বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/ছোটগল্প/২য় বর্ষ/৯ম/অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা/১৮ই
শ্রাবণ, ১৪৩১
অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা | ছোটগল্প
জগন্নাথ মহারাজ
চেনা সেই মানুষ
"প্রিয়া চলে যাওয়ার সময় ব্যালকনি থেকে অবিনাশের নীরব চাহনি। ঝরা ফুল তো ফিরে পাওয়ার নয়। প্রিয়াও বার বার পিছন ফিরে তাকায়। পুরানো স্মৃতি শুধু দংশন করে। মানুষটার প্রতিভাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারিনি শুধু অসম্মানই করে গেছি। ও যে আকাশের মতো উঁচু…"
সকালে উঠে প্রিয়া রাগে গজগজ করে— ঠাকুরকে ফুল দেওয়া, রান্না
করা, তারপর ইস্কুলে ছেলে পড়ানো। আর উনি দেখো নাকে তেল দিয়ে কেমন ঘুমোচ্ছেন। উঠেই
দৈনিক ওনার সাহিত্য সভা। রাস্তার ধারে একটা পানগুমটি করেও তো বসতে পারো। পাগল
মানুষকে নিয়ে সংসার করা যায়!
এভাবেই দৈনিক ঝগড়া অশান্তি। উভয়েই যেন মুক্তি পাওয়ার জন্য
সিদ্ধান্ত নেয় ডিভোর্সের। তারপর নতুন সংসার পেতে প্রিয়া চাকরিতে বদলি নিয়ে চলে
যায় বীরভূম থেকে বর্ধমানে। অবিনাশের বিষয়ে খবর রাখার সময় বা ইচ্ছা কোনটাই হয়তো
তার ছিল না। হঠাৎ দীর্ঘ ২০বছর পর একদিন কলকাতায় কোন এক শপিংমলে কলেজের বান্ধবী
মাধুরীর সাথে দেখা। মাধুরী চিনতে পেরে বুকে জড়িয়ে ধরে প্রিয়াকে। প্রিয়ার কথা
জানতে চায়। প্রিয়া এখন দুই সন্তানের মা, স্বামী প্রফেসর।
— বেশ ভালই আছি রে।
মাধুরী হেসে বলে— মনে পড়ে? আমি কবিতা লিখতাম বলে তোরা পাগলি বলে কত খেপাতিস। জানিস তো মনের মতো একটা পাগলও জুটিয়ে ফেলেছি। তোরা সবাই তার নাম শুনেছিস নিশ্চয়ই অরিন্দম বিশ্বাস?
প্রিয়া বলে— ওমা শুনব না, ওনার কত লেখা গান আমার প্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রে উনিই তো এখন শ্রেষ্ঠ গীতিকার। আমি তো অবাক হয়ে যাচ্ছি ও তোর হাজব্যান্ড! না মজা করছিস রে? হ্যাঁ রে শুনেছি মিডিয়ায় তিনি কোন সাক্ষাৎকার দেন না? অনুষ্ঠান পার্টিতেও যান না, এমনকি নিজের ছবিও তুলতে দেন না। এই রকম অদ্ভুত বিপরীতধর্মী সেলিব্রেটি মানুষটাকে দেখার খুব ইচ্ছে আছে।
— তবে চল না এখান থেকে দু মিনিটের রাস্তা।
যেতে না চাইলেও মাধুরী জোর করে ধরে নিয়ে যায় প্রিয়াকে। দারোয়ান দরজা খোলে। দোতলায় ড্রয়িং রুমে কী যেন লিখছে অরিন্দম। মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল।
মাধুরী বলে— এ আমার কলেজের বান্ধবী, প্রিয়া।
অরিন্দম মুখ ফেরাতেই দুজন দুজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। মাধুরী বিস্মিত হয়ে বলে— তোরা কি দুজন পূর্ব পরিচিত নাকি?
প্রিয়ার মুখ লজ্জায় রক্তিম হয়ে ওঠে। বলে— না না চিনব কী করে!
মাধুরী বলে— তোকে বলতে ভুলেই গেছি ওর আসল নাম অবিনাশ, অরিন্দম ছদ্মনামেই সবাই চেনে ওকে।
— বেশ ভালই আছি রে।
মাধুরী হেসে বলে— মনে পড়ে? আমি কবিতা লিখতাম বলে তোরা পাগলি বলে কত খেপাতিস। জানিস তো মনের মতো একটা পাগলও জুটিয়ে ফেলেছি। তোরা সবাই তার নাম শুনেছিস নিশ্চয়ই অরিন্দম বিশ্বাস?
প্রিয়া বলে— ওমা শুনব না, ওনার কত লেখা গান আমার প্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রে উনিই তো এখন শ্রেষ্ঠ গীতিকার। আমি তো অবাক হয়ে যাচ্ছি ও তোর হাজব্যান্ড! না মজা করছিস রে? হ্যাঁ রে শুনেছি মিডিয়ায় তিনি কোন সাক্ষাৎকার দেন না? অনুষ্ঠান পার্টিতেও যান না, এমনকি নিজের ছবিও তুলতে দেন না। এই রকম অদ্ভুত বিপরীতধর্মী সেলিব্রেটি মানুষটাকে দেখার খুব ইচ্ছে আছে।
— তবে চল না এখান থেকে দু মিনিটের রাস্তা।
যেতে না চাইলেও মাধুরী জোর করে ধরে নিয়ে যায় প্রিয়াকে। দারোয়ান দরজা খোলে। দোতলায় ড্রয়িং রুমে কী যেন লিখছে অরিন্দম। মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল।
মাধুরী বলে— এ আমার কলেজের বান্ধবী, প্রিয়া।
অরিন্দম মুখ ফেরাতেই দুজন দুজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। মাধুরী বিস্মিত হয়ে বলে— তোরা কি দুজন পূর্ব পরিচিত নাকি?
প্রিয়ার মুখ লজ্জায় রক্তিম হয়ে ওঠে। বলে— না না চিনব কী করে!
মাধুরী বলে— তোকে বলতে ভুলেই গেছি ওর আসল নাম অবিনাশ, অরিন্দম ছদ্মনামেই সবাই চেনে ওকে।
প্রিয়া চলে যাওয়ার সময় ব্যালকনি থেকে অবিনাশের নীরব চাহনি। ঝরা
ফুল তো ফিরে পাওয়ার নয়। প্রিয়াও বার বার পিছন ফিরে তাকায়। পুরানো স্মৃতি শুধু
দংশন করে। মানুষটার প্রতিভাকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারিনি শুধু অসম্মানই করে
গেছি। ও
যে আকাশের মতো উঁচু… গুণীই গুণীর সমাদর বোঝে। ধন্য তুই মাধুরী। কিন্তু আমি কি
অন্তর থেকে সত্যিই ভুলতে পেরেছি, না অভিমানে ভোলার চেষ্টা করেছি মাত্র…
***

No comments:
Post a Comment