকাতার তথা সারা
দেশের ফুটবল মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রসুন ও প্রশান্ত ব্যানার্জী, গৌতম সরকার, মানস ভট্টাচার্য, সুব্রত ভট্টাচার্য, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, কৃশানু-বিকাশ, শিশির ঘোষ, মহম্মদ হাবিব ও আকবর দুই ভাই, অতনু ভট্টাচার্য, ভাস্কর গাঙ্গুলি, শিবাজী ব্যানার্জী, সুধীর কর্মকার, সুভাষ ভৌমিক, বিদেশ বসু, উলগা নাথন, শ্যাম থাপা, বাবু মানি, মজিদ বাস্কর, জামশেদ নাসিরি, সাব্বির আলি, সমরেশ চৌধুরী ইত্যাদি সব
অসাধারণ ফুটবলার যাদের বেশিরভাগই বাঙালি।
দেশের
মাঠে আয়োজিত নেহেরু কাপ ফুটবল খেলা দেখে (টিভিতে) আমরা প্রথম আন্তর্জাতিক মানের
ফুটবল খেলার হদিস পাই। আমার প্রিয় দল ছিল আপামর বাঙালির মতো পেলের ব্রাজিল।
কিন্তু ১৯৮৬তে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে আমার সারা জীবনের সবচেয়ে
প্রিয় বিদেশি ফুটবলার হয়ে ওঠেন শুধুই মারাদোনা, যার পায়ের জাদু মুগ্ধ
বিস্ময়ে দেখেছি পর পর দুটি বিশ্বকাপের খেলায়। গত বিশ্বকাপের খেলায় লুকা মডরিচ, পেরিসিচ, মান্ডুকিচের অসাধারণ ফুটবল
নৈপুণ্যের পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ হয়েছি ক্রোয়েশিয়ার খেলায়। তবে আমার
প্রত্যাশামাফিক জিনেদিন জিদানের,
পল
পোগবার, পল গ্রিজম্যানের, এমবাপের ফ্রান্স দলের চ্যাম্পিয়ন
হওয়ার আনন্দ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছি।
সবাইকে
আমার প্রভাতী শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি। ভাল থাকবেন সবাই।
No comments:
Post a Comment