বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/শিল্প-সংস্কৃতি/২য়
বর্ষ/৩য়/বীথি চট্টোপাধ্যায় সংখ্যা/১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
শিল্প-সংস্কৃতি | আলেখ্য
পারমিতা চ্যাটার্জি
পঁচিশে বৈশাখ
নদীটা বয়ে চলেছে অনন্ত কাল ধরে। দু পাড়ে গড়ে উঠছে নিত্যনতুন
মানুষের বৈচিত্র্য। কিন্তু একটি বৈচিত্র্য শুধু থেকে যাচ্ছে অমলিন। তা বদলে যাচ্ছে
না নিত্যনতুন হয়ে ধরা দিচ্ছে প্রতিবছর নতুনভাবে নতুন রূপ নিয়ে। বারবার মিশে যাচ্ছে
মোহনায় আবার তা নতুন করে ধরা দিচ্ছে পঁচিশে বৈশাখ।
হয়তো নতুন করে পাবো বলেই হারাই ক্ষণে ক্ষণ…
হয়তো নতুন করে পাবো বলেই হারাই ক্ষণে ক্ষণ…
আবার ফিরে পাই সেই চির নতুন চির পুরাতন অন্তরের কবিকে "পঁচিশে
বৈশাখ হে নূতন" আমাদের জীবনদর্শন লেখা আছে এই বহতা নদীর মতন কবির গানের প্রতি
কথায়। জীবনকে অনুভব করতে গভীরভাবে চিনতে, দুঃখসুখের মাঝে জীবনকে টেনে নিয়ে যেতে,
মৃত্যু বিচ্ছেদকে জয় করে অনন্ত সৃষ্টির মধ্যে নিজেকে বিলীন করে দিতে শিখিয়ে গেছেন
জীবনের পরমবন্ধু রবীন্দ্রনাথ। যিনি নদী হয়ে বয়ে চলেছেন জীবনের প্রতিদিনের প্রতিটি
গতিপথের মধ্যে দিয়ে।
হয়তো আমরা কর্মজীবনের মাঝে তাঁর সেই অজানা উপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারি না কিন্তু যদি একটু অবসরে গভীর চিন্তায় নিজেকে ডুবিয়ে দিই দেখি কবির গানের কথা বেজে উঠছে কানে, "যারে যায় না পাওয়া তারই হাওয়া লাগল কেন মনে"। এই পংক্তির মধ্যে কী গভীর জীবনতত্ত্ব লুকিয়ে আছে যা তাঁর কলম দিয়ে তিনি শিখিয়ে যেতে চেয়েছেন। যা আছে যতটুকু আছে তা নিয়ে কিছুতেই সুখী হতে পারি না। ছুটে চলি না-পাওয়ার দিকে। হয়তো এই না-পাওয়াকে পেতে গিয়ে যেটুকু ছিল সেটুকুও হারিয়ে যায়, এই সত্যটি তিনি বোঝাতে চেয়েছেন তাঁর গানের মধ্যে দিয়ে, "আমার যা ছিল তা গেল ঘুচে যা নেই তার ঝোঁকে / আমার ফুরায় পুঁজি ভাবিস বুঝি মরি তারি শোকে?" কী অসাধারণ জীবনবোধ দিয়ে গেছেন গানের এই কটা পংক্তির মধ্যে দিয়ে। তাঁর জীবনের প্রেম মিশে গেছে প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক গভীর সংমিশ্রণে। মৃত্যুকে দিয়েছেন মুক্তির রূপ। জাগতিক সুখ-দুঃখের জীবন শেষ করে মানুষ চলেছেন অসীম অনন্তের পারাবারে। এ শুধু রবীন্দ্রনাথই পারেন, আমরা শুধু দেখে যাই তার জীবনদর্শন যা এক নদী হয়ে বয়ে চলেছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। পারি না তার জীবনদর্শনকে অন্তরে গ্রহণ করতে তাঁর বিশ্ব মানবিকতা বোধকে গ্রহণ করতে, তাইতো মানুষে-মানুষে আজও এত ভেদাভেদ। সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে আমার কজন ভাবতে পারি ধর্ম সবার অন্তরে, জাত একটাই, এবং তা হল মানুষ। রক্তের রং সবারই লাল।
তাই আজ রবীন্দ্রজন্মোৎসব পালন শুধুই একটা উত্সবে দাঁড়িয়ে গেছে, "তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি, বুঝতে নারি কখন তুমি দাও যে ফাঁকি।”
