প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, December 11, 2024

শেষ থেকে শুরু [১০ম পর্ব] | পারমিতা চ্যাটার্জি

বাতায়ন/সাপ্তাহিক/ধারাবাহিক উপন্যাস/২য় বর্ষ/২তম সংখ্যা/১২ই পৌষ, ১৪৩১

ধারাবাহিক উপন্যাস

পারমিতা চ্যাটার্জি

শেষ থেকে শুরু

[১০ম পর্ব]

"এমন সময় বউয়াদা বউয়াদা বলে ডাকতে ডাকতে ভেতরে চলে এলবউয়া ওকে একেবারে ঘরে চলে আসতে দেখে চমকে গেল! সে বিছানায় শুয়ে সিগারেটের সুখটান দিচ্ছিল আর  ভবিষ্যতের স্বপ্নে নিমগ্ন ছিলতার স্বপ্নটায় যেন আচমকা কেউ টান মারল। মনকলিকে দেখে যারপরনাই বিরক্ত হল।"


পূর্বানুবৃত্তি প্রথম দিনেই ঘরে ঢুকে খিচুড়ির সুগন্ধে মন ভরে গেল। মনের মানুষ না থাকলে কী আর মনের মতন রান্না হয়! ঘরে ঢুকেও অবাক হবার পালাতার অগোছালো ঘরটাকে কী নিখুঁতভাবে সুচি গুছিয়ে রেখেছে। খাটের ওপর ওর চেঞ্জ পর্যন্ত বার করে রেখেছে। তারপর...
 
বাথরুম থেকে স্নান সেরে  বেরিয়ে খুব ফ্রেশ লাগছিল রুহুলের। তার মনটা আজ খুব খুশি খুশি লাগছে নিজের সাথে নিজেই কথা বলছ, "সত্যি কী বোকা আমি, এক বুক ভালবাসা নিয়ে যে প্রতিদিন অপেক্ষা করে গেছে রাহুলের মুখ থেকে একটু ভালবাসার কথা শুনবে বলে তাকে বাদ দিয়ে ফালতু যে তাকে এতবড় জঘন্য অপমান করেছে তার জন্য সে বিশ্বের সবার ওপর অভিমান করে বিয়ে না করার এক কঠিন সিদ্ধান্তে এসেছিল। কী সুন্দর মধুর  আবেশ একদিনের মধ্যেই বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে।
 
আরে! ধূপের গন্ধ, ফুলের গন্ধ কোথা থেকে আসছে! হঠাৎ রাহুল পাশের ঘরে গিয়ে  দেখল, সুচরিতা একটা ছোট্ট কাঠের সিংহাসনে কালী মা, লক্ষ্মী গনেশ, শিব, গোপালের ছবি দিয়ে কী সুন্দর সাজিয়েছে। জানলার নীচে একটা বড় খোপ আছে সেখানেই যত্ন করে কী সুন্দর আসন পেতেছে। যতই শিক্ষিত হও মেয়েদের মধ্যে চিরাচরিত পুজোর সংস্কারটা ঠিকই থাকে। ধূপ দিয়ে প্রণাম করে উঠে দাঁড়ায়।
 
রাহুলের মনে পড়ল, রাহুলের মাও খুব গোপালের পুজো করতেন। রাহুলকে জড়িয়ে ধরে একদিন বলছিলেন গোপালের পুজো করে তোর মতন গোপাল ছেলে পেয়েছি।
 
হঠাৎ সুচরিতা চমকে গেল রাহুলকে  ঠিক ওর পেছনেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। রাহুল ওর দুকাঁধ ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে থুতনিটা হাত দিয়ে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করল, তুমি কি এখনই গোপাল চাও?
ধ্যাৎ বলে লজ্জায় সুচরিতা রাহুলের বুকে মুখ লুকাল।
রাহুল আবার ওর মুখটা দুহাত দিয়ে তুলে ধরে বলল, আর পাঁচ-ছদিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি তারপর শান্তিনিকেতন গিয়ে সুতোমার ডেজিগনেশন লেটারটা দিয়ে দিও আর আমার কাছে চলে এসে এখানে ধরে নাও তোমার চাকরি ঠিক হয়ে আছে। বিয়ে হচ্ছে সেই কারণে বদলি নিচ্ছি এ তো হতেই পারে, তারপর তুমি আমার কাছে পাকাপাকি ভাবে চলে আসবে, রাহুল সুচরিতাকে গভীর আলিঙ্গনে আবব্ধ করল। এমন সময় বাইরের দরজায় ধাক্কা পড়লসুচরিতা  দরজা খুলতে গেল। রাহুল আসন্ন ভবিষ্যতের এক সুন্দর মিষ্টি ছবি আঁকতে লাগল
 
