প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Friday, August 2, 2024

বাংলাভাষার ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত মতামত | দেবব্রত রায়

বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/অন্য চোখে/২য় বর্ষ/৯ম/অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা/১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১

অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা | অন্য চোখে

দেবব্রত রায়

 

বাংলাভাষার ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত মতামত


"তাহলে ভারতীয় আর্যভাষার সঙ্গে মধ্যভারতীয় আর্য, তার সঙ্গে গৌড়ী-প্রাকৃত, গৌড়-অপভ্রংশ এবং বঙ্গ-কামরুপি মিলেমিশে তৈরি হলো এই বাংলাভাষা। এরপর বাংলাভাষার সঙ্গে মিশল সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি পর্তুগিজ ইংরেজি বার্মিজ, তামিল, তেলেগু... ইত্যাদি-ইত্যাদি শব্দ।"


গুনিয়া, লেহঁ, দিল, ভণিআঁ, সড়ি, পড়িআঁ, উঠি গেল, আখি বুজিঅ, ধরন ন জাঅ, কহন না জাই,...
এটা কী ভাষা? এটা কি বাংলা ভাষা? হ্যাঁ, এটা বাংলা-ভাষা। একে সান্ধ্যভাষা, প্রত্ন-বাংলা বা আদি-বাংলা বলা হয়। 

ভারতবর্ষ জুড়ে দেবভাষার বন্যা বইলেও, চর্যাপদের যে ভাষা, তা কিন্তু সংস্কৃত ভাষার ঐতিহ্য নিয়ে জন্মায়নি এবং বেড়েও ওঠেনি। বরং তার সঙ্গে অসমিয়া  বাংলা মৈথিলি ভাষার মিল পাওয়া যায়। চর্যাপদের খুব কাছাকাছি যে ভাষাটা পাওয়া যায়, তা হলো, কুড়মালি ভাষা। এই কুড়মালি ভাষা মূলত, কুড়মি মাহাতো সম্প্রদায়ের হলেও, পুরুলিয়া জেলার আড়সা, ঝালদা, জয়পুর বাঘমুণ্ডি এবং ঝাড়খণ্ডের গোপ, মুচি, গড়াই, লোহার, ডোম, ঘাসি, কুমার, জলহা, মুসলিম সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা।

তাহলে ভারতীয় আর্যভাষার সঙ্গে মধ্যভারতীয় আর্য, তার সঙ্গে গৌড়ী-প্রাকৃত, গৌড়-অপভ্রংশ এবং বঙ্গ-কামরুপি মিলেমিশে তৈরি হলো এই বাংলাভাষা। এরপর বাংলাভাষার সঙ্গে মিশল সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি পর্তুগিজ ইংরেজি বার্মিজ, তামিল, তেলেগু... ইত্যাদি-ইত্যাদি শব্দ।

এই তো হলো বাংলাভাষার ইতিহাস। বাংলা কেন, পৃথিবীর কোনও ভাষাই মৌলিক নয়। নানান ভাষার মিশেলে তাদের ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে। আর এভাবেই সব ভাষা ধীরে ধীরে পালটে যেতে থাকে। এখন দেখতে হবে বাংলা ভাষার ঐতিহ্য না, গুরুত্ব বা ব্যবহার কমছে। ঐতিহ্য কোথায় কমেছে! বরং বলা যায় বাংলাভাষা অন্য ভাষাকে আপন করে নিয়েছে এবং তার প্রান্তিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে আপামর মানুষের সামনে। তবে বাংলাভাষার ব্যবহার এবং গুরুত্বের বিষয়ে অবশ্যই আশঙ্কার মেঘ দেখতে পাচ্ছি। (কিছু বিকৃতি তো অবশ্যই ঘটছে) এখানে সরকারি-ভূমিকার প্রয়োজন আছে। বিভিন্ন প্রাইভেট ইস্কুলগুলোতে যাতে অন্যান্য সাবজেক্টের মতোই বাংলা-বিষয়টাও গুরুত্বসহ পড়ানো হয়, আইনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র, রবীন্দ্রনাথ মাইকেল জীবনানন্দ নজরুল সুকান্ত সুনীলই নয়, বাউল গান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, গম্ভীরা, কবিগান, জারিগান, সারিগান, ঘাটু গান, যাত্রা গান, ঝুমুর গান, জাগের গান ভাদু তুসু ঝুমুর... এসবই বাংলার ঐতিহ্য এবং এসব থেকে রবীন্দ্রনাথও সমৃদ্ধ হয়েছেন। জীবনানন্দের সাহিত্যকে একসময় অশ্লীল বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন কি তা মনে হয়?
 

***

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)