বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক সংখ্যা/বরষা/সম্পাদকীয়/২য় বর্ষ/১৪তম/১৪ই ভাদ্র,
১৪৩১
বরষা | সম্পাদকীয়
বন্যেরা বনে সুন্দর
"কীসের সাহিত্য, কোথায় সামাজিক দায়বদ্ধতা, যদি সংবেদনশীল মনই না থাকে, তাদের জন্য শুধুই ধিক্কার। মাৎস্যন্যায় কি সমাগত! সবকিছু দেখেশুনে বরষাও বোধহয় ভরসা দিতে পারে না আর!"
পুরনো কথা কিন্তু স্থান-কাল-পাত্র বিশেষে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বন্যরা সভ্যসমাজে স্থান পেলেও তাদের জংলি-বর্বর-পাশবিক-নৃশংস প্রবৃত্তি সম্বরণ করা সম্ভব হয় না। তার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় আরো কিছু বন্যগোষ্ঠী
যারা ক্রমাগত তাদের মাথায় ছাতা ধরে নিশ্চিন্ত আশ্রয় প্রদান করে তবে তো সোনায় সোহাগা। তখন সভ্য মানবগোষ্ঠী নিছকই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। অবশ্য
সভ্য সাধারণ নাগরিক মাত্রেই শুধুমাত্র দাবার বোড়ে, একমাত্র নির্বাচন
প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই তাদের প্রয়োজন অবশ্যই স্বচ্ছ নির্বাচন হলে।
পাশাপাশি
এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবীর কথা না বললেই নয়। সে তিনি কবি-সাহিত্যিক হোন বা নাট্য কিংবা লেন্স মাধ্যমের হোন, অথবা যে-কোনো শিল্পমাধ্যম তথা মসিজীবী হোন-না-কেন, তারা নিশ্চিন্তে ঘরে বসে জল মাপেন। পাছে তাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টান পড়ে, বড় বড় বাণিজ্যিক পত্রপত্রিকা তাদের স্নেহধন্য হাত মাথার ওপর থেকে সরিয়ে নেন, যদি তারা পাদপ্রদীপের আলো থেকে সরে যান। তাদের বিবেকদংশন হয় না কারণ সম্ভবত তারা অকালে বিবেক নামক বস্তুটি নিজহস্তে পিণ্ডদান করেছেন।
আবার এক শ্রেণির সাহিত্যসেবক যারা কলকে পাননি কিন্তু স্ব-ঘোষিত পরিমণ্ডলে চেষ্টার কসুর করেন না, তারা বয়স বা শারীরিক সক্ষমতার পরোয়া না করেই দূরদূরান্তে ছুটে বেড়ান টিনের সস্তা পদকের লোভ এবং গলায় সুদৃশ্য বকলেস সঙ্গে কিছু সেলফি যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে এটা প্রমাণ করতে যৎপরোনাস্তি উদ্গ্রীব তিনি কত বড় মাপের সাহিত্যিক, মরণোত্তর সাহিত্য নোবেল তার অতি অবশ্যই প্রাপ্য!
কীসের সাহিত্য, কোথায় সামাজিক দায়বদ্ধতা, যদি সংবেদনশীল মনই না থাকে, তাদের জন্য শুধুই ধিক্কার।
মাৎস্যন্যায় কি সমাগত! সবকিছু দেখেশুনে বরষাও বোধহয় ভরসা দিতে পারে না আর!
No comments:
Post a Comment