ছোটগল্প
সুভাষিণী
কাজ শেষ, একটা সাদা খামে মাইনেটা দেয় সুভাষিণী। মালতীর হাতে নিয়ে মনে হয় খামটা যেন একটু বেশি ভারী। গুনে দেখে মাইনে বাদে আরো চারটে পাঁচশো টাকার নোট বেশি। 'মাসিমা টাকা বেশি দিয়েছ, তুমি গুনে দাওনি?' 'হ্যাঁ জেনেই দিয়েছি, কাল তো তোর ছেলের জন্মদিন, পাঁচ বছর পূর্ণ হলো। প্রতি বছরের মতো ওই শুকনো ভাত খাওয়াবি ছেলেটাকে? একটু ছোট করে আয়োজন করিস। ভালমন্দ রেঁধে দিস ওকে। আর শোন কাল তোর ছুটি, পরশু কিন্তু একদম টাইমে ঢুকবি, অন্যথা না হয়। কোন অজুহাত শুনব না। আজ যা, বাজার সেরে বাড়ি ফিরতে সময় লাগবে তো।' চোখ ছলছল করে ওঠে মালতীর।
মানুষটার মনটা পড়তে পারেনি এই এক বছরে। শুধু বাইরের রুক্ষতাটা দেখেছে আর মনে মনে কত গালমন্দ করেছে। মনটা মুষড়ে ওঠে, নিজের ওপর রাগ হয়, এত মানুষ দেখে তাও মানুষ চিনল না সে। দূর থেকেই একটা প্রণাম করে মাসিমার ওই দরদী মনটাকে।
না কাজ ছাড়ার কথা আর বলা হল না। মেসোমশাইয়ের মতো মালতীও সুভাষিণীর সংসারে আটকা পড়ে গেল।
সমাপ্ত

সহজ ,গভীর।🙏
ReplyDeleteSotti onobodyo
ReplyDeleteAmi tomar lekhar opekkhai.
Amio banglar student bt lekha hoe othena
Tomar lakhonite inspiration pai hoyto kono ekdin kolom dhorbo.
বেশ হয়েছে।
ReplyDelete