ফুলমালা ধূপ দীপের আড়ালে আমরা রবীন্দ্রনাথের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হই। যে আদর্শের জন্য তিনি তাঁর জীবনের শ্রম, অর্থ, এমনকি স্ত্রীর গহনা পর্যন্ত বিক্রি করে গড়ে তোলেন বিশ্বভারতী। তার মূল উদ্দেশ্য একটাই মানুষে মানুষে মেলবন্ধনের সেতু রচনা করা। বিশ্বভারতীর দ্বার তিনি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, সেখানে সব মানুষের প্রবেশাধিকার থাকবে অগাধ, কোন বৈষম্য থাকবে না। এই প্রসঙ্গে কবির একটা গানের উল্লেখ না করে পারলাম না "বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো / সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও।”
হয়তো আমরা কর্মজীবনের মাঝে তাঁর সেই অজানা উপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারি না কিন্তু যদি একটু অবসরে গভীর চিন্তায় নিজেকে ডুবিয়ে দিই দেখি কবির গানের কথা বেজে উঠছে কানে, "যারে যায় না পাওয়া তারই হাওয়া লাগল কেন মনে"। এই পংক্তির মধ্যে কী গভীর জীবনতত্ত্ব লুকিয়ে আছে যা তাঁর কলম দিয়ে তিনি শিখিয়ে যেতে চেয়েছেন। যা আছে যতটুকু আছে তা নিয়ে কিছুতেই সুখী হতে পারি না। ছুটে চলি না-পাওয়ার দিকে। হয়তো এই না-পাওয়াকে পেতে গিয়ে যেটুকু ছিল সেটুকুও হারিয়ে যায়, এই সত্যটি তিনি বোঝাতে চেয়েছেন তাঁর গানের মধ্যে দিয়ে, "আমার যা ছিল তা গেল ঘুচে যা নেই তার ঝোঁকে / আমার ফুরায় পুঁজি ভাবিস বুঝি মরি তারি শোকে?" কী অসাধারণ জীবনবোধ দিয়ে গেছেন গানের এই কটা পংক্তির মধ্যে দিয়ে। তাঁর জীবনের প্রেম মিশে গেছে প্রকৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক গভীর সংমিশ্রণে। মৃত্যুকে দিয়েছেন মুক্তির রূপ। জাগতিক সুখ-দুঃখের জীবন শেষ করে মানুষ চলেছেন অসীম অনন্তের পারাবারে। এ শুধু রবীন্দ্রনাথই পারেন, আমরা শুধু দেখে যাই তার জীবনদর্শন যা এক নদী হয়ে বয়ে চলেছে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। পারি না তার জীবনদর্শনকে অন্তরে গ্রহণ করতে তাঁর বিশ্ব মানবিকতা বোধকে গ্রহণ করতে, তাইতো মানুষে-মানুষে আজও এত ভেদাভেদ। সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে আমার কজন ভাবতে পারি ধর্ম সবার অন্তরে, জাত একটাই, এবং তা হল মানুষ। রক্তের রং সবারই লাল।
তাই আজ রবীন্দ্রজন্মোৎসব পালন শুধুই একটা উত্সবে দাঁড়িয়ে গেছে, "তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি, বুঝতে নারি কখন তুমি দাও যে ফাঁকি।”
ফুলমালা ধূপ দীপের আড়ালে আমরা রবীন্দ্রনাথের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হই। যে আদর্শের জন্য তিনি তাঁর জীবনের শ্রম, অর্থ, এমনকি স্ত্রীর গহনা পর্যন্ত বিক্রি করে গড়ে তোলেন বিশ্বভারতী। তার মূল উদ্দেশ্য একটাই মানুষে মানুষে মেলবন্ধনের সেতু রচনা করা। বিশ্বভারতীর দ্বার তিনি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, সেখানে সব মানুষের প্রবেশাধিকার থাকবে অগাধ, কোন বৈষম্য থাকবে না। এই প্রসঙ্গে কবির একটা গানের উল্লেখ না করে পারলাম না "বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো / সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও।”
সমাপ্ত

অপূর্ব
ReplyDeleteঅপূর্ব! আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা জাননাই।
ReplyDeleteঅপূর্ব! আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা জাননাই।
ReplyDelete