বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/প্রবন্ধ/২য় বর্ষ/৩য়/বীথি চট্টোপাধ্যায় সংখ্যা/১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
প্রবন্ধ
সুজয় সাহা
চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
একজন খ্যাতিমান ভারতীয় চিত্রশিল্পী, নন্দনতাত্ত্বিক এবং লেখক। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের প্রপৌত্র এবং মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্র ও
গুনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কনিষ্ঠ পুত্র। সে দিক থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অবন
ঠাকুরের পিতৃব্য।
পিতামহ ও পিতা ছিলেন
অ্যাকাডেমিক নিয়মের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের শিল্পী। এই সুবাদে শৈশবেই চিত্রকলার
আবহে বেড়ে ওঠা অবনীন্দ্রনাথের। ১৮৮১– ৮৯ পর্যন্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যয়ন করেন। ১৮৯৬
সালে কলকাতা আর্ট স্কুলের সহকারী অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই
প্রথম এই মর্যাদা লাভ করেন। ১৯১৩ সালে লন্ডনে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রপ্রদর্শনী
অনুষ্ঠিত হয়, এবং তিনি ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে সিআইই উপাধি লাভ করেন। ১৯৪১– ৪৫
পর্যন্ত শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর আচার্য রূপে দায়িত্ব পালন করেন।
অবনীন্দ্রনাথের চিত্রকলার পাঠ শুরু হয় তৎকালীন আর্ট স্কুলের শিক্ষক ইতালীয়
শিল্পী গিলার্ডির কাছে। তার কাছে অবন শেখেন ড্রয়িং, প্যাস্টেল ও জলরং। ভারতীয়
রীতিতে তার আঁকা প্রথম চিত্রাবলী “কৃষ্ণলীলা” সংক্রান্ত। এই রীতি অনুসারে
চিত্রশিল্পের তিনি নব জন্মদাতা। ১৯০০ সালে কলকাতার আর্ট স্কুলে কৃষ্ণলীলা সিরিজ
প্রদর্শিত হয়েছিল।
তার আঁকা
চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো – ‘বুদ্ধ ও সুজাতা’, কালিদাসের ‘ঋতু সংহার বিষয়ক
চিত্রবিষয়ক চিত্রকলা,’ ‘চতুর্ভুজা ভারতমাতা’, ‘কচ ও দেবযানী ’, ‘শেষযাত্রা’
ইত্যাদি। জাপানি প্রভাবে অবনীন্দ্রনাথ অঙ্কন করেন তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওমর খৈয়াম
চিত্রাবলী। চিত্রসাধনার শেষ পর্যায়ে অবনীন্দ্রনাথের শিল্পচিন্তা নতুন মাত্রা লাভ
করে। গড়ে তোলেন কাটুমকুটুম–এর আকারনিষ্ঠ এক বিমূর্ত রূপসৃষ্টি।
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
প্রকাশিত গ্ৰন্থসংখ্যা আনুমানিক ছাব্বিশ। গল্প, কবিতা, চিঠিপত্র, শিল্প আলোচনা
যাত্রাপালা পুঁথি স্মৃতিকথা সব মিলিয়ে রচনা সংখ্যা প্রায় তিনশো সত্তরটি। পিতৃব্য
রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণায় লেখালেখির সূত্রপাত। বাল্য গ্ৰন্থাবলীর প্রথম ও তৃতীয়
বই শকুন্তলা ও ক্ষীরের পুতুল। চিত্রকলায় ধারাবাহিকতায় লেখালেখির জগতে ও আপন
ঐতিহ্যর অনুরাগী ছিলেন অবন ঠাকুর। তিনি কিছু যাত্রাপালা ও পুঁথি রচনা করেন।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment