প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Saturday, August 3, 2024

কবিতাগুচ্ছ | অমিতাভ গুপ্ত | চক্ষুদান


 

বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক/কবিতা/২য় বর্ষ/৯ম/অমিতাভ গুপ্ত সংখ্যা/১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১

কবিতাগুচ্ছ | অমিতাভ গুপ্ত | চক্ষুদান

কবি পরিচিতিসহ

কবিতাগুচ্ছ

অমিতাভ গুপ্ত

চক্ষুদান


সোনালী গ্রহের দিকে চেয়ে থাকি এমন বিকেলে
আমারই প্রাণের মতো কেউ যদি আমাকে আবছাভাবে ভ্রমর ভেঙেছে
অভিকর্ষক্ষেত্র ঘিরে দিয়েছে চাঁপার বেড়া তারপর ভুলে 
গিয়েছে কখনো আমি অন্তর্গত ভ্রুরেখায় ব্রহ্মস্বাদসহোদরোপম 
যখন আঘাত করে যতবার গান গেয়ে উঠি 
কেন গান কেন পল্লীভস্মে শুধু পর্যাপ্ত পথিক লুটোয় 
আমার মায়ের মতো আর কিছু নেই এই ধরিত্রীর ছেঁড়া শাড়ি ম্লান হাসি ছাড়া
বিলুপ্ত শাঁখার ওই কাঁকনে অযুত স্মৃতি নক্ষত্রের মতন নির্ভার
 

সংক্ষিপ্ত কবি-পরিচিতি

অমিতাভ গুপ্ত

জন্ম ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ (১৯ ভাদ্র ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), হুগলি জেলার ব্যান্ডেল শহরে। পিতা বীরেন্দ্রকুমার গুপ্ত। মাতা মাধবী গুপ্ত। স্ত্রী সুভদ্রা গুপ্ত।
 
প্রথম কাব্যগ্রন্থ ১৯৭০ ও এখনও পর্যন্ত শেষ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ২০২৪, শ্রেষ্ঠ কবিতা, নির্বাচিত কবিতা মিলিয়ে মোট ৫০টির ওপরে গ্রন্থ প্রকাশিত।
 
সরকারের শিক্ষা বিভাগের আধিকারিক বাবার বদলির চাকরি ছিল। তাই বাল্যাবস্থায় কবিকে একাধিক ইস্কুলে পড়তে হয়েছিল। তার মধ্যে রয়েছে বীরভূম জেলা স্কুল এবং হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুল। ১৯৬৪ সালে হায়ার সেকেন্ডারি পাশ করে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে ভর্তি হন। স্নাতক হন ১৯৬৭ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এমএ পাশ করেন ১৯৬৯ সালে।
 
ছাত্রাবস্থায় নকশালবাড়ীর রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। কিন্তু স্বপ্নভঙ্গ ঘটেছিল যে দিন এই রাজনীতির সঙ্গে ব্যক্তিহত্যার তত্ত্ব মিলিয়ে দেওয়া হয়। এই ব্যক্তিহত্যার তত্ত্ব যে দিন প্রথম আলোচিত হয়, সে দিনই তিনি, ঘোষিত ভাবে, এই রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেন। তাঁকে বলাও হয়েছিল, ‘কমরেড আপনি যদি আপনার অভিমত না পাল্টান তাহলে আর মিটিংয়ে আসবেন না।
 
দমদমের কুমার আশুতোষ ইনস্টিটিউশন স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি দিয়ে শুরু হয় কর্মজীবন। পরে পড়িয়েছেন বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট স্কুলে। এমএ পরীক্ষার ফল বার হওয়ার পরেই তিনি বজবজে একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন। এরপর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা পাশ করে সরকারি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন দুর্গাপুর গভর্মেন্ট কলেজে। তারপরে মৌলানা আজাদ কলেজ, গোয়েঙ্কা কলেজ, হুগলি মহসিন কলেজ হয়ে ফের মৌলানা কলেজ থেকেই ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর নেবার পরেও তিনি মৌলানা আজাদ কলেজে ইংরেজি এমএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে তুলনামূলক সাহিত্যের স্পেশাল পেপার পড়িয়েছেন।
 
আধুনিক কবিতা যে পথে এগোচ্ছিল তার সঙ্গে তিনি সহমত হতে পারেননি। প্রতিবাদ করেছেন এবং বাংলা কবিতায় ইউরোপমুখিতা, মূলত মডার্নিজ়ম ও পোস্ট মডার্নিজ়ম-এর ধারার বিরুদ্ধে এক নতুন ধারার দর্শন নিয়ে এসেছেন। এই দর্শনকে আমরা চিনি উত্তর আধুনিক চেতনানামে। সেই দর্শনের তিনি অন্যতম পথিকৃত। 
 
৫টি উল্লেখযোগ্য কবিতার বই
আলো 
মাতা ও মৃত্তিকা
খরা ও যমুনা
বিন্দু বিন্দু ধরিত্রী
কালো হরিণ

2 comments:

  1. খুব খুব ভালো লাগলো।

    ReplyDelete
  2. অনবদ্য রচনাশৈলী 👌🙏

    ReplyDelete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)