বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক
সংখ্যা/বরষা/গদ্য/২য় বর্ষ/১৪তম/১৪ই ভাদ্র, ১৪৩১
বরষা | গদ্য
অজয় দেবনাথ
ভরসা
"বৃষ্টিতে কয়েকদিন বাইরে কাপড় শুকোতে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় মা ঘরের মধ্যেই কাপড়চোপড় মেলতে বাধ্য হত। ঘন বর্ষার ক্ষীণ আলোয় সেই মেলে দেওয়া কাপড়ের ফাঁক দিয়ে এ ঘর-ও ঘর খেলা, সঙ্গে মায়ের গায়ের গন্ধ।"
দেখতে দেখতে বেলা পড়ে
এলো, জীবনের বেলা। মনে পড়ে ছোটবেলার কথা, অবিশ্রান্ত ধারাপাত, বৃষ্টির জলে রাস্তাঘাট,
পুকুর নালা ভাসিয়ে বাড়ির চারপাশেও কৃত্রিম পুকুর। নিচু জমি এবং নিকাশি ব্যবস্থা সঠিক
না থাকায় এবং ক্রমাগত রাস্তা উঁচু হওয়ায় বাড়ির পুকুরের জল জমে থাকত কয়েকমাস। সত্যি
পুকুরের মাছ ভেসে এসে থাকত সেখানে। আশপাশের
বিভিন্ন লোক আসত ছিপ, ক্ষেপলা জাল নিয়ে
মাছ ধরতে। কাছের গোয়েল কোম্পানির বয়লারের অনেক উঁচু উঁচু জোড়া চিমনির টানা দেওয়া তারে
সোঁ সোঁ করে আওয়াজে মনে হত যেন সাইক্লোন এসেছে। প্রথম প্রথম ভয় লাগলেও পরে অভ্যাস হয়ে
গিয়েছিল।
বৃষ্টিতে কয়েকদিন বাইরে
কাপড় শুকোতে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় মা ঘরের মধ্যেই কাপড়চোপড় মেলতে বাধ্য হত। ঘন বর্ষার
ক্ষীণ আলোয় সেই মেলে দেওয়া কাপড়ের ফাঁক দিয়ে এ ঘর-ও ঘর খেলা, সঙ্গে মায়ের গায়ের গন্ধ।
মনে পড়লেই মনটা কেমন করে এখনও।
দেখতে দেখতে সব বদলে
গেল। বেলার পরে বেলা বেড়ে গোধূলি অতিক্রান্ত। গোয়েলের চিমনি অনেক অনেক দূর থেকে দেখা
যেত। আর এখন যাদের অনেক দূর থেকে দেখা যায় তাদের নির্মল পরিচ্ছন্ন কাপড়ের ওপর থেকে
যেন মলিনতার ছোপ।
বর্ষা ভরসা দিত একদিন।
সর্বত্রই আজ কলুষতার ছোঁওয়া। মানুষ থেকে প্রকৃতি বিষিয়ে গেছে সব। আজও বর্ষা ভরসা দেয়!
***

আজ বর্ষা নিজেই ভরসাহীন। খুব সুন্দর রচনা। -- পাপিয়া অধিকারী ।
ReplyDeleteআহা।বুকে এসে লাগলো লেখাটা।🙏
ReplyDelete