বাতায়ন/প্রবন্ধ/২য়
বর্ষ/সৈয়দ হাসমত জালাল সংখ্যা/২১শে বৈশাখ, ১৪৩১
প্রবন্ধ
সুজয় সাহা
অথ বুদ্ধ কথা
গৌতম বুদ্ধ হলেন
বৌদ্ধধর্মের একজন সম্যক তপস্বী ও জ্ঞানী। যার তত্ত্ব অনুযায়ী বৌদ্ধধর্ম প্রবর্তিত
হয়েছিল। তিনি সিদ্ধার্থ গৌতম, শাক্যমুনি বুদ্ধ অথবা বুদ্ধ উপাধি অনুযায়ী
শুধুমাত্র বুদ্ধ নামেও পরিচিত। হিন্দুধর্মে বুদ্ধকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ধ্যানধারণা
পরিলক্ষিত হয়। কিছু কিছু ধর্মগ্ৰন্থ, যেমন পুরাণে বুদ্ধকে অবতার হিসেবে দেখানো
হয়েছে। অন্যান্য ধর্মগ্ৰন্থ
যেমন, বৈষ্ণব কবি জয়দেব রচিত গীতগোবিন্দতে বলা
হয়েছে, প্রাণীহত্যা নিষিদ্ধ করবার জন্য ভগবান শ্রীবিষ্ণু বুদ্ধ হয়ে আবির্ভূত
হয়েছিলেন। বৌদ্ধধর্মকে হিন্দুদের আরেকটি আকার বলে বিবেচনা করতেন। তিনি খ্রিস্টপূর্বাব্দ
৬২৫ অব্দে একদা প্রাচীন ভারতের পূর্বাঞ্চলে জীবিত ছিলেন এবং শিক্ষাদান করেছিলেন।
গৌতম বুদ্ধ ভোগবাসনা চরিতার্থ করন এবং তার অঞ্চল জুড়ে প্রচলিত শ্রমন আন্দোলনের
আদর্শ অনুসারে অনুসারীদের কঠোর তপস্যার মধ্যে মধ্যপন্থা শিক্ষা দিয়েছিলেন।
পরবর্তীকালে তিনি মগধ এবং কোশলসহ পূর্ব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও শিক্ষাদান
করেছিলেন। তিনি মিথ্যাদৃষ্টি, অজ্ঞানতা, তৃষ্ণা, পুনর্জন্ম এবং কষ্ট থেকে মুক্ত
হয়ে পরম সুখ নির্বাণের পথ শিখিয়েছিলেন। বৌদ্ধরা তাকে সেই বোধিপ্রাপ্ত দিব্য
শিক্ষক মনে করে, যিনি সম্পূর্ণ বুদ্ধত্ব করেছেন এবং নিজের অন্তর্দৃষ্টির কথা
সবাইকে জানিয়ে দিয়ে চেতন সত্ত্বাদের পুনর্জন্ম এবং দুঃখের সমাপ্তি ঘটাতে সাহায্য
করেছেন। বৌদ্ধরা বিশ্বাস করেন যে গৌতম বুদ্ধের জীবনকাহিনি, কথোপকথনের বিবরণ, সন্ন্যাস
নিয়মাবলী তাঁর মৃত্যুর পর হতে সঙ্গায়নের মাধ্যমে বুদ্ধের বাণী সংরক্ষণ করে
রাখতেন। ইতিহাসে এইরকম ছয়টি সঙ্গায়নের উল্লেখ রয়েছে। প্রথম সঙ্গায়ন হয়েছিল
বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর রাজা অজাতশত্রুর পৃষ্ঠপোষকতায়। দ্বিতীয়টি রাজা
কালাশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তৃতীয় সঙ্গায়ন সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায়। এভাবে
আগেকার দিনের রাজরাজড়া সঙ্গায়নের বুদ্ধদেবের বাণী সংরক্ষিত করে রাখতেন।
বুদ্ধদেবের বাণী যে পালি গ্ৰন্থে সমাহিত সেটা ত্রিপিটক নামে পরিচিত।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment