বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/গল্পাণু/২য় বর্ষ/৯ম/অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা/১৮ই
শ্রাবণ, ১৪৩১
অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা | গল্পাণু
তপতী রায়
একটি রাত
"কোন অনুমতি না নিয়েই অনুরাগের শুরু হয়ে গেল ভালবাসার খেলা। চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে রইলাম। ওকে উপেক্ষা করে বললাম -খুব কষ্ট করে বড় হয়েছি। তার চেয়ে বড় কথা নিজেকে শ্রদ্ধা করি। আজকের এই আতঙ্কের রাত, বহুদিন আগে ফেলে আসা একটি রাতের কথা মনে করিয়ে দিল।"
ফুলশয্যার কনে
সাজাতে সাজাতে অনুরাগকে উদ্দেশ্য করে মামি শাশুড়ি বললেন, ‘তোর বৌকে কী
বলা যায় বল তো?
সুন্দরী তো বলা যাবে না। চলনসই, তাও বলা যাবে না।
অনুরাগ হাসতে হাসতে বলল, “বেঁটে সুন্দরী!” ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। মালবিকা আঢ় চোখে একটু দেখল। বহুবার
এ কথা শুনেছে। মজা করত, বলত রাগ নেই। তাই দারুণ লাগে ঠাট্টা করতে। সম্পর্ক বড্ড মধুর।
ফুলশয্যার রাত।
দু-চারটে কথার আদানপ্রদান হবার পরই ঘর অন্ধকার হয়ে গেল। কোন অনুমতি না নিয়েই অনুরাগের শুরু হয়ে গেল ভালবাসার খেলা। কিছুক্ষণের জন্য আমি
মালবিকা নীরব। চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে রইলাম। বলল, ‘শরীর খারাপ লাগছে! চকলেট খাবে?’ ওকে উপেক্ষা করে
বললাম -“খুব কষ্ট করে বড় হয়েছি। তার চেয়ে বড় কথা নিজেকে
শ্রদ্ধা করি। আজকের এই আতঙ্কের রাত, বহুদিন
আগে ফেলে আসা একটি রাতের কথা মনে করিয়ে দিল। তারা এসে ছিল পেটের খিদে মেটাতে,
শরীরের নয়।
বহুবছর আগে বাবা তখন নাইজেরিয়ায় কাজ করতেন। একদল টেররিস্ট মাথায় বন্দুক লাগিয়ে
শরীর ছাড়া সব কিছু লুট করে নিয়ে চলে গেল। যাবার সময় দিদির
একটা দামী নাইটিও খুলে নিয়ে গেল। কিন্তু শরীরে একটি আঙুল পর্যন্ত ছোঁওয়ানি। সেদিন ধনরত্ন লুট, আজ শরীর লুট। মনুষ্যত্বের
পরিচয় পত্র। বারবার মনে হচ্ছে আমি কি মানুষ চিনতে ভুল করলাম।
কিছুক্ষণ বাদেই আমার পায়ে মাথা রেখে কেঁদে উঠল। বলল, আমি নিজেই জানি না কী করেছি। বন্ধুরা কী যে খাওয়াল, বুঝে উঠতে পারলাম না। বহুদিনের পরিচিত
তুমি, একটি রাত, একটি ভুল। যদি পারো
ক্ষমা কোরো।
ভোর হয়ে গেল। দক্ষিণের জানলা খুলে দিলাম। মৃদু
বাতাসের সাথে একরাশ ফুলের গন্ধ ভেসে এলো। চাদরের নীচে
অনুরাগের অনুভূতির ছোঁয়া অনুভব করলাম। সব ভুলে গেলাম। দু’হাত
দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম।
একটি রাত। ক্ষণিকের দুর্বলতা। একটি ক্ষমা। গড়ে উঠল নতুন জীবনের নতুন সংসার।
সমাপ্ত
No comments:
Post a Comment