বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/ছোটগল্প/২য়
বর্ষ/৩য়/বীথি চট্টোপাধ্যায় সংখ্যা/১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
ছোটগল্প
প্রদীপ কুমার দে
উদয় নিয়তির বসন্ত প্রেম
একদিন কলেজে অফ পিরিয়ডে
সুরজ সুযোগ করে দিল। নিয়তির সঙ্গে উদয়ের মুলাকাত হয়ে গেল। কলেজের পাঠ যত ভাল লাগে
তারচেয়ে বেশি ভাল লাগে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। প্রক্সি দেওয়া থেকে শুরু করে
ক্যান্টিন, শুধুই মন পড়ে থাকে এক আড্ডায়। কলেজ কামাই করার উপায় নেই সবচেয়ে বড়
ক্ষতি মনের ক্ষতি।
এর সঙ্গে যদি জুড়ে যায়
প্রেম, তাহলে মাথা ঘুরে যায়। কলেজ তখন উঠতি বয়সের কাছে হয় প্রেমের বৃন্দাবন।
উদয়ের কলেজ জীবনে তাই ঘটে
গেল। নিয়তির সাথে প্রেম তার কলেজ প্রাঙ্গণ ছেড়ে বহিঃকাশে পাখা মেলল। প্রেমের প্রথম
পাঠে লাজুকতা, পরে মাদকতায় পরিণত হতে চলল। নিয়তি যেন লাজহীনা। চোখ বড় বড় করে বলল, -
ওরকম করে দেখা তোমাদের ছেলেদের স্বভাব। সোজা করে বলতে সাহস হয় না?
উদয় খানিকটা অপ্রস্তুত,
সে বলল, - আমি দেখছিলাম? আপনি দেখেছিলেন তাই না বুঝলেন?
- আমি?
টলটলে বড় বড় চোখ দুটো যেন গিলে খেতে এল। উদয় ভয় পেয়ে গেল। হারাবার ভয়। যদি রেগে চলে যায়।
হাসার ভান করে বলল - যাক ক্ষমা করে দিন ম্যাডাম।
উদয় জানত না ম্যাডাম যখন ধরেছেন তখন পৃথিবীর কোন দেবতার ক্ষমতা নেই তাকে ছাড়াবার। বহুদিন লুকোচুরি। তারপর সুরজের মাধ্যমে কথা আদানপ্রদান চলতে থাকল উদয় নিয়তির মধ্যে।
উদয় শান্ত। নিয়তি উগ্র। উদয় নিয়তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে। যখনই ডাকে তখনই দৌড়ায়।
উদয় বলে, - সুজয় বলল তুমি ডেকেছ।
নিয়তি - কচি খোকা! নিজে থেকে আসতে পার না?
উদয় কাঁচুমাচু মুখে, - প্রথমে কলেজ, তারপর বাড়ির কাজ।
নিয়তি রেগে বলে, - প্রেম-ট্রেম তোমার দ্বারা হবে না। তাহলে আমাকে ফাঁসালে কেন?
সত্যি উদয় যে নিয়তিকে মনের মধ্যে ধরে রেখেছে, এখন বাজে কথা বলে কী হবে? উদয় নিয়তিকে ফাঁসিয়েছে নাকি নিয়তি ফাঁসিয়েছে? এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলতেই পারে, কিন্তু প্রেম চলল তারই নিয়মে, তারই পরিণতিতে।
উদয় এখন ঘনঘন প্রোগ্রাম করে। মাঠেঘাটে আনাচেকানাচে। সাঁত্রাগাছিতে ঝিলের ধারে। নিয়তির একটা তেজ আছে যা উদয়কে উষ্ণ করে। নিয়তির তেজে উদয় শক্তিমান হয়ে উঠতে চায়। উদয়ের কাছে কলেজ জীবন তার পড়াশোনাকে এড়িয়ে অন্য দিকে মোড় নিল।
উদয়ের বাবা ছিল রেলের হকার। বাপ কষ্ট করে তার উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে ছেলেকে মানুষ করে স্বাবলম্বী করে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু মানুষ চাইলেই তো সব পায় না। তাই উদয় কলেজ জীবনের পাঠ অপেক্ষা প্রেম আড্ডায় নিজেকে মশগুল রাখল। ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমান উদয়ের চিন্তার কোনও কারণই হল না।
- আমি?
টলটলে বড় বড় চোখ দুটো যেন গিলে খেতে এল। উদয় ভয় পেয়ে গেল। হারাবার ভয়। যদি রেগে চলে যায়।
হাসার ভান করে বলল - যাক ক্ষমা করে দিন ম্যাডাম।
উদয় জানত না ম্যাডাম যখন ধরেছেন তখন পৃথিবীর কোন দেবতার ক্ষমতা নেই তাকে ছাড়াবার। বহুদিন লুকোচুরি। তারপর সুরজের মাধ্যমে কথা আদানপ্রদান চলতে থাকল উদয় নিয়তির মধ্যে।
উদয় শান্ত। নিয়তি উগ্র। উদয় নিয়তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে। যখনই ডাকে তখনই দৌড়ায়।
উদয় বলে, - সুজয় বলল তুমি ডেকেছ।
নিয়তি - কচি খোকা! নিজে থেকে আসতে পার না?
উদয় কাঁচুমাচু মুখে, - প্রথমে কলেজ, তারপর বাড়ির কাজ।
নিয়তি রেগে বলে, - প্রেম-ট্রেম তোমার দ্বারা হবে না। তাহলে আমাকে ফাঁসালে কেন?
সত্যি উদয় যে নিয়তিকে মনের মধ্যে ধরে রেখেছে, এখন বাজে কথা বলে কী হবে? উদয় নিয়তিকে ফাঁসিয়েছে নাকি নিয়তি ফাঁসিয়েছে? এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলতেই পারে, কিন্তু প্রেম চলল তারই নিয়মে, তারই পরিণতিতে।
উদয় এখন ঘনঘন প্রোগ্রাম করে। মাঠেঘাটে আনাচেকানাচে। সাঁত্রাগাছিতে ঝিলের ধারে। নিয়তির একটা তেজ আছে যা উদয়কে উষ্ণ করে। নিয়তির তেজে উদয় শক্তিমান হয়ে উঠতে চায়। উদয়ের কাছে কলেজ জীবন তার পড়াশোনাকে এড়িয়ে অন্য দিকে মোড় নিল।
উদয়ের বাবা ছিল রেলের হকার। বাপ কষ্ট করে তার উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে ছেলেকে মানুষ করে স্বাবলম্বী করে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু মানুষ চাইলেই তো সব পায় না। তাই উদয় কলেজ জীবনের পাঠ অপেক্ষা প্রেম আড্ডায় নিজেকে মশগুল রাখল। ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমান উদয়ের চিন্তার কোনও কারণই হল না।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment