বাতায়ন/ঝড়/ছোটোগল্প/৩য় বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩২
ঝড় | ছোটোগল্প
শম্পা
ভট্টাচার্য্য
ভিন্ন
মাতৃরূপ
"মায়ের বয়সের সেই মহিলার সন্দেহ হয়, বুঝি ছেলেটি চুরি করে জামায় করে কিছু নিয়ে যাচ্ছে, তিনি বললেন দেখা দেখি কী আছে তোর জামায়।"
আজও সকাল থেকেই প্রখর চৈত্রের চোখরাঙানি, এই তীব্র দাবদাহ আট বছর বয়সের বিকাশের কাছে উপেক্ষিত কারণ গত সন্ধ্যাতে কালবৈশাখীর ঝড়ে হোগলা পাতার বাননো ঘরটি ভেঙে যায়, কুঁড়েঘর হলেও পিতৃহারা ছোটো বিকাশকে নিয়ে সারাদিনের খেটে খাওয়া বিমলা শান্তির দেখা পেত।
ঝড়ে ছেলেকে আগলে রাখতে গিয়ে
ঘর ভেঙে মাকে আঘাত পেতে হয়েছিল, মায়ের সাথে
প্রতিদিনের কাজে যাওয়া শিশুটি আজ একাই কাজের সন্ধানে এদিক-ওদিক ঘুরছিল, কাল যে তার মায়ের বেশ রক্তক্ষরণ হয়েছিল, হতবাক শিশুটিই তত্ত্বাবধায়কের কাজে যুক্ত হয়ে, স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রাথমিক চিকিৎসা পেলেও বর্তমানে
খুবই দুর্বল। তাই, কিছু কাজ পেলে মায়ের
আহার এবং ওষুধের ব্যবস্থা করতে পারবে,
এদিক-ওদিক ঘুরতে
ঘুরতে একটি বড়ো পাঁচিল ঘেরা বাড়ির সামনে আসতেই মাতৃতুল্য এক মহিলার শব্দ শোনা
যায়। এই ছেলে কী চাই? উত্তরে বিকাশের খাবারের চাহিদা জেনে বলল,
কাল
ঝড়ে বাগানে যে গাছ ভেঙে পড়েছে, সেগুলি কেটে বাগান
পরিচ্ছন্ন করে দিলে, খাবার মিলবে।
চোখের জলে অনেক কষ্টে কাজ
করার পর দুটি রুটি পেয়ে খুশি হয়ে বিকাশ বলেছিল, আরও একটু কাজ করে দেবো মা, বিকাশের ছোট্ট দুটি
হাত লাল হয়ে গেলেও মনে আশা ছিল, ভেবেছিল মা বোধহয়
আরো অনেক বেশি কিছু দেবে, কেন-না বিকাশের ধারণা মায়েরা তো এরকমই হয়। আরো কিছুক্ষণ কাজ করার পর বিকাশ বলে, আর পারছি না মা গো,
আমায়
আর কিছু দাও-না। তিনি বললেন, যা দেওয়ার আগেই তো
দিয়েছি।
বিকাশ চোখের জলে দুখানি রুটি
ছেঁড়া জামাতে জড়িয়ে মায়ের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল, মায়ের বয়সের সেই মহিলার সন্দেহ হয়,
বুঝি
ছেলেটি চুরি করে জামায় করে কিছু নিয়ে যাচ্ছে, তিনি বললেন দেখা দেখি কী আছে তোর জামায়। ভয়ে বিকাশ দেখাতে নারাজ হলে, তিনি তাকে খুব আঘাত করেন, বিকাশ জামা ও খাবার
রেখে ছুটে ভাঙা ঘরে নিজের অসুস্থ মায়ের কাছে এসে মাকে ডাকতে থাকে, আর বলে মা আমি কিছুই চুরি করিনি এবং চুরি করা কী তা ছোট্ট বিকাশ বুঝতে না পারলেও বিকাশ
বুঝতে পারে সকল মা একরকম হয় না। মাতৃরূপ ভিন্ন ভিন্ন হয়। মা মা বলে ডাকলেও বিকাশ
আর কোনোদিন মায়ের সাড়া পাবে না।
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment