বাতায়ন/ঝড়/ছোটোগল্প/৩য় বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা
বৈশাখ, ১৪৩২
ঝড় | ছোটোগল্প
প্রবীর
কুমার রথ
ঝড়
হেরে গেছে
"পরিচয় যেন জন্মজন্মান্তরের। খুব মিষ্টি দেখতে দীপ্তা, যেমন ফর্সা তেমনই শরীরখানা যেন কেউ ওকে পাথরে খোদাই করে প্রতিটি খাঁজ নিখুঁতভাবে এঁকে দিয়েছে।"
"দিবান,
দীপ্তাকে
কিছুতেই ভুলতে পারছে না, ওর শুধুই মনে হচ্ছে এই রান্নাঘর থেকে ছুট্টে বেরিয়ে
এসে, বুকে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তারপর
শুরু হবে জলখাবারের প্ল্যান, স্নানে যাওয়া, অফিস এই সব! না এইরকম কিছুই ঘটল না।
দীপ্তা নেই আজ, ১৫ দিন পার হলেও দিবান এটা মানতে পারছে না, কেন এমন হল? এই তো ৪ মাস আগে ওদের
গাঁটছড়া, আর পরিচয় যেন জন্মজন্মান্তরের। খুব মিষ্টি দেখতে
দীপ্তা, যেমন ফর্সা তেমনই শরীরখানা
যেন কেউ
ওকে পাথরে খোদাই করে প্রতিটি খাঁজ
নিখুঁতভাবে এঁকে দিয়েছে। দিবান, বয়স ২৮, বিরাট ব্যবসাই খুব লম্বা ছয় ফুটের ওপর, গায়ের রংও হার মানায় যে কোনো সুন্দরীকে।
কিন্তু কী এমন হল, দীপ্তা চলে গেল কেন!
দীপ্তা, শান্তিনিকেতনের মেয়ে,
সেদিন রাত তখন ১১টা হবে মঙ্গলবার হঠাৎ বাথরুমে লাইট জ্বলতে দেখে দিবান বাথরুমের কাছে এসেও সংকোচবোধে ডাকেনি এসে ও শুয়ে পড়ে। অভ্যেস মতো ৬টায় উঠে দেখে দীপ্তা নেই, প্রতিটি দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ বাথরুমও তাই। দিবান ছুটে যায় বাথরুমের বাইরের দিকটা দেখতে, কী হবে
এয়ারপাস
তো ঘরের, বারান্দার দিকে খোলা। একটু ভাবে, শেষমেশ গাঁটছড়া খুলবে পুলিশ?
মোবাইলে দিবানের
মেসেজ
ঢোকে— হান্ডু খুঁজবে না আমাকে,
আমি এক
মায়ার আবেশ তোমার, তোমাতেই
আছি, কেন গো
আজ তো
আমার ৫০তম জন্মদিন, কী এনেছো...!
কলিংবেল বেজে ওঠে মেয়ে সৌমিশি ঘরে ঢোকে, কত বন্ধু কত আনন্দ। দিবানের
অশ্রু কী পড়ল? না!
-কেঁদো না।
-দীপ্তা, এসো-না ফিরে…
-আমি জানি
না...
উজাড় করে স্ত্রী তাও বলে,
-কেঁদো না…
১৫ দিন নয়, দীপ্তা এক ঝড়ের ভোরে নতুন চাকরিতে যোগ দিতে
যাবার ভোরে স্নান করতে গিয়ে বাথরুমের নীচে গভীর জলের ট্যাংকে
তলিয়ে যায়। ওটা দিবান ভুলবে না। দীপ্তা
এটাই
বলত,
-আমাকে হারালে
কেঁদো না…
সমাপ্ত

No comments:
Post a Comment