বাতায়ন/ত্রৈসাপ্তাহিক
সংখ্যা/বরষা/হলদে খাম/২য় বর্ষ/১৪তম/১৪ই ভাদ্র, ১৪৩১
বরষা | হলদে খাম | যুগলবন্দি
| চন্দ্রাবলী বন্দ্যোপাধ্যায় ও অজয় দেবনাথ
চন্দ্রাবলী বন্দ্যোপাধ্যায়
মধুকরকে অলি
"সব খারাপের কোনো ঘরবাড়ি থাকে না জানো তো মধুকর! আমারও মন খারাপের কোনো ঠিকানা নেই। সন্ধ্যা হয়ে এল। তার সঙ্গে মিশেছে বৃষ্টির রং। মনের রং কেমন হয় গো! জানো তুমি?"
"কী হয়েছে অলি? কী গো? আমাকে বলবে না! কেন এমন মনখারাপ করে আছ! কী জানো, সব মানুষ যদি তার স্বরূপ প্রকাশ করত, তবে এই দ্বন্দ্ব থাকত না।"
মধুকর,
জানো মধুকর আমার এখানে এখন বর্ষার মরশুম। সারাদিন ধরে ছিল শুধু
দাপুটে বৃষ্টি। বেলা পড়ে এসেছে, বৃষ্টির দাপট অনেকটাই কমে এলেও রেশ এখনও আছে।
ঝিরঝিরে বৃষ্টির সাথে, কিছু খোলা ছাতের জমা জল, আর গাছের পাতার টুপটাপ জল এখনও
ঝরছে। সমস্ত চরাচর গায়ে মেঘের চাদর জড়িয়েছে যেন! শাঁশাঁ শব্দ, যেন কোনো অরণ্যে
আছি যেখানে শুধুই গাছপালা।
তোমার ওখানে বৃষ্টি হয়? মেঘ ভাঙা, বুক ভাঙা?
আমার ভিতরে এখন কালিদাসের মন্দাক্রান্তা জমাট বেঁধেছে। কখনও ঝরছে কখনও বিরহী পরদেশি হয়ে ভেসে যাচ্ছে।
পাড়ার কারোর ঘর থেকে শাঁখ তারপর কাঁসরের শব্দ ভেসে আসছে। এ যে
কীসের আহ্বান কী জানি!
তুমি ভাল থেকো
ইতি—
তোমার অলি
তোমার অলি
বরষা | হলদে খাম | যুগলবন্দি
| অজয় দেবনাথ ও চন্দ্রাবলী বন্দ্যোপাধ্যায়
অজয় দেবনাথ
অলিকে মধুকর
অলি… আমার মিষ্টি অলি…
তুমি আমায় ভাল থাকতে
বলেছ, কিন্তু কী করে ভাল থাকি বলতো! মানুষ অকারণে এত মিথ্যা বলে, যা আমি সহ্য করতে
পারি না। আশ্চর্য হয়ে ভাবি এত মিথ্যা, এত ছলনা! তুমিই বলো এরপরেও ভাল থাকা যায়!
যাইহোক, তোমার বর্ষার
চিঠি পেয়েছি। আমার এখানেও বৃষ্টি হয় মেঘ ভাঙা কিন্তু বুক জোড়া। বৃষ্টিতে দৃষ্টি ভেসে
যেতে দেখছ তুমি কোনদিন? আমি দেখেছি। ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি আসছে, তার আসার তালে তালে
হারিয়ে যাচ্ছে দৃষ্টি। যেন সুন্দরী নর্তকীর উদ্দাম মোহময়ী নৃত্য ভঙ্গিমা। আমি তার সঙ্গে নাচতে-নাচতে…
ভাসতে-ভাসতে… কোন হৃদয়পুরে যে হারিয়ে যাই। সে এসে যেন আমার চোখ খুলে দেয়, যা এতদিন
ছিল আমার দৃষ্টির নাগালের অতীত। আমি, আমি তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না। শুধু এটুকু বলতে
পারি, আমার বুকে যেটুকু ফাঁকফোকর থাকে কল্পনায় তা ভরিয়ে মনের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
মন ভাল রাখতে হয় সখী।
মন ভাল রাখলে, নির্মল রাখলে মনেই ফোটে রামধনু রং। সেখান থেকে যে রং খুশি নিয়ে ছবি আঁকি।
তাই-ই তুমি রহস্য মনে করো।
আসলে যত দ্বন্দ্ব মানুষের
মনে। তুমি নিশ্চয়ই খুব একটা মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে আছ, তাই তোমার চিঠি এমন এলোমেলো,
অগোছালো। সাধারণত এমন তো তুমি নও। কী হয়েছে অলি? কী গো? আমাকে বলবে না! কেন এমন মনখারাপ
করে আছ! কী জানো, সব মানুষ যদি তার স্বরূপ প্রকাশ করত, তবে এই দ্বন্দ্ব থাকত না। মনখারাপের
রং নিজেই চিনতে পারত, জানতে পারত। নিজের মনকে আগে সংকল্পে বাঁধতে হয় অলি, তাহলে আর
মনোবেদনা থাকে না।
ভাল থেকো অলি। কামনা
করি নিজের মনের রং নিজেই চিনে নাও।
ইতি—
তোমার একান্ত মধুকর
তোমার একান্ত মধুকর

ভালো লাগল বৃষ্টিমুখর এই আলাপচারিতা
ReplyDeleteধন্যবাদ আপনাকে।
Delete--জয়িতা বসাক
ReplyDeleteহ্যাঁ জয়িতা বলো।
Deleteদারুণ লাগলো
ReplyDeleteঅনেক ধন্যবাদ সঙ্ঘমিত্রা, খুব ভালো থাকুন।
Deleteমিষ্টি কাব্যকথার আত্মসংলাপ ভালো লাগলো।
ReplyDeleteখুব ভালো লাগল উভয়ের মনোবীণার সুরে বেজে ওঠা যুগলবন্দি।
ReplyDelete