প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, April 9, 2025

রক্ষাকবচ [১ম পর্ব] | অর্পিতা চক্রবর্তী

বাতায়ন/ঝড়/ধারাবাহিক গল্প/য় বর্ষ/ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩
ঝড় | ধারাবাহিক গল্প
অর্পিতা চক্রবর্তী
 
রক্ষাকবচ
[১ম পর্ব]

"সুমি গাড়িতে বসে বিদ্যুতের আলোয় স্পষ্ট দেখল কেউ যেন ওকে হাত নেড়ে ডাকছে। কিন্তু এত রাতে কে ওখানেদোলাচলের মাঝে ও কখন যেন গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেছে। বেশ কিছুটা রাস্তা আসার পর ও পথ হারিয়ে ফেলে।"


ঝড় শুধু প্রকৃতির রুদ্র রূপ নয়, কখনও কখনও ঝড় আসে জীবনে। সেদিনের সেই কালবৈশাখী সবকিছু তছনছ করে দিয়েছিল। সব ঠিকঠাকই ছিল। প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ে, ওই যাকে বলে একটা সুন্দর পরিণতি। মাত্র বাইশ মাসের সংসার ওদের। সামনেই বিবাহবার্ষিকী। কত পরিকল্পনা। পাহাড় না সমুদ্র এই নিয়ে প্রায় রোজ আলোচনা চলত। দুজনেই কর্মরত। সারাদিন অফিস, দিনশেষে একে অপরের কাছে আসা। দুই পরিবারও খুব খুশি। সন্তান ভালো থাকলে মা-বাবার আর কী চাই? কখনো সুমির মা-বাবা তো কখনও অরিন্দমের মা-বাবা, পালা করে কলকাতা দুর্গাপুর করছে।


সেদিন অফিস ট্যুরের প্যাকিং করছিল সুমি, অরিন্দমের অবশ্য একটু মুড অফ। এই প্রথম মানে বিয়ের পর ওরা আলাদা আলাদা যাচ্ছে। সুমি যাচ্ছে ঝাড়খণ্ড আর অরিন্দম মধ্যপ্রদেশ। কদিন আগে পরে ওরা দুজনেই রওনা দিল। দুজনার কথাবার্তা চলছে মুঠোফোনে। সেদিন হঠাৎ আকাশ কালো করে একটা ভয়ংকর ঝড় উঠেছিল।
ম্যাডাম আর এগোনো যাবে না। গাড়ি সাইড করছি। রাস্তার দুপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢাকা।
কথাগুলো শেষ করেই ড্রাইভার বিনোদ বলল,
-খুব ফেঁসে গেলাম ম্যাডাম। আকাশের যা পরিস্থিতি তাতে করে আজ আপনাকে হোটেলে পৌঁছে বাড়ি ফিরতে ফিরতে আমার মনে হয় ভোর হয়ে যাবে।
সুমি বলল,
-আসলে মিটিংটা শেষ হতে হতে খুব রাত হয়ে গেল। তুমি চিন্তা কোরো না। আমি হোটেলে পৌঁছে তোমার আজ রাতে থাকার একটা ব্যবস্থা করব। আমার কাছে খাবারের পার্সেল আছে। চলো আমরা ভাগ-বাটোয়ারা করে খাই।
খাবার প্রস্তুতি সবে শুরু হচ্ছিল। যদিও এই অবস্থায় খাওয়া একটু দুরূহ ব্যাপার কিন্তু খিদে তো খিদেই। হঠাৎ একটা বিদ্যুতের ঝলকানিতে দেখা গেল ওদের ডানপাশে একটা লম্বা রাস্তা চলে গেছে। আর দূর থেকে একটা মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এই ঝড়ের রাতে কে ঘন্টা বাজাচ্ছে?
বিনোদ বলল,
-আপনি একটু বসুন আমি এক্ষুনি আসছি। গাড়ি থেকে নামবেন না কিন্তু আমি এই গেলাম আর এই এলাম।
সুমি গাড়িতে বসে বিদ্যুতের আলোয় স্পষ্ট দেখল কেউ যেন ওকে হাত নেড়ে ডাকছে। কিন্তু এত রাতে কে ওখানে? দোলাচলের মাঝে ও কখন যেন গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেছে। বেশ কিছুটা রাস্তা আসার পর ও পথ হারিয়ে ফেলে। তখনও বৃষ্টি পড়ছে তবে ঝড়ের বেগটা একটু কমেছে। সামনেই একটা মন্দির, ধুনি জ্বলছে। একজন মহিলা বসে বসে কী সব বিড়বিড় করছে। সুমি ধপাস করে বসে পড়ল ওই মহিলার সামনে। মহিলা বলল,
-আয়, এসেছিস, আমি তো তোর অপেক্ষায় বসে আছি। এখন থেকে আমি যা বলব তুই তাই করবি। আজ থেকে তুই আমার হয়ে কাজ করবি। কি করবি তো? করতে তো তোকে হবেই।
সুমি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় বলল,
-করব। বলুন কী করতে হবে?
বিনোদ ফিরে এসে দেখল গাড়ি ফাঁকা। ম্যাডাম নেই। ও বেচারি ওর ম্যাডামকে অনেক খুঁজল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর কোন পথ না পেয়ে ও সেখানে রিপোর্ট করল যেখান থেকে ও সুমিকে পিকআপ করেছিল।
এই ঘটনার পর কেটে গেছে প্রায় একমাস। সুমি নিরুদ্দেশ। অরিন্দম থেকে শুরু করে প্রত্যেকে যার যার মতো করে ওর খোঁজ করে চলেছে। পুলিশ নেমে পড়েছে তদন্তে। যে এলাকায় সুমি নিখোঁজ হয়েছিল সেখান থেকে অনেকগুলো চুরির রিপোর্ট জমা পড়েছে থানায়। তবে এ চুরি সে চুরি না। মানুষ চুরি হচ্ছিল সেখানে। ছোটো ছোটো বাচ্চা, যুবতী মেয়ে বৌ এসব চুরি।
ক্রমশ…
 

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)