বাতায়ন/ছোটগল্প/২য় বর্ষ/সৈয়দ
হাসমত জালাল সংখ্যা/২১শে বৈশাখ, ১৪৩১
ছোটগল্প
দেবশ্রী রায় দে সরকার
কী মহুয়া! কী পলাশ!
হাওড়া স্টেশন থেকে কন্যা দেবত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছে মহুয়া।
প্রায় তিনমাস পর মেয়েকে দেখছে মহুয়া। দেবত্রী দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। মায়ের
সঙ্গে কয়েকটি কথা বলেই টুকটাক করে টেক্সট করছে আর্যেন্দ্রকে। মহুয়া লক্ষ্য করে।
কিন্তু এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কোনটা ভালবাসা
কোনটা বন্ধুত্ব এই নিয়ে যেন
সন্দিহান থাকে মহুয়া। দেবত্রীকে নানা ভাবে জিজ্ঞাসা করে দেখেছে; কিন্তু সব সময়
একটাই উওর পেয়েছে মেয়ের কাছে... সবাই বন্ধু কেউই বিশেষ নয়। মহুয়ার গাড়িটা হঠাৎ
পোস্তার জ্যামে আটকে যায়... রুক্ষ শুষ্ক কলকাতায় হঠাৎ একটা পলাশ গাছ দেখতে
পায়... পোস্তার একটা শুকনো লংকার গোডাউনের পিছনে... আনমনা মহুয়ার
বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে পড়ে আর মনে পড়ে পলাশকে। দেবত্রী এখন দীপ্তেশের সঙ্গে টেক্সট
করছে হোয়াটসঅ্যাপে...।মেয়ের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে... চোখ ফিরিয়ে নেয়। বাড়িতে মায়ের
সঙ্গে ফিরছে এমনই খানকতক ছবি গাড়িতে বসে তুলে আর্যেন্দ্র, দীপ্তেশ, প্রাঞ্জল, রাজেশ,
শঙ্কনা, মিতুলকে পোস্ট করতে থাকে দেবত্রী। জ্যামে আটকেও এতটুকু বিরক্ত নয় মহুয়া… রুক্ষ
শুষ্ক রাস্তায় সে একমনে চেয়ে আছে, পলাশ গাছটার দিকে। পঁচিশ বছর পর আবার মনে পড়ে
বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলি। পলাশের মহুয়াকে ভাল লাগে কেন তা মহুয়া জানত না। বসন্তে
বিশ্ববিদ্যালয়ের
মাটি পড়ে থাকা কৃষ্ণচূড়ার ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছিল মহুয়া, আর অনুভব করছিল, দূর থেকে পলাশ
তাকে লক্ষ্য করছে... মহুয়াকে ক্লাসে ক্যান্টিনে সর্বদা কে যেন লক্ষ্য করে... কিছুদিন
পর মহুয়া বুঝতে পারে, সেও হয়তো কাউকে ভালবাসছে... কিন্তু কাকে? পলাশকে? তবে কেন
কেউ কাউকে কিছু বলতে পারছে না? জ্যাম কাটিয়ে গাড়ি গতি নিয়েছে। দেবত্রী হঠাৎ বলে
ওঠে, "কী ভাবছ মা? আমি কাদের সাথে টেক্সট করছি? মা সবাই তো বন্ধুই...
দুশ্চিন্তা করো-না আমাকে নিয়ে"। মহুয়া উত্তর দেয়, "বসন্তের পলাশ ফুল
দেখেছিস তুই? ভালবাসার পূর্বরাগ কী বুঝিস? কী করেই বা বুঝবি? তোদের তো সব
খোলাখুলি, ইনস্টাগ্রাম ফেসবুকে তোরা সবার সবটা জানিস... আর হোয়াটসঅ্যাপে তোদের
প্রতিমুহূর্তের আপডেট…"। "তুমি আমার উপর রাগ করছ... আচ্ছা ফোন বন্ধ করব,
বাড়ি গিয়ে তোমার সাথে অনেক গল্প করব... আমার বিশেষ বন্ধুর... এবার তো
হাসো।"
না বলা কথা নিয়ে মহুয়া আর পলাশ তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ করে। দুজনেরই প্রিয় বন্ধু ছিল অশোক... কিছুটা হলেও অশোককে দুজনেই দুজনের মনের কথা বলেছিল... অশোক জানিয়েছিল দুজনকেই... কিন্তু শেষমেষ আর অগ্রসর হওয়া গেল না... বসন্তের ফুল মহুয়া পলাশ... চির বসন্তের ভালবাসার পূর্বরাগ নিয়ে থেকে গেল অমলিনভাবে...
বাড়ি ফিরেও আজ আনমনা মহুয়া... ফ্ল্যাটের কমপ্লেক্সের কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া গাছের ফুল মাটিতে পড়ে রয়েছে... কমপ্লেক্সের সুইপার ঝাঁট দিয়ে সেগুলিকে সরিয়ে দিচ্ছে... মহুয়া দৌড়ে নীচে নেমে যায় কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলি রাধাচূড়ার ফুলগুলিকে পরম যত্নে তুলে নিয়ে চলে আসে... মায়ের এই কাণ্ড দেখে মেয়ে অবাক হয়ে যায়... "ঝরে পড়া ফুলগুলো কেন আনলে মা?"
মৃদু হাসে মহুয়া; গুন গুন করে গেয়ে ওঠে... "আজি এ বসন্তে"
না বলা কথা নিয়ে মহুয়া আর পলাশ তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ করে। দুজনেরই প্রিয় বন্ধু ছিল অশোক... কিছুটা হলেও অশোককে দুজনেই দুজনের মনের কথা বলেছিল... অশোক জানিয়েছিল দুজনকেই... কিন্তু শেষমেষ আর অগ্রসর হওয়া গেল না... বসন্তের ফুল মহুয়া পলাশ... চির বসন্তের ভালবাসার পূর্বরাগ নিয়ে থেকে গেল অমলিনভাবে...
বাড়ি ফিরেও আজ আনমনা মহুয়া... ফ্ল্যাটের কমপ্লেক্সের কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া গাছের ফুল মাটিতে পড়ে রয়েছে... কমপ্লেক্সের সুইপার ঝাঁট দিয়ে সেগুলিকে সরিয়ে দিচ্ছে... মহুয়া দৌড়ে নীচে নেমে যায় কৃষ্ণচূড়ার ফুলগুলি রাধাচূড়ার ফুলগুলিকে পরম যত্নে তুলে নিয়ে চলে আসে... মায়ের এই কাণ্ড দেখে মেয়ে অবাক হয়ে যায়... "ঝরে পড়া ফুলগুলো কেন আনলে মা?"
মৃদু হাসে মহুয়া; গুন গুন করে গেয়ে ওঠে... "আজি এ বসন্তে"
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment