বাতায়ন/গল্পাণু/১ম
বর্ষ/৩১তম সংখ্যা/২রা চৈত্র, ১৪৩০
গল্পাণু
অমৃতা ব্রহ্ম
তাসের ঘর
— আচ্ছা, সুপর্ণা যখনতখন কমপক্ষে সত্তরটা করে ওদের বেড়াতে যাবার আর হোটেলে খাবার
ছবি আপলোড করে কেন?
— আরে! বুঝছিস না? ওর
বর কত বড় ব্যবসায়ী, ওরা বেড়াতে গিয়ে ফাইভস্টার হোটেলে ওঠে, সেসব আমাদের মতো
গরিবগুর্বোকে জানাতে হবে না!
বান্ধবীদের এসব
ব্যঙ্গোক্তি বিভিন্ন সূত্রে সুপর্ণার কানে আসে। মধ্য-চল্লিশের সুপর্ণা কাউকে বলে
উঠতে পারে না- স্বামীর অত্যধিক মদ্যপান আর নারীসঙ্গলিপ্সার কথা, ওর তিলে-তিলে
মানসিকভাবে ক্ষয়ে যাবার কথা।
ও বুঝে গেছে, দেখনদারির
দুনিয়ায় ওর প্রতি মুহূর্তের এই মৃত্যুর খবর কেউ রাখবে না, মানুষের অন্তরতম বেদনা
আজ পণ্যমাত্র। সামাজিক মাধ্যমে তাই সুপর্ণা, সুপর্ণারা "আমি ভালো আছি, সুখে
আছি" সারা পৃথিবীকে জানানোর নিরন্তর চেষ্টায় ফেসবুকে তাসের ঘর বানিয়ে চলে।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment