প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Friday, April 11, 2025

তটিনীকে আবির | অজয় দেবনাথ ও পাপড়ি চ্যাটার্জি



বাতায়ন/ঝড়/যুগলবন্দি/য় বর্ষ/ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩
ঝড় | যুগলবন্দি | অজয় দেবনাথ ও পাপড়ি চ্যাটার্জি
অজয় দেবনাথ
 
তটিনীকে আবির

"আমার মরণ এলে তোমার পবিত্র তটেই আমাকে আশ্রয় দিও, শেষ আশ্রয়। তটিনী… আমার তটিনী… দিও কিন্তু…"


"আমার পড়ন্ত যৌবনে। গোধূলিবেলার এই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে পারলাম না আমিও।"


"তখন সব পিঠোপিঠি ভাইবোন, বড়োজোর এক-দেড় বছরের ছোটোবড়ো। কী জানি বাবা! তুমি কি আমাকে সেই যুগে নিয়ে যেতে চাও!"

 
স্রোতস্বিনী,
 

তোমাকে চিনি আমি অনেকদিন… আলাপ হলো সেদিন, মনে হয় বুঝি জন্মান্তরের চেনা। যেমন তুমিও চিনতে আমায়। ভাগ্যিস ঠিকানাটা দেওয়া-নেওয়া হয়েছিল নইলে মনের কথাগুলো মনেই থেকে যেত।

 
আমি তোমাতে মুগ্ধ ছিলাম, তোমার রূপ, তোমার মেধা, তোমার রুচিবোধ সব মিলে… কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি। কিন্তু তুমিও যে আমাতে মুগ্ধ তা জানলাম সেদিনই।
 
তুমি জানো না, তোমাকে দেখে দেখে আমার আশ মিটত না যেন। কেবলই নিজেকে আড়ালে রেখে তোমায় দেখতাম। শয়নে-স্বপনে-জাগরণে তুমি, তুমি, শুধু তুমি। কোন কিশোর বয়স থেকে তোমাকে আমার হৃদয়ে মানসপ্রতিমার আসনে বসিয়েছি। মনে হয়েছে তুমি কি মানবী নাকি স্বর্গের কোনও দেবী। আচ্ছা তুমিই কি দেবী সরস্বতী! অথচ দেখো শুধুমাত্র সংকোচে কেউই কারোর কাছে আসতে পারিনি, কত বসন্ত বৃথা গেছে। আমাকে আবার ছেড়ে যেও-না কিন্তু, সহ্য করতে পারব না।
 
তোমার নামটা খুউব সুন্দর, তবু আমাদের চলার পথে বড্ড ভারী। আমি তোমাকে তটিনী বলে ডাকব, শুধু আমার তটিনী। তটিনী আমাদের চলার পথের সব বাধাকে সরিয়ে দেবে তার অধীর আগ্রহের মানুষকে কাছে পেতে, বেঁধে রাখতে কঠিন অনুশাসনে।
 
আমাদের যাপনচিত্র কেমন হবে তা তোমার সঙ্গে কথা বলেই ঠিক করব। না… লেডিস ফার্স্ট, তুমিই বলবে আগে। তবে একটা কথা… আমার মরণ এলে তোমার পবিত্র তটেই আমাকে আশ্রয় দিও, শেষ আশ্রয়। তটিনী… আমার তটিনী… দিও কিন্তু…
 
ইতি—
আবির
 
যুগলবন্দি | অজয় দেবনাথ ও পাপড়ি চ্যাটার্জী
পাপড়ি চ্যাটার্জী
 
আবির,
 
জানি না কেন আপনি এত 'আমাতে' মুগ্ধ। সেই কোন কিশোরীবেলা থেকে নিজের মনের মল্লিকাবনেই আমার অনায়াস যাপন। সেখানে কোনদিন, কারোরই প্রবেশাধিকার ছিল না। সেই মল্লিকাবনেই আমি অলস দুপুর কিংবা রজনিগন্ধা নিশিযাপন করেছি, আপন মনে আমায় থাকতে দে না-র সুরে সুরে... কিন্তু বার বার আপনার অসীম ধৈর্যের প্রলেপমাখা আমন্ত্রণ আমায় বিচলিত করেছে। বিস্মিতও কিছু কম করেনি। কেন আমার মতো অতি সাধারণ, একলা যাপনে অভ্যস্ত, অনাকর্ষণীয়, আপনাদের আধুনিক উচ্চারণে তথাকথিত বোরিং এই মেয়েটিকে  আপনার পছন্দ হলো বুঝলাম না। তবে যেমন সব অলস দুপুরে একলা ঘুঘুর ডাক থাকে না, কোকিলের 'মন হারানো' সুরও থাকে... সব বৈশাখের সন্ধেগুলো প্রখর তাপপ্রবাহ দিয়ে শেষ হয় না, কালবৈশাখী দেখা দেয় একদিন-ক্ষকালের প্রচণ্ড তান্ডবে সব রুক্ষতা, দৈন্যতা উড়িয়ে দেয় এক নিমেষে; তেমনি আপনি এলেন আমার পড়ন্ত যৌবনে। গোধূলিবেলার এই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে পারলাম না আমিও।
 
সময়ের কাছে শুধু একটাই অনুরোধ, খরস্রোতা হয়ো-না, ধীরে ধীরে বয়ে চলো... আমার গোধূলিবেলার রক্তিম আবিরকে গ্রহণ করতে দাও আমার ললাটলিখনে... "আমায় গাইতে দাও আমার অঙ্গে অঙ্গে কে বাজায় বাঁশি..."
 
স্রোতস্বিনী
 
 
যুগলবন্দি | অজয় দেবনাথ ও পাপড়ি চ্যাটার্জী
অজয় দেবনাথ
 
স্রোতস্বিনী,
 
তোমার চিঠি পেয়ে কী যে ভালো লেগেছে তোমাকে বোঝাতে পারব না কিন্তু তুমি যোগাযোগ রাখতে চাও না পরিষ্কার বললেই পারতে। মনে হচ্ছে আমরা কয়েকশো বছর পিছিয়ে গেছি।
 
শুনেছি আমার এক দিদিমার জ্যাঠাইমার যুগে স্ত্রীরা স্বামীর সামনে ঘোমটা খুলত না, আপনি-আজ্ঞে করে কথা বলত, অথচ তখন সব পিঠোপিঠি ভাইবোন, বড়োজোর এক-দেড় বছরের ছোটোবড়ো। কী জানি বাবা! তুমি কি আমাকে সেই যুগে নিয়ে যেতে চাও! একদিকে বলছ তোমার রক্তিম আবিরকে গ্রহণ করতে দাও, আবার… বুঝলাম না। সত্যিই বুঝলাম না।
 
আর একটা কথা, যখন তুমিও আমাতে মুগ্ধ ছিলে তখন তোমার নব্য কিংবা ফুটন্ত যৌবনে আমার কাছে আসতে কেউ নিষেধ করেছিল? সব দায়িত্ব কি পুরুষের?
 
তোমার অপেক্ষাতেই…
আবির



4 comments:

  1. বেশ ভালো লাগলো। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় রইলাম।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অজয় দেবনাথMay 5, 2025 at 8:28 AM

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই দীপ। ভালো থাকিস বন্ধু।

      Delete
  2. সালাউদ্দিনMay 5, 2025 at 10:53 AM

    বাঃ স্যার দারুণ, দারুণ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অজয় দেবনাথMay 6, 2025 at 6:21 AM

      ধন্যবাদ স্যার, ভালো থাকবেন।

      Delete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)