প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Friday, November 8, 2024

শেষ থেকে শুরু [৬ষ্ঠ পর্ব] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/২য় বর্ষ/২০তম সংখ্যা/৩শে কার্ত্তিক, ১৪৩১

ধারাবাহিক উপন্যাস

পারমিতা চ্যাটার্জি

শেষ থেকে শুরু

[৬ষ্ঠ পর্ব]

"সত্যি বউয়ার কোনো আবেগ এলো না, এতদিন পরে তার প্রথম জীবনের ভালবাসাকে চোখের সামনে দেখেও। তবে কী সত্যি সেদিনের বউয়াদা আর আজকের রাহুলের মধ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। না কি প্রতিশোধ নেবার প্রবল ইচ্ছা।"


পূর্বানুবৃত্তি নিজের মনকে নিজেই বলে, বউয়াদা তোমার মনকলি এখন অন্য মানুষ। সে যখন নিজেকে বুঝতে শিখল, জানতে শিখল তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।  বউয়াদার সাথে আবার নতুন করে সংসার?  না এ সে একবারের জন্য ভাবেনি। সে জানে তা আর কোনদিন সম্ভব হবে না। আপনি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তার। তারপর…
 
 
পরের দিন মনকলির প্রথম জয়েনিং। মনে মনে ভীষণ টেনশন। যাই হোক সময় মতন অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে চলে গেল কলেজের দিকে।
 
বলরামপুর কলেজে পৌঁছে প্রথমে তাকে টিচার্সদের কমনরুমে বসতে দেওয়া হয়, একজন ক্লার্ক নির্মল নামে তাকে বলল, এখানে বসুন আপনি ভাইসপ্রিন্সিপাল সাহেব এলে আপনাকে ডেকে নেবো। বসে থাকতে থাকতেই কলেজের লেকচারারদের সাথে পরিচয় হয়ে যায়। ওদের কাছেই জানতে পারে রাহুল স্যার মানে ভাইসপ্রিন্সিপাল সাহেব খুব ভাল মানুষ। তাদের কালচারাল ফাংশনে উপস্থিত থাকেন এবং খুব উত্সাহ দিয়ে থাকেন।
 
মনকলির মনে কেমন একটা খটকা লাগল। যাইহোক দুরুদুরু বুকে ডাকের অপেক্ষায় বসে আছে। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। একটু পরেই নির্মল বলে ছেলেটা এসে তাকে নিয়ে গিয়ে ভাইসপ্রিন্সিপালের রুমের সামনে দিয়ে এসে বলল - যান, আপনাকে ডাকছেন স্যার।
মনকলি ভেজানো দরজা খুলে মুখ নিচু করেই বলল, আসব স্যার?
- হ্যাঁ আসুন বলেই মুখ তুলেই চমকে উঠলেন রাহুল সাউ, তারপরেই নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, বসুন। 
আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারটা দিন।
মনকলিও কম ঘাবড়ে যায়নি, সেও নিজেকে সামলে নিল। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারটা বাড়িয়ে দিতে গিয়ে যেন একটু কেঁপে গেল, রাহুল তার সেই কাঁপুনিটা লক্ষ্য করল কিন্তু মুখে কিছু না বলে হাত বাড়িয়ে চিঠিটা নিল শুধু তারপর নিজের সইসাবুদ যা করার করে বলল নির্মল আপনাকে রুটিন দিয়ে দেবে। আজ প্রথম দিন ওই ক্লাসে পৌঁছে দেবে।
কাঁপা গলায় মনকলি বলল, আমার যে অনেক কথা ছিল।
আমার তো আর কারুর সাথে কোনো কথা নেই। এখানে নতুন কেউ এলে সবসময় একটা ওয়েলকাম সেরিমনি অনুষ্ঠিত হয়, হল ঘরে প্র্যাকটিস চলছে, আপনি ইচ্ছে করলে ওখানেও যেতে পারেন। আমাকে একটু বেরোতে হবে, দু-তিনদিনের জন্য শান্তিনিকেতন যাচ্ছি আমার এক বন্ধুর কাছে। আশা করি আপনার কোনো অসুবিধা হবে না, বলে হাত তুলে নমস্কার জানিয়ে বলল কলেজটাকে আপন করে নিতে হবে, হ্যাঁ ভালবেসে পড়াতে হবে দেখবেন সবাই আপনাকেও কত আপন করে নেবে। লাল মাটির মানুষরা বড় সরল আর সাদাসিধা হয়। বলেই ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন, মনকলি বেরিয়ে আসার সময় শুনতে পেল বউয়াদা বলছে, সুচরিতা, আমি বউয়াদা বলছি, আজই পৌঁছে যাচ্ছি শান্তিনিকেতনে আর রাতের খাবারটা তোমার কাছেই খাব।
আরও কথা বলে যাচ্ছে, ওপাশ থেকেও হয়তো উত্তর আসছে। মনকলি একদম ভেঙে পড়ল, মনে মনে বলল, তুমি এভাবে আমাকে ভুলে গেলে!  এত দূরে সরিয়ে দিলে, আমার কথাটা শুনলও না একবার।
 
সত্যি বউয়ার কোনো আবেগ এলো না, এতদিন পরে তার প্রথম জীবনের ভালবাসাকে চোখের সামনে দেখেও। 
তবে কী সত্যি সেদিনের বউয়াদা আর আজকের রাহুলের মধ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। না কি প্রতিশোধ নেবার প্রবল ইচ্ছা। নিজেকেই প্রশ্ন করে যাচ্ছে রাহুল।
 
গাড়ি হুহু করে এগিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দুধারে সবুজ গাছের সারি, তাল তমালের অরণ্য। তারই রাস্তায় লাল শিমুলে ভরা পাতাবিহীন গাছ, মাঝখানে পলাশ ফুলের লাল রং উঁকি মারছে সবুজ পাতার মাঝে বসে। কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া দুলছে বসন্তের হাওয়ায়, রাহুলের মনটাও দোদুল্যমান এই ভরা বসন্তের আগমনে। সত্যি সে কাকে ভালবাসে? যে তাকে খুব বাজে ভাবে অপমান করে একদিন ফিরিয়ে দিয়ে উচ্ছল জীবনের হাত ধরে এগিয়ে গিয়েছিল। ফিরে তাকায়নি একবার ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়ে ওঠা একজনের মুখের কথা, আর একজন সেও বাল্যসখী নিস্তব্ধে নীরবে তাকে ভালবেসে যাচ্ছে, চেষ্টা করেও পারছে না জীবনের দরজাটা অন্যকারও জন্য খুলে দিতে।
 
হ্যাঁ তার চেহারার ঔজ্জ্বল্যতা হয়তো সন্ধ্যাবেলার নিভু নিভু দীপশিখার মতন। কিন্তু ভালবাসায় ভরপুর, সেই স্নিগ্ধ শান্ত সৌন্দর্য তার চোখের আকুলতাকে বার বার ঠেলে সরিয়ে দিয়ে উচ্ছল ঝর্নার দিকে না এগোনই ভাল। যে ঝর্নার পাথুরে আঘাতে তার মন একদিন ছিন্নবিছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
 
তার এই ভাবনার মাঝেই এসে গেল বর্ধমান। একটু এগিয়ে একটা মিষ্টির দোকানে বসে গরম সিঙারা কচুরি আর ল্যাংচা খেয়ে নিল। কিছু ল্যাংচা সুচরিতার জন্য কিনে নিল। ভালবাসার এই টানাপোড়েনে আজ সুচরিতার স্থান তার জীবনে সত্যি পাকা হয়ে গেছে।
 
 

ক্রমশ…

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)