আয় আয় বস এখানে। বাইরের ঘর আর খাওয়ার জায়গাটা সুন্দর করে সাজিয়েছিল। সুচরিতা এরমধ্যেই এসে ধুলোভরা কয়েকটি সুন্দর ফুলদানিকে পরিস্কার করে গাছের ফুল তুলে এনে সুন্দর করে সাজিয়েছে। সুচরিতা একদিনে তার শ্রীহীন বাড়িটার সুন্দর শ্রী ফিরিয়ে এনেছে। রাহুল খুব বিরক্ত হল, কে আবার এল এখন, তারা একটু নিজস্ব সময় কাটাচ্ছে এখন আবার ঝামেলা। মনটা তার পরিপূর্ণ লাগছে। এবার সবার মতন সেও সংসারী হবে। আর ছন্নছাড়া হয়ে থাকবে না।
 
এমন সময় বউয়াদা বউয়াদা বলে ডাকতে ডাকতে ভেতরে চলে এল, বউয়া ওকে একেবারে ঘরে চলে আসতে দেখে চমকে গেল! সে বিছানায় শুয়ে সিগারেটের সুখটান দিচ্ছিল আর  ভবিষ্যতের স্বপ্নে নিমগ্ন ছিল, তার স্বপ্নটায় যেন আচমকা কেউ টান মারল। মনকলিকে দেখে যারপরনাই বিরক্ত হল। সুচরিতার দিকে বড় বড় চোখ করে চেয়ে বেরিয়ে যেতে গেল, সুচরিতা ওকে আটকে দিয়ে বলল, যে মনকলি তার বউয়াদার সাথে কথা বলতেই এসেছে।
 
অবাক হয়ে রাহুল বলল, আমার সাথে! আমার সাথে আবার কী কথা?
-কথা থাকতে পারে না? আর সব কিছু বাদ দিলেও আমাদের শৈশবটা বাদ দেবে কী করে? সেখানে আমি কি তোমার সাথে জড়িয়ে নেই?
-হয়তো ছিলে, কিন্তু হঠাৎ এতদিন পর এসব কথা তুলে কী লাভ? সে শৈশব ও যৌবনকে আমার জীবন থেকে মুছে ফেলেছি। এখন আমার শৈশব, যৌবন বলতে একমাত্র সুচরিতা ছাড়া আর কারুর কোন অস্তিত্ব নেই।
-সুচরিতা সংসারী এবং ও চিরকাল তোমাকে একনিষ্ঠ ভাবে ভালবেসে গেছে, সে ভালবাসায় কোন ফাঁক ছিল না—
এই যে দেখ, সুচরিতার ভালবাসায় যে কোন ফাঁক ছিল না তা আমার চেয়ে ভাল আর কেউ জানে না। আমিই সেই পবিত্র ভালবাসার মূল্য না আলেয়ার পেছনে ছুটে নিজেদের জীবন থেকে অনেকগুলো দিন নষ্ট করেছি
-তারজন্য কি আমি দায়ী?
-নাহ্‌, আমি একবারও তা বলিনি, আমারই ভুলের জন্য দুজনের জীবন থেকে অনেকগুলো দিন নষ্ট হয়ে গেল, আর সুচরিতার মাথাটা ধরে নিজের কাছে এনে বলল, আর এই মেয়েটার পবিত্র নির্মল ভালবাসাকে অপমান করেছি। আজ প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ও আমাকে ফিরিয়ে দিত পারত, কিন্তু ও তা পারেনি কারণ ও যে নিজের সবটুকু দিয়ে আমায় ভালবেসেছিল তাই সেই ভালবাসার কাছে ওর অভিমান হেরে গেছে না-রে?
-উফ্ কী হচ্ছে কী! তোমরা থাম তো একটু। মনকলিকে একটু চা মিষ্টি খাওয়াই
মনকলি বলে উঠল, না-রে সুচি আমি কিছু খাবো না।
বউয়া ফিরে এসে মনকলির সামনে দাঁড়িয়ে বলল, প্লিজ, আমার আর সুচরিতার এতদিনের ভালবাসা আজ পরিণতি পেতে চলেছে, একটু মিষ্টি অন্তত খেয়ে যেও।
-আমার মিষ্টি খাওয়া বারণ বউয়াদা, আমি একটু চা-ই খাচ্ছি
 
 
ক্রমশ
 

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)